kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিফটি শেডস অফ গ্রে সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:২৪



ফিফটি শেডস অফ গ্রে সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার

আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই “ফিফটি শেডস অফ গ্রে” সম্পর্কে শুনে থাকবেন। সিনেমাটি “ফিফটি শেডস” নামক একটি বেস্ট সেলার সিরিজ উপন্যাসের প্রথমটির গল্প অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে।

“ফিফটি শেডস” প্রেসিডেন্ট ডে উইকএন্ডে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড করেছিল। এক উইকএন্ডেই এর আয় ছিল ৯৪ মিলিয়ন ডলার।
শতকোটিপতির সঙ্গে এক কলেজ ছাত্রীর প্রেমে পড়ার গল্প ঘিরে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে। যে পরে ওই শতকোটিপতির যৌন দাসত্ব এবং আধিপত্যের বেড়াজালে আটকে পড়ে। আপনার হয়তো উপন্যাসটি পড়া কিংবা ছবিটি দেখারও কোনো পরিকল্পনা নেই। সুতরাং আপনার জন্য রইলো এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
“ফিফটি শেডস অফ গ্রে” কী সম্পর্কিত গল্প?
ইএল জেমস এর ইরোটিক এই উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে কলেজ শিক্ষার্থী আনাস্তাসিয়া স্টিলির দিকে থেকে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগে তিনি রহস্যময় এবং বিয়ের উপযুক্ত শতকোটিপতি ক্রিস্টিয়ান গ্রের সাক্ষাৎকার নেন তার স্কুল পেপারের জন্য। তিনি সাংবাদিকতায় পড়ছিলেন না। সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার কথা ছিল সাংবাদিকতায় পড়ে তার এমন এক রুমমেটের। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আনাস্তাসিয়া তার হয়ে সাক্ষাৎকারটি করতে যান।
প্রথম দেখার পর থেকেই আনা ক্রিস্টিয়ান গ্রেতে অভিভুত হয়ে পড়েছিলেন। ক্রিস্টিয়ান যখন আনার টেপ রেকর্ডার নিয়ে উসখুস করেছিলেন তখন স্নায়বিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ায় আনা চোখমুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল এবং ঘাম ঝরতে শুরু করে। তার সামনে কথা বলতে গিয়েও আনা তোতলাতে শুরু করেন। আর ক্রিস্টিয়ানের শান্ত কিন্তু কঠোর মেজাজ আনার হার্টবিটও বাড়িয়ে দিচ্ছিল কয়েকগুন।
স্বাভাবিকভাবে ক্রিস্টিয়ানও আনার প্রতি ঝুঁকে পড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু ঠিক কী কারণে তা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছিল না। আনা ছিল অস্থির প্রকৃতির। কলেজের পড়া শেষ করার পর কী করবে সে ব্যপারেও তার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আর আনা কিছুটা অগোছালোও ছিল। কিন্তু কথা বলার ফাঁকে আনা যখনই তার নিচের ঠোঁটটি কামড়ে ধরতেন তা দেখে কী এক অজানা কারণে যেন ক্রিস্টিয়ান নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারতেন না।
এরপর একদিন ক্রিস্টিয়ান আনার কর্মস্থলে গিয়ে হাজির হন। প্রায়ই দামি সব উপহার কিনে পাঠান। ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে করে ঘুরতে নিয়ে যান। এতে আনার আশে-পাশের অন্যান্য পুরুষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে।
রোমান্টিক, তাই না?
কিন্তু এখানেই গল্পের মোচড়।
একটা সময়ে ক্রিস্টিয়ানের অবিবাহিত থাকার কারণ জানা যায়। তিনি আসলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দাসত্ব ও আধিপত্য চান এবং ধর্ষকামী ও মর্ষকামী লোক। আনাকেও ক্রিস্টিয়ান তার নিজের প্রতি আনুগত্যশীল বানাতে চায়।
এই সিনেমার পটভুমি অনেকটা ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা “সেক্রেটারি”র মতো।
আনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়ে একটি গোপন চুক্তির খসড়া তৈরি করেন ক্রিস্টিয়ান। এতে নিরাপদ শব্দ এবং সীমা আছে। আর দুজনকে যেসব ধরনের যৌন তৎপরতায় লিপ্ত হতে হবে তার বিস্তারিত বিবরণও দেওয়া আছে।
প্রথম বই এবং সিনেমাজুড়ে দীর্ঘকালীন ওই চুক্তিতে সাক্ষর করবেন কি করবেন না তা নিয়ে আনার সিদ্ধান্তহীনতার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়।
হ্যাঁ। একটির বেশি বই আছে। আপনি যদি ভেবে থাকেন এই সিনেমা দেখেই আপনি মুক্তি পাবেন তাহলে আপনি ভুল ভেবেছেন! এই উপন্যাস সিরিজের আরো দুটি বই আছে। দ্বিতীয়টির নাম “ফিফটি শেডস ডার্কার” এবং “ফিফটি শেডস ফ্রিড”।
আর আপনি বাজি ধরতে পারেন আরো সিনেমা আসছে। প্রথম সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ২৬৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

“টোয়ালাইট” এর ওপর ভিত্তি করে এর গল্প তৈরি হয়েছে!
আপনি “টোয়ালাইট” এর লেখক স্টেফানি মেয়ারকে “ফিফটি শেডস” এর গল্প গড়ে ওঠার পেছনে ভুমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ দিতে পারেন।
“ফিফটি শেডস” এর প্রথমদিককার খসড়ার নাম ছিল “মাস্টার্স অফ দ্য ইউনিভার্স”। টোয়ালাইট উপন্যাসের মুখ্য দু্ই চরিত্র বেলা এবং এডওয়ার্ডের পরিপ্রেক্ষিত থেকে এর গল্প গড়ে ওঠে।
আনাস্তাসিয়া স্টিলির জায়গায় ছিল বেলা। যে এক অন্ধকার মনের অধিকারি মানুষের খপ্পরে পড়ে এবং সহিংস সম্পর্কের ফাঁদ এবং বেড়াজালে আটকে যায়। গ্রের ভুমিকায় ছিল এডওয়ার্ড। গ্রে ছিল অমর, বিষদাঁতওয়ালা এবং সাদা ফ্যাকাশে ত্বকের অধিকারি। ওই দুটি চরিত্রই পরে আনা আর ক্রিস্টিয়ানে রুপান্তরিত হয়।
নারীরা কেন গল্পটি এতো পছন্দ করেন?
উপন্যাসটির লেখার ধরন খুব ভালো নয়। তিন খণ্ডের এই উপন্যাসটি মূলত কারো মাথায় লেখা থাকা কল্পনা এবং কথপোকথনের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গল্প নিয়ে।
কিন্তু সিনেমাতে উপন্যাসের যৌন দৃশ্যগুলোর মতো করে হবহু চিত্রায়ন করা হয়নি। কারণ উপন্যাসের বইয়ে সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা যৌন দৃশ্য ছিল।
এই কল্পনা এবং কথপোকথনগুলো কী নিয়ে ছিল?
প্রথম বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫০০-রও বেশি। বইটির বেশিরভাগই আনা এবং ক্রিস্টিয়ানের মধ্যে চালাচালি হওয়া খুদে বার্তা এবং টেক্সট ম্যাসেজে পূর্ণ ছিল। এগুলোর বিষয়বস্তু ছিল হালকা প্রেম-যৌনতা এবং তুচ্ছ সব ইস্যু। বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে চালাচালি হওয়া ম্যাসেজের মতো নোংরা ম্যাসেজে পূর্ণ ছিল।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য