kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জিয়া খানের আত্মহত্যা সাজানো!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৫২



জিয়া খানের আত্মহত্যা সাজানো!

 জিয়া খান মৃত্যুরহস্যে নয়া মোড়। মৃত্যুর পর জিয়ার মুখ ও গলায় যে দাগ পাওয়া গেছে, তা থেকে ব্রিটেনের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ডঃ পায়েন-জেমসের মনে হয়েছে, এই মৃত্যু নিছক আত্মহত্যা নয়।

অন্য কিছু। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর রিপোর্ট পেশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।

গত বছর ডিসেম্বরে জিয়ার বয়ফ্রেন্ড সুরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তোলে CBI। কিন্তু জিয়ার মা রাবিয়া, এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তিনি ব্রিটেনের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ পায়েন-জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, যাবতীয় ছবি ও CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তারপর রিপোর্ট প্রকাশ করেন তাঁরা।

জিয়ার নিচের ঠোঁটে একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। আগে যখন ভারতের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জিয়ার দেহ পরীক্ষা করেন, তাঁরা জানান আত্মহত্যার সময় দাঁতের ঘষা লেগে ঠোঁটে ওই দাগ হয়। কিন্তু পায়েন-জেমসের মতে, আত্মহত্যার সময় নয়। ওই দাগ আগেই হয়। হতে পারে সেটি কোনও কিছুতে ঘষা লেগে বা কোনও কারণে কালসিটে পড়ে হয়। জিয়ার মুখে কোনও শক্ত জিনিস দিয়ে আঘাত করার ফলেই ওই দাগ হয় বলে তাঁর মত। হাতে পারে জিয়ার ঠোঁটে ঘুষি মারা বা মুখের উপর হাত দিয়ে জোরে চেপে ধরার কারণে ওই দাগের উৎপত্তি। তবে দাঁতের চাপের দাগ কিছুতেই নয়।

জিয়ার ঘাড়ে যে ফাঁসের দাগটি ছিল, তা ওড়নার। ওড়নাটা হয়তো সামান্য নেমে গিয়েছিল বা ওড়নার গিঁট ওই জায়গাতে পড়েছিল। তাই ওই দাগ হয়েছে। এই মত জিয়ার দেহ পরীক্ষাকারী ফরেন্সিক দলের। কিন্তু পায়েন-জেমসের মতে, ওড়না কখনও ওইরকম দাগ তৈরি করতে পারে না। ওড়নার উপর যদি চাপ পড়ে, তাহলে স্পষ্ট ফাঁসের দাগ দেখা যাবে। কিন্তু, জিয়ার ঘাড়ে যে দাগ পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে ফাঁসের দাগ মেলে না।

জিয়ার নিচের চোয়ালে যে দাগ পাওয়া গেছে, ভারতীয় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতে ওড়নায় একাধিক গিঁট দেওয়ার ফলে ওই দাগ হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ওড়না দিয়ে ওই ধরনের দাগ চোয়ালে হতে পারে না। অন্য কোনও বস্তু দিয়ে আঘাতের ফলে ওই দাগ হয়েছে। আবার এও হতে পারে ফাঁসের বস্তুটি ধাতব ছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, জিয়ার বাম বাহু ও নিচের ঠোঁটে যে আঘাত পাওয়া গেছে বা ফাঁসের যে চিহ্ন পাওয়া গেছে তা ওড়নার নয়। পায়েন-জেমসের আরও বক্তব্য, জিয়ার মেডিক্যাল এভিডেন্সে অনেক ভুল ব্যাখ্যা করা আছে। আপাতভাবে জিয়ার মৃত্যুকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পায়েন-জেমসের মনে হয়েছে, ভারতীয় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মেডিক্যাল এভিডেন্স খতিয়ে দেখেননি। রাবিয়ার আইনজীবী দীনেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন যাতে এখনও পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে তা যেন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

তবে সুরজ পাঞ্চোলির বাবা আদিত্য পাঞ্চোলি এই রিপোর্টের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পায়েন-জেমসের রিপোর্টের প্রতি তাঁর সন্দেহ আছে। কারণ রিপোর্টটি প্রাইভেট ফরেন্সিক ফার্মের। তিনি দেখতে চান আদালত এই রিপোর্ট গ্রহণ করে কি না।


মন্তব্য