kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমার দ্বারা নগ্ন হওয়া সম্ভব না: আলিয়া ভাট (সাক্ষাতকার)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫১



আমার দ্বারা নগ্ন হওয়া সম্ভব না: আলিয়া ভাট (সাক্ষাতকার)

প্রখ্যাত পরিচালক মহেশ ভাটের মেয়ে হিসেবেই বলিউডে তার পরিচিতি ছিল। ধীরে ধীরে নিজ যোগ্যতায় নিজের অভিনেত্রী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন আলিয়া ভাট।

ইতোমধ্যেই তার মেধা নিয়ে সকলের মাঝেই আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিং খান শাহরুখের সঙ্গেও অভিনয় করতে যাচ্ছেন। এসবই কিন্তু তার নিজ যোগ্যতায়। সেলিব্রেটি ম্যাগাজিন স্টারডাস্ট-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকার বলেছেন অনেক অজানা কথা। পাঠকদের জন্য তার কিছু অংশ :

শিশুশিল্পী হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

হ্যাঁ, শিশু শিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও আমার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। ভবিষ্যতে আমি অনেক বড় অভিনেত্রী হতে চাই। এমন কিছু করতে চাই যা অসাধারণ ইতিহাস হয়ে থাকবে। বাবার প্রোডাকশন হাউজের মাধ্যমে অভিনয়ে আসলেও আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হলো করণ জোহরের সঙ্গে পরিচয় হওয়া। এরপর যা হলো, সেটা আমার কল্পনারও অতীত ছিল।

তাহলে দীপিকা পাডুকোনের জায়গাটি দখল করার ইচ্ছে আছে?

(হাসি) দেখুন উনি অনেক ভাল একজন অভিনেত্রী। আমি অবশ্যই এক নম্বরে যেতে চাই; তবে কাউকে চ্যালেঞ্জ করে নয়। আমি আমার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক-ভক্তদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই। এটা অনেক সময়ের ব্যাপার। আমি এই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

আপনি নাকি কাজের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস?

আসলে আমি যখন যেমন তখন তেমন। আমি যখন খুশি থাকি তখন আমার মত খুশি কেউ থাকে না। আমি যখন হাসি তখন আমার মত হাসি কেউ হাসতে পারে না। আবার আমি যখন সিরিয়াস হই তখন অন্য কোন বিষয়ে মনযোগ থাকেনা। তাই আমি একটু বেশিই সিরিয়াস (হাসি)।

‘উড়তা পাঞ্জাব’-এ আপনার চরিত্রটি নন-গ্ল্যামারাস ছিল; যে যৌন নির্যাতনে শিকার হয়েছিল। এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে সমস্যা হয়নি?

সমস্যা হবে কেন? আমি চরিত্রটিকে প্রথম বোঝার চেষ্ঠা করেছি। একটি মেয়ের চরিত্র যে কিছু অমানুষের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই বিষয়টিই আমাকে এবং আমার সহশিল্পীদের পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আছে। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। আর ক্যারেক্টার গ্ল্যামারাস নাকি নন গ্ল্যামারা সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। আমি ভাবি ভাল কিছু করতে।

আপনার বাবা মহেশ ভাট এমন একজন ব্যক্তি যার কাছে বলিউডের সবাই পরামর্শের জন্য যায়। আপনার ক্যারিয়ারে তার পরামর্শের প্রভাব কতটুকু?

পুরোপুরি। কিন্তু আমি তো বিখ্যাত পরিচালক মহেশ ভাটের কাছ থেকে পরামর্শ নেই না। তিনি আমার বাবা। আর বাবা সন্তানকে সবসময় আগলে রাখবে এটাই স্বাভাবিক। আমি বাবাকে খুব ভালবাসি। তিনিও আমার  নাম বলতে পাগল (হাসি)। আমি আর বাবা একেবারে বন্ধুর মত। খুব শক্তিশালী আমাদের সম্পর্ক। যেকোন বিষয়ে আমার একমাত্র ভরসা আমার বাবা।

আপনি সমালোচনা কীভাবে নেন? সেটা হতে পারে ইন্ডাস্ট্রি অথবা আপনার পরিবার...

আমি প্রকাশ্যে সবসময়ই সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। ভাল-মন্দ মিলিয়েই আমি আলিয়া ভাট। সঠিক সমালোচনা আমার জন্য সুফল বয়ে আনবে-এটাই আমি মনে করি। অনেকেই গঠনমূলক সমালোচনা না করে আজেবাজে মন্তব্য করেন। আমি সেগুলোকে পাত্তা দেই না। যে মানুষের স্বভাব যেমন সে তো তেমন মন্তব্যই করবে। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। তারা আমার অভিনয়ের ত্রুটিগুলো নিয়ে আলোচনা করে। আমি সেগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্ঠা করি।

আপনি তো বলিউড বাদশার সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে যাচ্ছেন?

ওফ! এটা অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। উনি সত্যিই বলিউডের বাদশা। পর্দার বাইরেও তিনি একজন ভাল মানুষ। শুটিং স্পটে তিনি খুবই আন্তরিক এবং সহযোগিতামুলক মানসিকতার। এটা আমার স্বপ্ন ছিল। এত দ্রুত যে বাস্তব হবে ভাবিনি।

কোনো সিনেমায় যদি নগ্ন দৃশ্য থাকে আপনি কাজ করবেন?

আমার মনে হয়না আমি এধরণের দৃশ্যে অভিনয় করতে পারব। এমনিতেই ব্যক্তিগত ব্যপারগুলোতে আমি ভীষণ লাজুক। নগ্ন দৃশ্যে আমি কমফোর্ট  ফিল করব না। তাই আমার দ্বারা নগ্ন হওয়া সম্ভব না।

আপনি কি নারীপ্রধান সিনেমায় কাজ করতে চান?

আমি নারীপ্রধান পুরুষপ্রধান বুঝিনা। আমি শুধু বুঝি সিনেমা এবং এর চরিত্র।


মন্তব্য