kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টিভি সিরিজে নগ্নতার নতুন ট্রেন্ড!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:১৬



টিভি সিরিজে নগ্নতার নতুন ট্রেন্ড!

ব্রিটিশ টেলিভিশন ড্রামা সিরিজ 'পলডার্ক' বিবিসি ওয়ানের ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ২০১৫ সালে। এর দশ পর্বের নতুন সিরিজে আইড্যান টার্নারের রস পলডার্কের জন্য বসে রয়েছেন অনেক দর্শক।

কর্নওয়ালের পলডার্ক খনিতে এ সিরিজের বেশ শুটিং চলে। এতে কর্নওয়ারের পর্যটেন শিল্প বেশ স্ফীত হয়েছে। উইনস্টন গ্রাহামের উপন্যাসকে পর্দায় দেখতে রয়েছে ৯.৫ মিলিয়ন দর্শক।

টার্নারের সহ অভিনেত্রী হেইডা রিড। তিনি পলডার্কের ছোটকালের প্রেমিকা এলিজাবেথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নতুন সিরিজে টপলেস দৃশ্যায়ন বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে হেইডা পলডার্ককে কেবল টপলেস বিষয় হিসাবে না নিতেই দর্শকদের অনুরোধ করেছেন। আরো জানান, পলডার্কের শার্ট খুলে ফেলার বিষয়টি স্ক্রিপ্টে ছিল না। এটা সে নিজেই করেছিল।

শুটিং হয়েছিল দারুণ গরমের একটা দিনে। ২০১৫ সালে পলডার্কের সফলতার পেছনে টার্নারের সেক্স আপিলকে খাটো করে দেখা যায় না।

লিও টলস্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিসকে যখন টেলিভিশনে আনা হয়, তখন একে যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থের এক সিরিজ বলেই মন্তব্য করেন সমালোচকরা। অ্যান্ড্র ডেভিসের এই প্রোডাকশন দর্শকের ধারণা চেয়েও বেশি নারী-পুরুষকে নগ্ন করেছে। এক সিরিজে দেখা গেছে, এক সেনা পুকুরে গোসল সেরে নগ্ন হয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তখন তার পুরুষাঙ্গটা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। তখন থেকে এই অনুষ্ঠানকে 'প্রাইম টাইম পেনিস' বলে অভিহিত করা হয়।

ওয়ার অ্যান্ড পিস-এ জেমস নর্টন কয়েকজন তারকার একজন যিনি দেহে বস্ত্র রাখতে পেরেছিলেন। তবে পলডার্ক অভিনেতাদের সামলে থাকতে বেশ চাপের মুখে রেখেছে।

ব্রিটিশ টেলিভিশনে দৈহিক সৌন্দর্য প্রকাশ বেশ সুন্দর বিষয় বলেই মনে করা হয়। তবে এ বিষয়টি বিগত বছরগুলোতে নারীদের সৌন্দর্য প্রকাশেই প্রযোজ্য হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আইটিভি ড্রামা গ্র্যান্টচেস্টার সিরিজে সাঁতারের দৃশ্যে পোশাক খুলেছেন রবসন গ্রিন। এর আগে দেহটাকে আবেদনময়ী করতে অবশ্য শরীরচর্চা কেন্দ্র হয়ে এসেছেন।

বিবিসি ড্রামা দ্য নাইট ম্যানেজার আরেক অভিনেতা টম হিডেলস্টোনকে জেমস বন্ডের প্রতিযোগী চরিত্রে দাঁড় করিয়ে দেন। সেখানে দারুণ অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যায় এক যৌনদৃশ্যে তার নিতম্ব দেখানোর ঘটনা।

কেবল ইউরোপিয়ান টিভি সিরিজগুলোই নগ্ন গ্রহণ করে নিয়েছে তা নয়। অনেক দেশের টিভি সিরিজ পুরুষদের নগ্নতাকে ফ্রি করে দিতে বলা হচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে তারকা এমিলিয়া ক্লার্ক এ বিষয়কে সমর্থন জানান।

আসলে এর মাধ্যমে কি অভিনেতারা জনপ্রিয় হতে চাইছেন? বিষয়টা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা সমতার বিষয়। কেবল নারীরাই কেন নগ্ন হবে? পুরুষরা কেন নয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসলে গোটা বিষয় নির্ভর করে অভিনেতা-অভিনেত্রী আর দর্শকের ওপর। যদি তাদের নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে সমস্যা না থাকে এবং দর্শক দেখতে চান, তবে সমস্যা কোথায়?

তবে পলডার্কের এই সিরিজে আর অর্ধনগ্ন দৃশ্য দেখা যাবে না। কারণ ইতিমধ্যে রস এই দৃশ্যায়নের জন্য ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। নির্মাতারাও রয়েছেন সতর্ক। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য