kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিনেমা তৈরিতে নতুন ট্রেন্ড হতে যাচ্ছে স্মার্টফোন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৩



সিনেমা তৈরিতে নতুন ট্রেন্ড হতে যাচ্ছে স্মার্টফোন

স্মার্টফোনের সাহায্যে যে সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, তা আগে কারো ধারণাতেই ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি সফল চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে স্মার্টফোন ক্যামেরার কাজ প্রকাশিত হওয়ার পর সে সম্পর্কে মানুষের ধারণা পাল্টে যাচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ম্যানস ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া ডট কম।
গত বছরের এমএএমআই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আলোচিত চলচ্চিত্র ছিল ট্যানজেরিন। চলচ্চিত্রের কাহিনী, অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয় দক্ষতা ছাড়িয়ে ভিন্ন একটি বিষয় নিয়েই সবাই চমৎকৃত হয়েছিল। সে বিষয়টি ছিল এর ক্যামেরা। কারণ চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণ আইফোন সিক্সএস স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল। এটি ছিল এ ধরনের প্রথম ফিচার ফিল্ম। আর তাই তা হেডলাইনে স্থান পেয়েছিল।

চলচ্চিত্রটির ছিল উন্নত রঙের নিখুঁত ছবি ও ঝকঝকে রং। আর এ ধরনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র ধারণ করে খরচ একেবারে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্যাঙ্গারিন চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের দৃষ্টিকে যেমন আকর্ষণ করেছিল তেমন বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়েছিল। এটি অস্কারেও নমিনেশন পেয়েছিল।
তাহলে কী এখন স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েই দারুণ সব চলচ্চিত্রের শুটিং করা যাবে? এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সেই দিন আসেনি। কারণ স্মার্টফোনের ক্যামেরায় বেশ কিছু ঘাটতি রয়েছে। অল্প আলোতে এগুলোর ছবিতে গ্রেইন বা দানা দানা দেখা যায়। এছাড়া আরও অসংখ্য প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোনের রেকর্ড করা শব্দ উন্নতমানের হবে না। এতে বাতাসের শব্দ এবং অন্যান্য নয়েসও পাওয়া যেতে পারে, যা দর্শকদের বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে নির্মাতারা এ সীমাবদ্ধতা জয় করতে পেরে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
আইফোনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাতাদের প্রচুর খরচ করতে হয়েছে স্মার্টফোনটির উপযোগী ট্রাইপড, ক্ল্যাম্পস, স্ট্যাবিলাইজার, লেন্স, মাইক্রোফোন ও স্লাইডারের মতো যন্ত্রাংশের পেছনে।
স্মার্টফোনে চলচ্চিত্র ধারণ করা দুটি কারণে সুবিধাজনক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির সুবিধা পাওয়া যায় তা হলো, এটি দিয়ে বাড়ির বাইরে শুটিং করা খুবই সুবিধাজনক। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো ব্যবস্থা না রাখলেও চলে। কারণ আপনি চলচ্চিত্রের শুটিং করছেন, তা অন্যরা নাও বুঝতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেরও প্রয়োজন পড়বে না।
দ্বিতীয় যে সুবিধাটি পাওয়া যাবে তা হলো, এর আকার। স্মার্টফোন আকারে ছোট হওয়ায় তা বহন করা সুবিধাজনক। যে কোনো স্থানে তা সহজে নিয়ে যাওয়া যাবে। এছাড়া স্মার্টফোনের সঙ্গে ব্যবহৃত ফ্ল্যাশ, ট্রাইপড ও অন্যান্য যন্ত্রাংশও আকারে ছোট হয়। এতে বহন করা সুবিধাজনক হয়।
স্মার্টফোনে বর্তমানে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি সীমিত পর্যায়ে এডিটিংয়েরও সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এডিটিংও করা সহজ হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে স্মার্টফোনের ক্যামেরায়।
সম্প্রতি ভারতে ভ্যানডানা ক্যাটারিয়ার মিউজিক ভিডিওর দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে আইফোন সিক্সএস-এ। যা এক্ষেত্রে একটি দারুণ উদাহরণ-

ভারতে স্লক শর্মা তার পরবর্তী ফিচার ফিল্মের দৃশ্যও আইফোন সিক্সএস-এ ধালণ করবেন বলে জানা গেছে। এটি হবে স্মার্টফোনে ধারণ করা প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র। এ বিষয়ে প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করেছেন নির্মাতা।
কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে তিনিএ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তার ভাষায়, ‘এটি একটি সুপার টুল। ’
এটি ব্যবহার করে দারুণ চলচ্চিত্র বানানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আর স্মার্টফোন ক্যামেরার মাধ্যমে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পক্ষে বহু মানুষের মাঝে অভিনয় করা আগের তুলনায় সহজ হবে বলেও তিনি মনে করেন।


মন্তব্য