kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রথম স্ত্রী-ই রাজিয়ার সঙ্গে বিয়ে দেন বৈরাগীকে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১২



প্রথম স্ত্রী-ই রাজিয়ার সঙ্গে বিয়ে দেন বৈরাগীকে!

চল্লিশদিন নিখোঁজ ছিলেন অভিনেতা ফখরুল হাসান বৈরাগী। এমন দাবি ছিল বৈরাগীর স্ত্রী রাজিয়া হাসানের।

এ বিষয়ে ঢাকার একটি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন রাজিয়া হাসান।   কিন্তু বৈরাগী নিজে অজ্ঞাত স্থান থেকে বেরিয়ে জানান দিলেন তিনি নিখোঁজ নন।   একই সাথে তিনি বলেন, 'রাজিয়া আমার স্ত্রী নয়, তার সাথে লিভ টুগেদারের সম্পর্ক। ' আর এ ঘটনায় বিস্মিত না হয়ে পারে না প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীরা।   বিয়ে করেন নি অথচ ৩০ বছর একসাথে থেকেছেন?  কেন আর কে এই রাজিয়া হাসান?

১৯৮৬ সালের ঘটনা।   পুতুল নামের এক সুন্দর মুখশ্রীর কিশোরী তখন মঞ্চে বেশ নাম কুড়োচ্ছিলেন। ফখরুল হাসান বৈরাগীর প্রযোজনায় একটি ছবি নির্মিত হতে যাচ্ছিল। ছবির নাম 'চম্পাবতী। ' এই ছবির নায়িকা চরিত্রের জন্য ১৪ বছরের এক মেয়ের প্রয়োজন পড়ে।   বৈরাগী খোঁজ পান পুতুলের। নিমিষেই এই মেয়ে চম্পাবতীর চরিত্রে মানিয়ে যাবে।   বৈরাগী মেয়েকে পছন্দ করলেন তাঁর ছবির জন্য।   কিন্তু পুতুল নাম নায়িকার জন্য বেমানান মনে হলো বৈরাগীর। তিনি নাম দিলেন রাজিয়া হাসান। এই ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন ইমরান।   রাজিয়া হাসানের প্রথম ছবি 'চম্পাবতী' মুক্তি পেল।   পুতুল পরিচিতি পেলেন রাজিয়া হাসান হিসেবে। এভাবেই ফখরুল হাসান বৈরাগীর সাথে রাজিয়ার পরিচয়।

সে সময় বৈরাগীর বাড়িতে যাতায়াত ছিল রাজিয়ার।   বৈরাগীর প্রথম স্ত্রী ছবি হাসান তখন শয্যাশয়ী। ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন ছবি হাসান। রক্ত বমি হতো।   রাজিয়া বৈরাগীর স্ত্রীর সেবা করতে লাগলেন।   মৃতপ্রায় ছবি হাসান নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন বৈরাগীর সাথে তাঁর বিয়ে দেবেন। বৈরাগীর দ্বিমত ছিল না।   সেসময়ই বৈরাগীর বাড়িতেই ১২ বছরের রাজিয়াকে ঢাকার আদালতের (বর্তমানে সিএমএম কোর্ট) এক উকিলকে ডেকে বিয়ে পড়ানো হলো।   একজন হুজুরকেও আনা হয়েছিল। আইনগত ও ধর্মীয় দুভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হলো। এভাবেই রাজিয়া হাসান হয়ে গেলেন ফখরুল হাসান বৈরাগীর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী শয্যাশয়ী অবস্থাতেই ১৯৯২ সালে মারা গেলেন। সংসারের পুরো দায়িত্ব পড়ল রাজিয়া হাসানের ওপর। এর আগে রাজিয়া আরো কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেন। এগুলো হলো-   পালাবার পথে, গায়ে হলুদ।  

জানা যায়, বৈরাগীর সিনেমার ক্যারিয়ারের দুঃসময়ে সবসময় আগলে রেখেছিলেন পুরান ঢাকার মেয়ে রাজিয়া হাসান। সিনে দুনিয়া থেকে নাম প্রত্যহার করে নিয়ে কিছু ছোটখাটো ব্যবসার কাজে মনোযোগী হন রাজিয়া।   এই ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়। আগের ঘরের বড় মেয়েকেও রাজিয়া নিজে বিয়ে দেন বলে জানা যায়।   কিছুদিন আগেও রাজিয়া সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে ঝামেলা হলে ঢাকার আরেকটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।   এরপরেই গত ৭ আগস্ট বৈরাগী আকস্মিক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

গতকাল ফখরুল হাসান বৈরাগী ঢাকার কলাবাগান থানায় উপস্থিত হয়ে জানান তিনি নিখোঁজ হন নি।   এমনকী রাজিয়া হাসানের সাথে বিয়ের সম্পর্কও অস্বীকার করেন।   রাজিয়া হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, আমি জানি না উনি কেন এমন করলেন। আমার বিশ্বাস বৈরাগী কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এইসব কথা বলেছেন।   তিনি তাঁর ভুল বুঝে ফিরে আসবেন বলেও জানান রাজিয়া হাসান।   বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞসা করা হলে রাজিয়া বলেন, ৩০ বছর কেউ বিয়ে ছাড়া সংসার করতে পারে?  নিশ্চই উনি উনার ভুল বুঝতে পারবেন। আমি এখনো বিশ্বাস করি বৈরাগী ফিরে আসবেন।  


মন্তব্য