kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'যারা সিনেমাটি পর্ন ভেবে কিনছে তারা হতাশ হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০১



'যারা সিনেমাটি পর্ন ভেবে কিনছে তারা হতাশ হবে'

রাধিকা আপ্তে। ভারতীয় বাংলা-হিন্দি এমনকী তামিল ছবির নায়িকা।

সাধারণত বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে দূরে থেকে বিকল্প ধারার সিনেমাগুলোতেই অভিনয় করেন এই তারকা। সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পাচ্ছে তার আলোচিত সিনেমা 'পার্চড'। এই সিনেমাসহ অনেক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন কলকাতার দৈনিক এবেলা'র সঙ্গে। পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো :

খুব বেছে বেছে ছবি করেন আপনি। 'পার্চড' কেন বাছলেন?

লীনা (যাদব, পরিচালক) আমায় গল্পটা বলেছিল। শুনেই পছন্দ হয়ে যায়। চরিত্রটা ভাল। গ্রামের এক সরল মেয়ে, যে মনে করে মা হওয়াই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে যখন জানতে পারে যে মা হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়, তখন নিজেকে মূল্যহীন মনে হয় তার। পরে জানতে পারে, সন্তান উৎপাদনে ছেলেরাও অক্ষম হতে পারে। তারপর কুণ্ঠা মুছে যায় তার। আসলে এই চরিত্রটার গল্প আমাদের সকলেরই। আমরা সকলেই স্বাধীনচেতা। কিন্তু সেই দিকটা অনেক সময় লুকনো থাকে। কোনও একটা ঘটনায় বেরিয়ে আসে। আর আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রসার ঘটে। সেই জিনিসটা এই গল্পে পেয়েছিলাম।

চরিত্রটা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে অসুবিধে হয়েছিল?

শারীরিক অত্যাচার আমায় কোনোদিন সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু এমন অনেক ছেলেমেয়ের সংস্পর্শে এসেছি, যাদের এগুলো সহ্য করতে হয়েছে। তবে অত্যাচার শুধু শারীরিক নয়। মানসিকও হয়। আর শুধু দাম্পত্যজীবনে নয়, অন্য অনেক সম্পর্কেই এই ধরনের সাইকোলজিক্যাল অ্যাবিউজ ঘটে। কর্মক্ষেত্রেও। এমনভাবে এই ম্যানিপুলেশন হয়, যে মানুষ বুঝতেও পারে না তার সঙ্গে অন্যায় ঘটছে! আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। চরিত্রটাও তেমনই। সে মনে করে তার বরের অধিকার আছে তাকে মারার।

একাডেমি পুরস্কারজয়ী রাসেল কার্পেন্টার এই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

কাজ শুরু হওয়ার দুদিন আগে থেকে রাসেল প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। আমাদের সকলকে ফিল্মের কস্টিউমে লোকেশনে নিয়ে গিয়েছিল। ওর কাছে একটা খুব লম্বা লাইট রয়েছে, যেটা পুরো চাঁদের আলোর মতো সেটের উপর পড়ে। দু’দিন ধরে সেই আলোয় ও কাস্টের বিভিন্ন অ্যাঙ্গলে ছবি তুলে রেখেছিল। যাতে বুঝতে পারে, কোন দিক থেকে আলো করলে পরদায় কাকে কেমন লাগবে। কোনও সিনেম্যাটোগ্রাফারকে এতটা পরিশ্রম করতে আগে দেখিনি।

বিতর্ক যেন আপনার কেরিয়ারের অংশ হয়ে উঠেছে। এই ছবির কিছু দৃশ্য নিয়েও জোর আলোচনা চলছে...

এখানে যেকোনো অভিনেত্রী ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করলেই লোকে জোর আলোচনা শুরু করে দেয়। দৃশ্যগুলো ভাইরাল হওয়ার আগেই সকলে বলতে শুরু করল, 'লিকড ভিডিও'। আগে তো দেখতে হবে, আদৌ জিনিসটাকে লিক বলা চলে কি না! এতগুলো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়ে গিয়েছে ছবিটা। আমেরিকার নেটফ্লিক্সে রয়েছে। তাহলে কী করে লিক বলা যায়! সমাজকে এবার একটু পরিণত হতে হবে। ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েও যদি কারও অভিনয়ের বদলে তার টপলেস দৃশ্যটাই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে কিছু বলার নেই!

কলকাতায় এই ছবির পাইরেটেড ডিভিডি 'পর্ন' হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। খবরটা শোনার পর খারাপ লাগেনি?

খারাপ লাগছে সেই লোকগুলোর জন্য, যারা এটা পর্ন ভেবে কিনছে। কিন্তু দেখার সময় হতাশ হবে।

ইন্ডাস্ট্রির অনেক বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলেন। তাতে নানা বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েছেন...।

সমালোচনা বা বিতর্কের ভয়ে আমি চুপ করে থাকতে পারি না। যেটা বিশ্বাস করি, সেটা নিয়ে কথা বলি। ডাব্‌ল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে বাঁচতে পারব না। তাছা়ড়া চুপ করে থাকলেই যে বিতর্কে জড়াবেন না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। অনেক সময় চুপ থাকলেই বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়! আমি এসব না ভেবে নিজের মতো কাজ করে যেতে চাই।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে বলিউডে আলাদা জায়গা করে নিতে পেরেছেন। জীবনটা আগের তুলনায় কতটা বদলেছে?

এখনও অত বড় তারকা হয়ে যাইনি, যে জীবনটা পুরো বদলে যাবে! তবে আগের তুলনায় এখন হয়তো একটু বেশি পরিচিতি পেয়েছি। যেখানেই যাই, লোকে আমায় চিনে ফেলে। সত্যি কথা বলতে কী, এই বিষয়টা একদম পছন্দ হয় না। মনে হয়, নিজের মতো আর ঘোরাফেরা করতে পারছি না! যেখানে সেখানে লোকে মোবাইলে ছবি তুলে নেয়। এটা আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বলে মনে হয়। অনুভূতিটা খুব একটা ভাল নয়!

একদিকে র‌্যাম্পে হাঁটেন। অন্যদিকে অফ-বিট ফ্যাশনিস্তাহিসেবে সাড়া ফেলেছেন ইনস্টাগ্রামে...।

আমার কিন্তু র‌্যাম্পে হাঁটতে ভয়ই করে। সাজগোজ করতেও খুব একটা ভাল লাগে না। কোনও ইভেন্টে যাওয়ার থাকলে তো সাজতেই হয়। কিন্তু কাজের বাইরে কোথাও গেলে আমি সাধারণত মেকআপ করি না। হিল্‌স পরেও বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না।

গ্ল্যামারাস ইমেজ ধরে রাখায় বিশ্বাসী নন?

ওসব গ্ল্যামার-ট্যামার আমার জন্য নয়! ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অনেক অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা আমার চেয়ে অনেক বেশি গ্ল্যামারাস। তারা হয়তো বাইরে বেরোলেই আপাদমস্তক সেজে বেরোন। সেটা খারাপ নয়। যার যেমন পছন্দ। আমি এসব করতে পারি না।

সেই জন্যেই কি বেশিরভাগ সময় অফ-বিট চরিত্র বাছেন?

অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাজ করাটাই আমার লক্ষ্য। এখনও পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি, বেশিরভাগই উপভোগ করব বলে নিশ্চিত ছিলাম। জানতাম, ওই চরিত্রগুলো করলে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব। তবে এমনও কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলো অন্য কারণে বেছেছিলাম। সকলের ফিল্মোগ্রাফিতেই তেমন কাজ থাকে। বাট ওভারঅল আই অ্যাম ভেরি স্যাটিসফায়েড উইথ মাই বডি অফ ওয়ার্ক।

স্টিরিওটাইপড হওয়ার ভয় কোনওদিনই আপনার ছিল না?

ভয় পেয়ে কী হবে? এই ইন্ডাস্ট্রিতে যা-ই করুন না কেন, স্টিরিওটাইপড হতেই হবে। আমি তো চেষ্টা করি, বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার। যাতে নিজের ইমেজ ভাঙতে পারি। কিন্তু এখানে নানা রকম চরিত্রের সুযোগ কোথায়? কেউ যদি একটা কমেডি ছবিতে অভিনয় করেন আর সেই ছবিটা সফল হয়, তারপর সব কমেডি’র প্রস্তাবই আসবে তার কাছে।

বাংলা সিনেমায় আবার কবে দেখা যাবে আপনাকে?

বাংলা সিনেমায় কাজ করতে আমার ভালই লাগে। কিন্তু এখনও তেমন কোনও কথা হয়নি। এরপর আমার কোনও কাজ নিয়েই কথা এগোয়নি। তাই আপাতত কোনও ডেট ব্লক নেই। একটা ব্রেক নেব ভাবছি। কারণ গত তিন বছর ধরে টানা কাজ করে যাচ্ছি! তা বলে বাংলায় সুযোগ পেলে কাজ করতে অসুবিধে হবে না।

ন্যুড সেলফি

গত বছরের শুরুতে রাধিকার মতো দেখতে এক মহিলার স্নান করার কিছু ন্যুড সেল্‌ফি হোয়াটস্‌অ্যাপের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিগুলো নাকি রাধিকা তার স্বামী বেনেডিক্ট টেলরকে পাঠিয়েছিলেন। কোনওভাবে সেগুলো লিক হয়ে যায়। নিন্দুকেরা বলেছিলেন, রাধিকা খবরে থাকার জন্য পরিকল্পনা করেই এই ছবিগুলো লিক করিয়েছেন। রাধিকা বিতর্কের জবাবে টুইট করেছিলেন, ‘কারও ন্যুড ছবি যদি আমার বলে চালাতে হয়, তাহলে অনেক বেশি খাটতে হবে’!

ছবি লিক

পরিচালক কেতন মেটার ছবি ‘মাঝি দ্য মাউন্টেন ম্যান’ মুক্তি পাওয়ার প্রায় ১০ দিন আগেই টরেন্টে তার প্রিভিউ কপি লিক হয়ে যায়। অভিনয়ে ছিলেন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি এবং রাধিকা।

স্ট্রিপটিজ

ন্যুড সেল্‌ফি বিতর্কের কয়েক মাস পরেই ফের রাধিকার একটি স্ট্রিপটিজ ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। পরে জানা যায়, পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। সেই শর্ট ফিল্মের একটি অংশ ‘রাধিকা স্ট্রিপটিজ’ নামে লিক হয়ে গিয়েছে। ঘটনায় অনুরাগ কাশ্যপ বেশ রেগে গিয়েছিলেন। রাধিকার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। কারণ শ্যুটিং এবং পোস্ট প্রোডাকশনের সময় যথেষ্ট সাবধানতা নিলেও ছবির ফুটেজ নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পরেই ক্লিপটা লিক হয়ে যায়।

যৌন দৃশ্য

সম্প্রতি ‘পার্চড’ ছবির কিছু দৃশ্য ‘রাধিকা’স লাভমেকিং সিন’ নামে অনলাইনে লিক হয়ে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা ভাইরালও হয়। তারপর থেকে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কেন রাধিকার সঙ্গেই বার বার এই ধরনের ঘটনা হয়! জবাবে রাধিকা জানিয়েছিলেন, ছবিতে তার সঙ্গে আদিল হুসেনও অভিনয় করেছেন। লিক হওয়া দৃশ্যে আদিলকেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু সমাজ এমনই, যে আদিলের কথা কেউ বলছে না! শুধু তাকে নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। কিন্তু বিদেশের বহু ফেস্টিভ্যালে ছবিটা দেখানো হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত সেখান থেকেই হাই কোয়ালিটি কপি ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে। বিতর্ক আরও বেড়ে যায়, যখন কলকাতার কিছু পাইরেটেড ডিভিডির দোকানে ছবিটা ‘পর্ন’ বলে বিক্রি করা হয়!


মন্তব্য