kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতারক স্বামীর সঙ্গে থাকার উপায় বলছেন কেটি প্রাইস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৩১



প্রতারক স্বামীর সঙ্গে থাকার উপায় বলছেন কেটি প্রাইস

ইংলিশ টেলিভিশন পারসোনালিটি এবং ফ্যাশন মডেল কেটি প্রাইস। তিনি পরিশ্রমী, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের নখের মতোই কঠিন।

তিনি লেখিকাও হয়ে উঠেছেন। নতুন বই 'রবির্ন' কেন্দ্র করে একটি সাক্ষাৎকার নিতে যান রাধিকা সাংঘানি। সেখানে নিজের জীবনের গল্প বলেছেন। জানিয়েছে তার তৃতীয় স্বামী কিয়েরান হেইলার কিভাবে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। স্বামী কিভাবে তারই কাছের বান্ধবীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান।

ওই ঘটনার আড়াই বছর পর কেটির উপলব্ধি হলো, ওই মেয়েটা পুরোপুরি...। বলেন, আমি আশা করি সে যেনো মারা যায়। আমি তাকে ঘৃণা করি। এ ঘটনার পর সে এমনকি দুঃখ প্রকাশও করেনি। সে আমার সত্যিকার কাছের বন্ধু ছিল না। অথচ তার জন্য সবই করেছি।

এর পরও স্বামীর সঙ্গে থাকতে রাজি ছিলেন কেটি। তার স্বামী একজন বডি বিল্ডার এবং স্ট্রিপার। যৌনতার প্রতি দারুণ আকর্ষণ তার। যদি তার যৌন আসক্তির কথা জানতাম তাহলে তাকে বিয়ে করতাম না। আমি তাকে কখনো থেরাপি নিতে চাপ দেইনি। তার সঙ্গে আমার জীবনটা কেটে যাচ্ছিলো।

এতো ক্ষোভের পরও ৩৮ বছর বয়সী এই পেজ ৩ মডেল তার স্বামীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি আসলে দোষারোপ করেন তার বান্ধবী জেনকে। কেটির মতে, ওরা দুজনই ভুল করেছে। কিন্তু তারপরও ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার স্বামী।

হেইলারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গর্বিত বোধ করেন। অবশ্য কয়েক বার স্বামী তার দোষ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছে। এমন অনেক নারী আছেন যারা একই সমস্যা পড়ে রয়েছেন। তবে এমন ঘটনার পরও স্বামীর সঙ্গে থেকে যাওয়ার জন্য শক্ত ব্যক্তিত্বের নারী প্রয়োজন। অন্য নারীদের কাছে প্রাইসের এটাই মূল পরামর্শ।

বলতে থাকেন কেটি, নারীরা পুরুষের সমান। বরং অনেক দিক থেকে নারীরা পুরুষের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে। আমার মনে হয় নারীরা একযোগে অন্তত ৫টি কাজ করতে পারে। কিন্তু পুরুষরা কেবল একটি কাজই পারে। জেনেটিকভাবে নারীরা তেমন হোক না নাই হোক, কেটি নিজেই একজন সফল নারী।

কর্মজীবনের প্রথম দিকেই জর্ডানের ফ্যাশন মডেল সিহাবে নাম লিখিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। এখনো পুরুষদের পত্রিকার জন্য নগ্ন পোজ দিতে রাজি তিনি। একে নারীর ক্ষমতায়ন মনে করেন বা নাই করেন, তিনি একে কাজ হিসাবেই নেন। এর প্রতি কোনো আবেগ নেই।

বলেন, এটা আমার ইচ্ছা। আমি অনেক কিছুকে মানুষের কাছে তুলে ধরি। আমি প্রদর্শন করি। আমি সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাই। আপনি জানেন না এর পর কি ঘটবে। তার এই আবেদনময়ী ইমেজ থাকলেও তিনি কখনোই অন্য পুরুষের সঙ্গে বিছানায় যান না। মদ্যপ অবস্থায় আমি কখনো সেক্স করি না। আমি এটা ঘৃণা করি। তখন সবই অসুস্থ মনে হয়। আমি খবরের শিরোনাম হতে এসব করি না।

তার নতুন বইটি জীবনের বিস্তারিত তুলে ধরেছে। জীবনের খুঁটিনাটি সবকিছুই ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করেন কেটি। তিনি সব বিষয়ে স্বচ্ছ এবং সৎ। জানান, ঠোঁট ও স্তন উন্নত করতে আমি বোটক্স ব্যবহার করি। কিন্তু সবাই ভেবেছে সার্জারি করেছি। এখন তিনি তার দেহ নিয়ে তুষ্ট। একান্ত প্রয়োজন না হলে আমি সার্জারি করবো না।

নিজের ৯ বছরের কন্যাটিকে তার পেশায় আনতে চান না। আসলে তিনি যা করেন তার ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছু নেই বলেই মনে করেন কেটি। তা ছাড়া কন্যা যে এ পথে আসতে পারে সে বিষয়ে চিন্তাও নেই তার। যদিও তার মেলে প্রিন্সের তার ছবি দিয়ে সমালোচিত হয়েছে। বড়দের মতো মেকআপ দিয়ে বেশ আবেদনময়ী পোজে ছবি দেয় সে।

এ প্রসঙ্গে প্রাইস জানান, সব ছোট মেয়েই মেকআপ করতে পছন্দ করে। আমার মতোই সাজতে চায় সে। তার একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। তাতে কি হয়েছে? সে তার নিজের মেকআপ করতে দক্ষ হয়ে উঠছে।

কেটি বিভিন্ন ঘরের ৫ ছেলে-মেয়ে। এরা সবাই ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে। তারা কি মায়ের মতোই বিখ্যাত হয়ে উঠতে চাইবে? হ্যাঁ চাইবে, জানান কেটি। তারা এটা পছন্দ করে। তারা যা চায় তাই করবে। তারা কি করছে তার হয়তো সব সময় দেখতে পারবো না আমি।

স্বামীর সঙ্গে এই ঝামেলার পরও আবারো তাকে নিয়েই সামনে যেতে চান কেটি। বললেন, আমার আসলে সব স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। আমার এখন কোনো লক্ষ্য নেই। আমি কেবল আমার হারানো সাম্রাজ্য ফেরত পেতে চাই, যেটা আমার ছিল। কয়েক বছর বাজে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু কেটির সাম্রাজ্য আবারো মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য