kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

‘ব্র্যাঞ্জেলিনার’ উত্থান-পতন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫২



‘ব্র্যাঞ্জেলিনার’ উত্থান-পতন

‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ – মানে ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি৷ গত এক দশক জুড়ে এরাই হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত জুটি৷ তাঁদের রোম্যান্স, সন্তানের জন্ম, দত্তক নেওয়া, বিয়ে – সবই উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে৷ আর এবার এলো সংসার ভাঙার গল্প৷

পথ চলার শুরু
২০০৪ সালের কথা৷ ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ ছবিতে অভিনয় করার সুবাদেই আলাপ আরো গভীর হয়েছিল ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির৷ ব্র্যাড তখন বিবাহসূত্রে অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে বাঁধা৷ কিন্তু তারপরও সংবাদমাধ্যমগুলোয় পিট-জোলির রোম্যান্সই ছিল সবচেয়ে আলোচিত৷

বিরাট পরিবার
‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ দম্পতির ছয় সন্তান৷ পিটের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর আগেই জোলি কম্বোডিয়ান বংশোদ্ভূত পুত্র সন্তান ম্যাডক্স আর ইথিওপীয় বংশোদ্ভূত কন্যা জাহারাকে দত্তক নেন৷ এরপর ২০০৬ সালে নামিবিয়াতে মেয়ে শিহলের জন্ম দেন জোলি৷ ঠিক একবছর পর ভিয়েতনাম থেকে আরেক ছেলে প্যাক্সকে দত্তক নেন ব্যাড ও অ্যাঞ্জেলিনা৷ পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৮ সালে ফ্রান্সের নিস শহরে জোলি জন্ম দেন ভিভিয়েন ও নক্স নামে তাঁদের যমজ সন্তানকে৷

সাজানো সংসার
দক্ষিণ ফ্রান্সের এই ‘ভিনেয়ার্ড’ বা ওয়াইনের বাগানেই নিজেদের স্বপ্নের ঘর বেধেছিলেন জোলি-পিট৷ এটা ২০০৮ সালের কথা৷ প্রাসাদের মতো বাড়িটির নাম রেখেছিলেন ‘শাতোঁ মিরাভেল’৷ পরে এখানেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি৷

পথে হলো দেরি...
২০০৬ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জোলি বলেছিলেন, ‘‘আমার দেশে যতদিন পর্যন্ত সকলে, প্রতিটি মানুষ আইনত বিয়ের অধিকার না পাচ্ছে, আমি বিয়ে করবো না৷’’ পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০১১ সালেও জোলি সমকামীদের অধিকার আদায়ে তাঁর সেই বক্তব্য আবারো তুলে ধরেন৷ অবশেষে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সমকামীরা বিয়ের পূর্ণ অধিকার পায়৷ জোলি অবশ্য এর এক বছর আগেই বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন৷

গরিবের বন্ধু
জোলি-পিট দু’জনেই বার বার গরিব-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত নিউ অর্লিন্সের বাসিন্দাদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ছিন্নমূল শিশুদের সহায়তা তো করেছেনই, আফ্রিকা ও এশিয়াতেও উড়ে গেছেন ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’৷ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দরিদ্র শিশু আর শরণার্থীদের দিকে৷ তাই ২০০১ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত নিয়োজিত হন জোলি৷

সাহসী পদক্ষেপ
অ্যাঞ্জেলিনার মা মারা যান স্তন ক্যানসারে৷ সেই জিন তাঁর শরীরেও৷ তাই রোগ প্রতিরোধে ‘মাস্টেকটমি’ বা স্তনব্যবচ্ছেদ করান এই আইকনিক অভিনেত্রী৷ অন্যদের প্রেরণা দিতে শোনান সে কাহিনিও৷ বলেন, অপারেশনের পর বুকে ফ্লুইড ড্রেইন করার টিউব আর এক্সস্প্যান্ডার লাগানো অবস্থায় জেগে উঠতে কেমন লাগে৷ সে সময়, অর্থাৎ ২০১৩ সালে জোলি বলেছিলেন, ‘‘ব্র্যাডের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের৷ ও আমায় শক্তি জোগায়৷’’

অবশেষ বিয়ে
২০১৪ সালে ফ্রান্সে নিজেদের বাড়ির পাশেই একটা ছোট্ট গির্জায় পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে একেবারে ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেন জোলি ও ব্র্যাড৷ বিয়েতে বড় দুই ছেলে ম্যাডক্স ও প্যাক্সের হাত ধরে মঞ্চে হেঁটে যান অ্যাঞ্জেলিনা৷ মেয়ে জাহারা ও ভিভিয়েন নবদম্পতির মাথায় ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে দেয়৷ আর ছেলে শিহল ও নক্স ছিল আংটিবাহক৷ সে সময় ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বয়স ছিল যথাক্রমে ৫০ ও ৩৯ বছর৷

বিচ্ছেদের পূর্বাভাস
২০১৫ সালে ‘বাই দ্য সি’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’৷ ছবিটি মূলত ছিল একটা সংসার ভাঙার গল্প৷ সেই গল্প এবার তাঁদের জীবনেও সত্য হতে চলেছে৷ তাহলে কি ‘বাই দ্য সি’ ছিল যৌথ জীবন ভেঙে যাওয়ার পূর্বাভাস? এ প্রশ্নের উত্তর তো একমাত্র ব্র্যাঞ্জেলিনাই দিতে পারে৷ সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন খবর বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে শেষবার তাঁদের একসঙ্গে একটি রোস্তোরাঁয় দেখা গিয়েছিল৷


মন্তব্য