kalerkantho


বাতিঘরের নাটক 'অলিখিত উপাখ্যান'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৮:২৪



বাতিঘরের নাটক 'অলিখিত উপাখ্যান'

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক অনালোচিত চরিত্র রহিমউল্লাহ। সুন্দরবনের মোরেলগঞ্জ নামল স্থানে অত্যাচারী বেনিয়াদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধ।

চাষিদের দিয়ে জোর করে জঙ্গল কেটে আবাদ করানোর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল তাঁর কণ্ঠস্বর। সেই প্রতিবাদের পরিণতিতে প্রাণ হারাতে হয় সাহসী এই বিপ্লবীকে। কথাসাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ডায়েরির পাতায় লেখা হয়েছিল তার বীরত্বগাথার কথা। সেখানে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে রিজিয়া রহমান লিখেছিলেন অলিখিত উপাখ্যান নামের উপন্যাস। আর উপন্যাসটিকে আশ্রয় করে ঢাকার মঞ্চে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি নতুন নাটক। নাট্যদল বাতিঘর নিয়ে আসছে তাদের দ্বিতীয় প্রযোজনা। অলিখিত উপাখ্যান নামের নাটকটিতে উঠে এসেছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অজানা এক দৃশ্যপট।

অলিখিত উপাখ্যান উপন্যাসকে গবেষণার ভিত্তিতে নাট্যরূপ দিয়েছেন মুক্তনীল। নাট্যরূপ দেওয়ার পাশাপাশি নাটকটির নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

গত নবেম্বর থেকে চলছে নাটকটির মহড়া। কয়েক দিন ধরে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার ৩ নম্বর মহড়া কক্ষে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মহড়া। ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমি্র মূল হলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন।

সুন্দরবনঘেঁষা বাগেরহাটের একটি অঞ্চলের নাম হচ্ছে মোরেলগঞ্জ। একসময় স্থানটির নাম ছিল সরালিয়া। ব্রিটিশ শাসনামলে সুন্দরবনের এই অংশটি ইজারা নেয় মার্গারেট মোরেল নামের অত্যাচারী এক ব্রিটিশ শোষক। পরবর্তীতে নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে জায়গাটির নাম পরিবর্তন করে দেন এই ব্রিটিশ শোষক। স্থানীয় এলাকাবাসীকে কৌশলে মামলা দিয়ে গহীন জঙ্গল কেটে আবাদি ভূমিতে পরিণত করা হয় অঞ্চলটিকে। জঙ্গল কেটে চাষ করতে কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করলে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। আবার ফসল ফলাতে গিয়ে বাঘের খাবারে পরিণত হতো চাষিদের কেউ কেউ। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন সাহসী চাষি রহিমউল্লাহ। পরিণতিতে হত্যা করা হয় ব্রিটিশবিরোধী এই বিপ্লবী চাষিকে। মৃত্যুর আগে এই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন রহিমউল্লাহ।

মোরেলগঞ্জে মার্গারেট এবং তার দুই ছেলে রবার্ট ও হেনরির চালিয়ে যাওয়া নির্যাতনের কথা লেখার অনুরোধ জানান। তবে বঙ্কিমচন্দ্র সে সময় ব্রিটিশ রাজের অধীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিধায় এ বিষয়ে কিছু লিখতে পারেননি। পরবর্তীতে রহিমউল্লাহর মৃত্যু অনুতপ্ত করে বঙ্কিমকে। সেই অন্তর্দহন থেকেই ঘটনাটি আপন ডায়েরিতে তুলে ধরেন।

প্রযোজনাটিতে রহিমউল্লাহ চরিত্রে রূপ দেবেন স্মরণ বিশ্বাস এবং বঙ্কিম চরিত্রে পান্থ আফজাল। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন তারানা তাবাসসুম চেরি, মনিরুজ্জামান ফিরোজ, সাফিন আহম্মেদ অশ্রু, সাদ্দাম রহমান, সাবরিনা শারমিন, ফয়সাল, সাদিয়া ইউসুফ বৃতা, তাজিম আহমেদ শাওন, সঞ্জয় গোস্বামী, রুম্মান শারু, সঞ্জয় হালদার, শিশির, পরশ, শাম্মি মৌ, তানি, তন্ময় প্রমুখ।

 


মন্তব্য