kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাঞ্জেলিনা জুটির বিচ্ছেদ : বিয়ে বিচ্ছেদ বিষয়ে কী বলছে সমাজবিজ্ঞান?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৫২



ব্রাঞ্জেলিনা জুটির বিচ্ছেদ : বিয়ে বিচ্ছেদ বিষয়ে কী বলছে সমাজবিজ্ঞান?

বলিউড অভিনেত্রী ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ভক্তদের মধ্যে গত মঙ্গলবার কান্নার রোল পড়ে যায়। কারণ সে দিনই এই মহাতারকা জুটির বিয়ে বিচ্ছেদের সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর খবর মতে, তালাকনামায় জোলি পিট বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে কারণ হিসেবে 'পুনর্মিলন অসম্ভভ করে তুলেছে এমন ভিন্নতা'র উল্লেখ করেছেন। এই অস্পষ্ট টার্মের বিপরীতে যেকোনো ধরনের এবং যেকোনো সংখ্যক কারণই উল্লেখ করা যেতে পারে।

ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার ও ভোক্তা অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিকোলাস ওলফইঙ্গার বলেছেন, "বেশির ভাগ বিয়ে বিচ্ছেদেরই প্রধান এবং সচরাচর কারণ হলো যোগাযোগ দক্ষতায় ভিন্নতা। "

লাইভ সায়েন্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলফইঙ্গার বলেন, "পারস্পরিক যোগাযোগের সমস্যা বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। "

উদাহরণত, নারীরা হয়তো তাদের আবেগগত চাহিদাগুলোর বিষয়ে সঠিকভাবে যোগাযোগ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। অথবা পুরুষরা হয়তে তাদের আবেগগত চাহিদাগুলো মনোযোগ দিয়ে নাও শুনতে পারেন। এমনকি প্রকৃতপক্ষে, নারীরা যখন বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করেন তখন তাদের স্বামীদেরকে বেশির ভাগ সময়ই বলতে শোনা যায় ঠিক কী ঘটেছে তারা তা জানেন না। বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশ সময়েই প্রথম পদক্ষেপটি নারীদেরকে গ্রহণ করতে দেখা যায়।

এর আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেখা গেছে, জোলি এবং পিট তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদনের পেছনে কারণ হিসেবে সন্তান লালন-পালনে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কথা উল্লেখ করেছেন। পিট ও জোলির ছয়টি সন্তান আছে।

কিন্তু ওলফইঙ্গার বলেন, সন্তান লালন-পালনে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতাই বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে সচরাচর কারণ হিসেবে কাজ করে তার সত্যতা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে না। প্রতিটি যুগলের মধ্যেই সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু মূল বিষয়টি হলো এই ভিন্নতার বিষয়ে তারা পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ বা বোঝাপড়া করছেন।

ওলফইঙ্গার বলেন, অন্যান্য যেসব কারণে বিয়ে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে তার মধ্যে রয়েছে, কোনো যুগল যদি অল্প বয়সে বিয়ে করে বা কম শিক্ষিত হয় তাহলে তাদের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ওলফইঙ্গার আরো বলেন, একবার বিয়ে বিচ্ছেদের পর যারা পুনরায় বিয়ে করেন তাদের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কারণ যারা একবার বিয়ে বিচ্ছেদ করেন তাদের মধ্যে একই কাজ পুনরায় করার প্রবণতা বেশি থাকে।
নিজেরা ২০১৪ সালে বিয়ে করার আগেও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং ব্র্যাড পিট বিয়ে করেছিলেন। আর এই বিয়ে তাদের দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। ২০১৪ সালের আগে তারা অবশ্য প্রায় ১০ বছর একসঙ্গে বসবাস করেছেন।

মজার বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব যুগল বিয়ের আগে থেকেই একসঙ্গে থাকেন বিয়ের পর তাদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। অথচ এমনটা না হওয়ারই কথা ছিল বেশি। কারণ বিয়ের আগে একসঙ্গে থাকাকে অনেকটা দাম্পত্য জীবনের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়।

এমনকি বিশেষজ্ঞরাও এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন কেন এমনটা হয়। তবে এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, যেসব নারী-পুরুষ বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগেই একসঙ্গে থাকতে পারেন বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে থাকেন।

উদারহণত, রক্ষণশীল ও ধার্মিক মানুষদের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদের প্রবণতা কম দেখা যায়। আবার বিয়ের আগে তাদের মধ্যে একসঙ্গে থাকার প্রবণতাও নেই।

ব্র্যাঞ্জেলিনা জুটির বিয়ে বিচ্ছেদ দেখে বলা যাবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির মৃত্যু ঘটেছে।

প্রকৃতপক্ষে গত ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে বিচ্ছেদের হার ক্রমাগত কমে আসছে। আর বিভিন্ন জরিপেও দেখা গেছে যে, "আমেরিকানরা বিয়েকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এবং বিয়েবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক বা ব্যাভিচারকে খুবই অপছন্দ করেন। "

আর এটাও মনে রাখা দরকার, ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিয়ে বিচ্ছেদ আমেরিকার প্রধানতম প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ নয়। সাধারণ এবং গড়পড়তা আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনের তুলনায় পিট ও জোলির মতো তারকা- মহাতারকাদের জীবন একদমই আলাদা।
সূত্র : লাইভ সায়েন্স


মন্তব্য