kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাধিকা আপ্তে বললেন বিস্তারিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫৯



রাধিকা আপ্তে বললেন বিস্তারিত

 'দৃশ্য 'লিক হয়েছে কি না, সেটা অবান্তর৷ যাঁদের দেখার উত্সাহ আছে, তাঁরা ঠিকই দেখবেন'৷  বললেন রাধিকা আপ্তে

রাধিকা আপ্তে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন 'পিঙ্ক' দেখা হয়েছে কী না৷ আফটার অল পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর সঙ্গে ছবি করেছেন তিনি --- 'অন্তহীন'৷ তারপরই পর পর প্রশ্ন, 'কেমন হয়েছে?' 'আমিও খুব শিগগিরি দেখব৷'

তারপর 'পার্চড'-এর আলোচনা৷ উত্তর-পশ্চিম ভারতের এক গ্রামের চার মেয়ের গল্প বলে 'পার্চড'৷ সেখানকার বস্তা-পচা নিয়মনীতি, জোর করে বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া এক সমাজ, যেখানে আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোর মধ্যে পারিবারিক ধর্ষণের মতোই দৈনন্দিন ঘটনা, মদ্যপ বরের শারীরীক আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে চার কন্যা --- রানি, জানকি, লাজ্জো, আর বিজলির--- গল্প৷ এর মধ্যে লাজ্জো হলেন রাধিকা আপ্তে৷

ইতিমধ্যেই বহু আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত এই ছবি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে৷ বিশেষ করে রাধিকা আর অভিনেতা আদিল হুসেন-এর অন্তরঙ্গ দৃশ্য 'লিক' হওয়া নিয়ে ঝড় তুমুল৷ সেটা অবশ্য এক বাক্যে উড়িয়ে দেন রাধিকা৷ 'দেখুন লিক হয়েছে কি না, সেটা অবান্তর৷ যে দর্শক ছবিটা দেখতে চান তাঁদের ওপর এটার কোনও প্রভাব পড়বে না৷ কারণ, যাঁদের দেখার উত্সাহ আছে, তাঁরা এমনিতেই দেখবেন,' সোজা বলছেন রাধিকা৷

তবে তিনি খুবই খুশি অনেকদিন পর একটা ছবি সেন্সর-এর কাট ছাড়া বেরোল৷ নিজের চরিত্র সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেন রাধিকা, 'আমার চরিত্র লাজ্জো৷ খুব ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়৷ বিয়ের পর লাজ্জোর একমাত্র কাজ হল বাচ্চা পয়দা করা৷ কিন্ত্ত ট্র্যাজেডি হল সে বন্ধ্যা৷ এটা তার আত্মসম্মানকে একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়৷ তার পর একটা সময় সে বোঝে শুধু নারী নয়, একটি পুরুষও একইরকম অক্ষম হতে পারে,' বলেন তিনি৷ ট্রেলারে দেখা যায় রাধিকা সাংঘাতিক একটা অ্যাকসেন্ট বানিয়েছেন৷ 'আমার অ্যাকসেন্ট-এর জন্য একজন কোচ ছিলেন৷ তাঁর সঙ্গে নিয়মিত ওয়ার্কশপ করেছি,' জানাচ্ছেন তিনি৷

গত বছর টরোন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রিমিয়ার করে সারা পৃথিবীতে সমাদৃত হয়েছে এই ছবি৷ রাধিকার মতে এর কারণ, 'আসলে পৃথিবী জুড়ে ছবিটার সঙ্গে সবাই রিলেট করতে পেরেছে৷ তাই প্রত্যেকেই এক বাক্যে ভোট দিয়েছে৷ খুব যত্ন করে বানানো একটা ছবি,' বলছেন তিনি৷

কথা বলতে গিয়েই প্রকাশ পেল তন্নিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায়ের ভক্ত রাধিকা৷ 'তন্নিষ্ঠার কাজের আমি ভক্ত৷ ও অত্যন্ত প্রভাবশালী অভিনেত্রী৷ সুতরাং, ওর সঙ্গে কাজ করাটা সব সময়ই একটা অভিজ্ঞতা, তাঁর মত৷ ছবি চার নারীর একটা জার্নির গল্প বলে৷ তেমনই রাধিকার নিজের জার্নিও নেহাত কম ইন্টারেস্টিং নয়৷ নানা ধরনের জঁর-এ কাজ করেছেন --- 'অহল্যা', 'বদলাপুর', 'হান্টার', 'ফোবিয়া', 'কৃতি' --- কোনওটার সঙ্গে কোনওটার মিল নেই৷ কীভাবে দেখেন সেটা তিনি? 'এগুলো একদিনে হয়নি৷ ধৈর্য্য ধরতে হয়েছে৷ ধৈর্য্য ধরতে পারাটা খুব জরুরি৷ সে যে-ই হোক না কেন৷ সুপারস্টার বা আমাদের মতো নন-সুপারস্টার অভিনেতা৷ তবে এখনও পর্যন্ত তো জার্নিটা ভালোই হয়েছে বলা যায়৷ কোনও একটা বিশেষ জঁরে আটকে না থেকে নানা ধরনের ছবি করেছি৷ বিশেষ কোনও পছন্দের জঁর নেই আমার৷ তবে আশা করি এটা চলতে থাকবে৷ আর আমি নানা ধরনের কাজ করে যেতে পারব৷ সেরকম কোনও বাছ-বিচার নেই৷ যে চিত্রনাট্য উত্তেজনা জোগায় বা চ্যালেঞ্জিং মনে হয় সেটাই করি৷ এটাই এখনও যে কোনও ছবি করার আগে প্রাথমিক শর্ত৷ একমাত্র রুলবুকও বলতে পারেন৷ তা ছাড়া, আমার কোনও স্বপ্নের চরিত্রও নেই৷ যত মানুষ আছে পৃথিবীতে ততগুলোই চরিত্র হতে পারে,' বলছেন রাধিকা৷ এই লিস্টে বাংলা ছবিও আছে৷ 'রূপকথা নয়'তে তিনি শেষ কাজ করে গিয়েছেন এখানে৷

গ্রামের প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবি প্রশংসিত হচ্ছে পৃথিবীতে৷ সেখানে গ্রামের দর্শককে ছবিটা দেখানো উচিত কি? সিনেমা কি আদৌ সমাজ বদল করতে পারে? স্পষ্ট উত্তর রাধিকার --- 'গ্রামের গল্প হতে পারে, তবে এমন নয় যে শহরের কোনও চরিত্র তার সঙ্গে রিলেট করতে পারবে না৷ তা ছাড়া, কোনও ছবি সেভাবে সমাজ বদলাতে পারে না৷ যেটা করতে পারে তা হল একটা আলোচনা শুরু করতে পারে৷ সমাজ বদলের জন্য দরকার শিক্ষা আর সচেতনতা৷ আমরা সেই বদলের ছোট অংশীদার হতে পারি মাত্র৷'

সুজয় ঘোষের পরিচালনায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শর্ট ফিল্ম 'অহল্যা' সুপারহিট হয়েছিল৷ রাধিকা বলছেন 'অহল্যা ২'-তেও তিনি থাকবেন৷ ''অহল্যা ২' করতে পারি৷ কথাবার্তা চলছে৷ এখনও ফাইনাল হয়নি,' বলছেন রাধিকা৷ এইসময়


মন্তব্য