kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অভিনেত্রীর মৃত্যু, চাইনিজ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চরমে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৩১



অভিনেত্রীর মৃত্যু, চাইনিজ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চরমে

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এক চাইনিজ অভিনেত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। ওই তরুণীর চিকিৎসায় যে প্রচলিত চাইনিজ ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তার কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

২৬ বছর বয়সী ওই অভিনেত্রীর নাম জু টিং। তিনি লিম্ফোমায় আক্রান্ত ছিলেন। এটা এমন এক ক্যান্সার যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এ বছরের প্রথম দিকে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হন। তিনি কেপোথেরাপি নিতে রাজি ছিলেন না। এ পদ্ধতির ধকল সম্পর্কে জেনেই রাজি হননি তিনি।

মাইক্রো ব্লগিং সাইট সিনা উইবোতে লিখেছেন, কেমোথেরাপি নিয়ে এমন অবস্থা করে ফেলতে চাই না যে কেউ আমাকে চিনতে পারবেন না।

পরিবর্তে তিনি চীনের প্রচলিত পুরনো পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। কাপিং, আকুপাংকচার, ব্যাক স্ট্রেসিং এবং গুয়া শা নামের এক পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে শেষ পর্যায়ে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

জুলাই মাসে জু টিং তার এ অবস্থার কথা মানুষকে জানান। তার অফিসিয়াল উইবো অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লাখ ভক্তকে জানিয়ে দেন। চিকিৎসার গোটা পদ্ধতি অনলাইনে জানান দিতে থাকেন। গতানুগতিক চাইনিজ পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেওয়ার ছবিগুলো প্রকাশ করেন।

সোশাল মিডিয়ায় লাখ লাখ মানুষ তার চিকিৎসার বিষয়গুলো দেখতেন। একজন লিখেছেন, চাইনিজ ওষুধ মোটেও কাজের নয়। এর চেয়ে আধুনিক চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

আরেকজন লিখেছেন, পুরনো পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা উচিত। এটা একটা কল্পনামাত্র। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর ভরসা আনতে হবে।

জু টিং ছিলেন সাত ভাই-বোনের একজন। বলেছিলেন, তার গোটা ক্যারিয়ার পার করেছেন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে। কখনো নিজের জন্য অর্থ খরচ করেননি।

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে। অবশ্য অনেকে বলছেন, তার মৃত্যুর জন্য গতানুগতিক চাইনিজ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দায়ী করে লাভ নেই। কারণ অসংখ্য মানুষ কেমোথেরাপি নিয়েও মারা গেছেন। চাইনিজ মেডিসিন হাজার বছরের পুরনো। পশ্চিমা চিকিৎসকরা সব সময় যা বলেন তাও সত্যি নয়।

আবার অনেকে বলছেন, জু টিংয়ের উভয় থেরাপি নেওয়ার দরকার ছিল। কেমোথেরাপির মাধ্যমে তার টিউমার দূর করা হতো আর চাইনিজ পদ্ধতিতে উপশম ঘটতো বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
সূত্র : বিবিসি

 


মন্তব্য