kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মারা উইলসন : হলিউডের সেই কিউট খুদে তারকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১১



মারা উইলসন : হলিউডের সেই কিউট খুদে তারকা

হলিউডে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করছেন মারা উইলসন। আর শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে প্রচুর সুনাম অর্জনেই থেমে থাকেননি মারা।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
পুরো নাম মারা এলিজাবেথ উইলসন। হলিউডে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি চিত্রনাট্য লেখাও শুরু করেন। তিনি নাটি হিলার্ড চরিত্রে অভিনয় করে বিখ্যাত হন। তার কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো মিসেস ডাউটফায়ার, মাটিল্ডা ওয়র্মউড ও মালিডা। এছাড়া তিনি মিরাকল অন থার্টিফোর্থ স্ট্রিটেও অভিনয় করেন।
নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী মারা জানান ছোটবেলায় তিনি জাপানে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাপানে গিয়ে তিনি দারুণ মধুর অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে অভিজ্ঞতা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক ভালো। ’
তিনি বলেন, ‘আমি একটি সম্পূর্ণ নতুন কিমোনো নামে জাপানি পোশাক পরেছিলাম। আর হোটেলের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় আশপাশের লোকজনের সামনে মাথা নেয়াচ্ছিলাম। এ সময় একজন জাপানি ব্যবসায়ী আমাকে দেখে হেসে মাথা নত করেন। ’
তিনি বলেন, আমি আমাকে কিউট বলে মনে করতাম না। আমার পরিবারের অনেকেই অবশ্য বলত যে আমি সুন্দরী। কিন্তু আমি নিজেকে কখনোই ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী কন্যা হিসেবে দেখিনি। সুন্দরী কন্যারা ছিল সম্পূর্ণ যেন ভিন্ন প্রজাতির।
তবে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা ছিল তার জন্য অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ঘটনা। আর এতে অন্যরা যেমন আশ্চর্য হয়েছিল তেমন নিজেও অবাক হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, যখন আমি একটা সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেলাম তখন অন্যদের মতো আমিও খুবই আশ্চর্য হয়েছিলাম। যে পরিচালকেরা আমাকে নিয়েছিলেন, তারা এমন শিশু চাইছিলেন, যে দেখতে ‘স্বাভাবিক’। এক্ষেত্রে আমাদের কার মুখ কত সুন্দর তা বিবেচ্য ছিল না। আর এ বিষয়টিই কাজ করেছিল। আমি কিউট শিশু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাম।
মিরাকল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ঘটনাও বেশ মজার ছিল মারার জন্য। তিনি জানান, আমার মা আমাকে অভিনয় করার জন্য জোর করেননি। আমরা বারব্যাংকে বাস করতাম। সে স্থানটি হলিউড থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে ছিল। বহু মানুষই কাছে থাকার সূত্রে সেখানে জড়িত হয়েছিলেন। আমার বাবাও ছিলেন তাদের দলে। তিনি ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। আমার বড় ভাই ড্যানিও কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। আমিও আমার মাকে বলেছিলাম এ ধরনের একটি কাজ জুটিয়ে দিতে। আর দ্রুত আমি মিসেস ডাউটফায়ারে সুযোগ পেয়ে যাই। আমার বাবা-মা খুবই গর্বিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা আমাকে মাটিতেই রেখেছিলেন। আমি যদি কখনো বলতাম, ‘আমিই সেরা’ তখনই আমার বাবা-মা মনে করিয়ে দিতেন, ‘তুমি শুধু একজন অভিনেত্রী। তুমি একজন শিশু। ’

১৩ বছর বয়সে আমাকে কেউ আর আগের মতো ‘কিউট’ বলত না। অন্তত ইতিবাচকভাবে তো নয়ই। সিক্স গ্রেডে পড়ার সময় আমি নিজেকে কুৎসিত হিসেবেই আবিষ্কার করলাম। এক ছেলে বলেই ফেলল, ‘তুমি মাটিলডা? হায়, এরপর তোমার সামান্য ওজন বেড়েছে। ’ এ ঘটনার পর আমি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করলাম।
এরপর আমি যখন একা ছিলাম, তখন চিন্তা করে দেখলাম, অভিনয় মোটেই মজার বিষয় নয়। আগের মতো নেই বিষয়টি। তবে আমার এতে এগিয়ে যেতেই হবে। এটি আমার জীবনের গতি বজায় রাখার প্রশ্ন। আমার পরিবার পরিবর্তিত হয়েছে। আমার দেহ পরিবর্তিত হয়েছে। আমার জীবনও পরিবর্তিত হয়েছে। কখনো কখনো আবার মনে হত, আমার জীবনে একমাত্র অবলম্বনই অভিনয়। এরপর অবশ্য বেশ কিছুদিন আমি কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাইনি।

এছাড়া ২০০০ সালের চলচ্চিত্র থমাস অ্যান্ড দ্য ম্যাজিক রেইলরোডে অভিনয় করেন মারা। এ কমেডি চলচ্চিত্রে লিলি স্টোনের চরিত্রে অভিনয় করে পুরস্কারও জয় করেন তিনি। এছাড়া ২০১৬ সালে ব্রড সিটি ও বোজ্যাক হর্সমেন-এ কাজ করছেন তিনি।


মন্তব্য