kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেধা না থাকলে শরীর দেখিয়ে বলিউডে টেকা যায় না :জ্যাকুলিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:০৯



মেধা না থাকলে শরীর দেখিয়ে বলিউডে টেকা যায় না :জ্যাকুলিন

তিনি মেধাবী এতে কোনো সন্দেহ নেই। তার অভিনীত প্রতিটি ছবিতেই সেই মেধার সাক্ষর রেখে চলছেন।

রিতেশ দেশমুখের বিপরীতে সেই ২০০৯ সালে ‘আলাদীন’ দিয়ে তার অভিষেক। চলতি বছর ‘ঢিসুম’ এবং কমোডি ছবি ‘হাউসফুল’-এর তিন নম্বর সিক্যুয়ালে অক্ষয়ের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। মুম্বাইয়ের একটি ইংরেজি পত্রিকাকে দেওয়া জ্যাকুলিনের সাক্ষাতকারটির চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

কেমন লাগল ‘ঢিসুম’-এ কাজ করে?

‘ঢিসুম’ একটি মজার এবং অ্যাকশনধর্মী ছবি। এখানে আমার চরিত্রটি ‘টমবয়’ টাইপের। খুবই রহস্যজনক এবং বিদ্রোহী ধরনের চরিত্র। খুবই উপভোগ করেছি। আসলে রোহিতের (ধাওয়ান) পরিচালনায় কাজ করা বেশ মজার।

জন আব্রাহাম এবং বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে আপনার মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হয়নি?

জনের (আব্রাহাম) সঙ্গে আমি এর আগেও কাজ করেছি। তাই ওর সঙ্গে তো আমার একটা সম্পর্ক আছেই। আর বরুণের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। কিন্তু বরুণ এমন একজন পরিচালক যার সঙ্গে যে কেউ সহজেই কাজ করতে পারবে। সে খুবই ভাল একজন পরিচালক। খুবই হাসিখুশি, বন্ধুভাবাপন্ন এবং হেল্পফুল। তাই তিনজনের বেশ জমে গিয়েছিল।

ছবিটতে আপনাকে কয়েকজনের পেছনে লাথি মারতে দেখা গেছে...

হ্যাঁ, এই দৃশ্যগুলো খুব মজার ছিল। তবে এর জন্য আমাকে সত্যি সত্যি লাথি কষাতে হয়নি। বিশেষ ব্যবস্থায় এই দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়েছিল। তাই শারীরিক প্রস্তুতির কোন প্রশ্নই আসে না। তবে খুব এনজয় করেছি।

একটি সফল সিনেমার জন্য কোন বিষয়টিকে আপনি জরুরী মনে করেন?

এটা আসলে সব ভাল মিলিয়ে একটা প্যাকেজ তৈরি করার মত ব্যপার। আপনাকে সবসময় সঠিক এবং সবচেয়ে দক্ষ মানুষগুলোকেই লাগবে। সে নতুন কিংবা পুরাতন সেটা দেখার বিষয় নয়। এসব ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন ছবির পরিচালক।   পরিচালক হলেন ছবির এবং সংশ্লিষ্ট অভিনয়শিল্পী-কলাকুশলীর কাছে ঈশ্বর। তার একটা সিদ্ধান্ত অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে। তাই পরিচালক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারপর অভিনেতা অভিনেত্রী ইত্যাদি বিষয় আসে।

আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?

ইতিবাচক মনোভাব। এটাই আমার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। আমি সবসময় ইতিবাচক। যখন পরিস্থিতি আমার প্রতিকুলে থাকে তখনও আমি পজেটিভ থাকি। আমি মনে করি খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে হলে পজেটিভ থাকার বিকল্প নেই।

আপনি কখনো এমন সময় পার করেছেন যখন আপনার মেধার চাইতে সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো?

ওয়াও! আমি সুন্দরী! এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় সম্মান (হাসি)। বেশিরভাগ মানুষই সৌন্দর্যের পেছনে ছুটে। তারাই সৌন্দর্য নিয়ে নানারকম গল্প ফাঁদে। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু সৌন্দর্য দিয়ে টিকে থাকা যায় না। অবশ্যই অবশ্যই এবং অবশ্যই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। আপনাকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে হবে।

একজন অভিনেত্রীর জন্য সৌন্দর্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আসলে সৌন্দর্যের সঙা দেওয়া কঠিন। দৈহিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। তবে আমার মনে হয় সুন্দরী নায়িকার চাইতে মেধাবী এবং অভিনয় জানে এমন অভিনেত্রীর জন্যই দর্শকরা পাগল হয়। শরীর দেখিয়ে বেশিদিন বলিউডে টেকা যায় না। সম্মানও পাওয়া যায় না। যখন আপনি আপনার অভিনয়ের ট্যালেন্ট দেখাবেন তখনই আপনি সুপারস্টার।

আর মস্তিষ্ক? ওটার কার্যাবলী সম্পর্কে বলুন...

অবশ্যই বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাল অভিনয়শিল্পীদের একটা সাধারণ জ্ঞান থাকে যে কোন সিনেমায় গেলে তা ভাল হবে আর কোনটা ক্যারিয়ারে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। অনেক কিছু বিচার বিবেচনা করার আছে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় স্ক্রিপ্ট খুব ভাল, কাস্টিংও ভাল কিন্তু ডিরেক্টরের পারফর্মেন্স খুবই বাজে। তখনে অনুমিতভাবেই সিনেমাটি ফ্লপ করবে। এটা খুব জটিল একটা অঙ্ক। এসব বিষয়ে খেয়াল রাখাটা খুব জরুরী।

সাম্প্রতিক এমন কী কোন মুভি আছে যাতে অভিনয় করতে পারলে আপনার ভাল লাগত?

দেখুন একটা চরিত্রের জন্য যখন একজন অভিনয়শিল্পীকে নির্বাচন করা হয় তখন বুঝতে হবে যে তিনিই সেই চরিত্রের জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট। তবে হ্যাঁ, ইচ্ছে তো হয়েছেই। ‘বাজিরাও মাস্তানি’-তে কাজ করার খুব ইচ্ছে ছিল। আমি সঞ্জয় লীলা বনাসালির সঙ্গে কাজ করার জন্য মরিয়া। তার সমস্ত ছবি কালোত্তীর্ণ। উনার ‘দেবদাস’ ফিল্মটি দেখেই বলিউড সম্পর্কে আমার ধারণা হয়। উনি সত্যিই অসাধারণ একজন পরিচালক।

বলিউডে কাউকে বিশ্বাস করা কি খুব কঠিন?

না, আমি তা মনে করি না। ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কারণ আমাদের মাঝে একইসঙ্গে বন্ধুত্ব এবং প্রফেশনাল সম্পর্ক থাকে। দুটোকে একসঙ্গে মানিয়ে চলা তাই মাঝেমধ্যে কঠিন হয়ে যা। যাই বলুন, দিন শেষে বলিউড মানে ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনার যদি মেধা থাকে, সেই মেধার যদি প্রকাশ ঘটাতে পারেন, দর্শকরা তখন আপনাকে ভালভাবে গ্রহণ করবে, এবং আপনি তখন সফল।

বলিউড থেকে আপনি সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি শিখেছেন?

 আমি বলব ‘নো পেইন নো গেইন’। আপনি যত মুভিতে কাজ করবেন ততই আপনাকে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হবে। ত্যাগ বলতে ছবিতে নিজের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে। একসময় ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকবে না। এখানে একঅর্থে কোনো ভবিষ্যত নেই যদি আপনি নিজে সেটা তৈরি না করেন। প্রতিটি ফিল্মে আমি আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই কাজ করি। তাই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। কারণ আমি প্রতিবারই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চাই।


মন্তব্য