kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে ১৮টি মহান সিনেমা আর বানানো হয়নি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৫



যে ১৮টি মহান সিনেমা আর বানানো হয়নি

যত সিনেমা নির্মিত হয়েছে তার প্রতিটিতেই এমন শতশত প্রত্যাখ্যাত চিত্রনাট্য, ধারণা, স্ক্রিন টেস্ট ছিল যেসব কখনো চিত্রায়িত হয়নি। কিন্তু অনেক সময়ই একজন সিনেমা নির্মাতা এমন কোনো উচ্চাভিলাষী বা আকর্ষণীয় স্বপ্ন দেখেন যা হয়তো বাস্তবায়িন সম্ভব হয়নি।


এমনকি মহান সিনেমা নির্মাতা স্টেনলি কুব্রিক এবং গুইলারমো ডেল টোরোও অনেক সময় তাদের স্বপ্নের সিনেমাটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পান নি। তেমনি কিছু মহান উপন্যাস, উপন্যাস হতে চেয়েও আর হতে পারেনি।
এমন বিস্ময়কর ১৮টি সিনেমা রয়েছে যেগুলো নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও আর নির্মিত হয়নি। শুধু মহান সিনেমা নির্মাতাদের মহান ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বরং এই সিনেমাগুলি নির্মিত হওয়ার দিকেও বেশ কয়েক কদম এগিয়েছিল। কিন্তু শেষমেষ আর সিনেমাগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

১. স্ট্যানলি কুব্রিকের “নেপোলিয়ন”
সিনেমাটি নির্মিত হলে এটিই হতো স্ট্যানলি কুব্রিকের সবচেয়ে বড় সিনেমা। সিনেমাটি নির্মাণের প্রস্তুতির জন্য কুব্রিক কয়েক দশক সময় ব্যয় করেছেন। এতে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পুরো জীবনী তুলে ধরা হত।
এর আগে রড স্টেইগারের ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক সিনেমা “ওয়াটারলু” ১৯৭০ এর দশকে থিয়েটারে মুক্তি পায়। কিন্তু ব্যয়বহুল ওই সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। ওয়াটারলুর ব্যর্থতা দেখেই কেউ আর নেপোলিয়ানের মতো আরেকটি মহাকাব্যিক সিনেমায় আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে কুব্রিক জীবনভরই সিনেমাটি বানানোর স্বপ্ন দেখে গেছেন। ১৯৯৯ সালে ৭০ বছর বয়সে কুব্রিকের মৃত্যু হয়।
তবে সিনেমাটি এখনো নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্টিফেন স্পিলবার্গ এইচবিওর জন্য একটি মিনিসিরিজ আকারে প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করতে চাইছেন। ডেভিড লিল্যান্ড স্ক্রিপ্ট হালনাগাদের কাজ করছেন। আর অ্যাং লি, বাজ লাহর্ম্যান, ক্যারি ফুকুনাগা, রিডলি স্কট এবং রুপার্ট স্যান্ডার্সের মতো নামকরা পরিচালকরা সিনেমাটি পরিচালনা করতে পারেন। ওদিকে কুব্রিকের ১৯৬৯ সালের চিত্রনাট্যটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

২. জর্জ মিলারের অ্যা “জাস্টিস লিগ”
২০০৭ সালে ওয়ার্নার ব্রোস পরিকল্পনা করেছিল, “ম্যাড ম্যাক্স” এর পরিচালক জর্জ মিলারকে দিয়ে “জাস্টিস লিগ: মর্টাল” সিনেমাটি বানানো হবে।
সিনেমাটিতে সুপার ম্যানের ভুমিকায় ডি.জে. কর্টোনা, আর্মি হ্যামহার ব্যাটম্যান, মেগান গেইল ওয়ান্ডার ওম্যান, অ্যাডাম ব্রোডি দ্যা ফ্ল্যাশ, কমন গ্রিন ল্যান্টার্ন, সান্তিয়াগো ক্যাবেরা অ্যাকুয়াম্যান এবং আরো অনেক সুপার হিরোর থাকার কথা ছিল।
কিন্তু সিনেমাটি বানানোর আর সময় হয়ে ওঠেনি। লেখকদের ধর্মঘটে ওয়ার্নার ব্রোসের সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে সিনেমাটির এখনো নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৭ সালে জ্যাক স্নাইডার এর পরিচালনায় সিনেমাটি নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে ওয়ার্নার ব্রোসের ব্যানারেই।
৩. “দুনে”, আলেজান্দ্রো জদোরস্কি
১৯৭০ সালে ফ্র্যাঙ্ক হার্বাটের কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস “দুনে” নিয়ে একটি সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করেন প্রযোজক আর্থার জ্যাকবস। এর জন্য তিনি “দ্য হলি মাউন্টেন” এবং “এল টোপো” সিনেমার মতো বিখ্যাত সিনেমার নির্মাতা অালেজান্দ্রো জরোদস্কিকে পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। জরোদস্কি সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য স্যালভাদর ডালি, অরসোন ওয়েলেস, গ্লোরিয়া সোয়ানসন, ডেভিড ক্যারেডিন, মিক জ্যাগার, অ্যামান্ডা লিয়ার এবং পিঙ্ক ফ্লয়েডের মতো বিখ্যাত লোকদের রাজি করাতে সক্ষম হন।
কিন্ত সিনেমাটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় এতো বেশি ছিল যে, তা বাস্তবায়িত করাটা প্রায় অসম্ভবই ধরে নেওয়া হয়। আর জরোদস্কির বানানো আগের সিনেমাগুলোও খুব একটা ব্যবসা সফল হতে পারেনি। ফলে জরোদস্কির প্রকল্পটি আর অনুমোদন পায়নি।
অবশ্য পরে প্রযোজক আর্থার জ্যাকব ডেভিড লিঞ্চকে দিয়ে সিনেমাটি তৈরি করান। ১৯৮৪ সালে “দুনে” মুক্তি পায় কিন্তু ব্যবসা সফল হতে পারেনি।
৪. “গ্ল্যাডিয়েটর টু”, রিডলি স্কট
রাসেল ক্রো অভিনীত ২০০০ সালের সিনেমার সিক্যুয়েল হত এটি। প্রথম সিনেমাতে রাসেল ক্রোর চরিত্রটি মারা যায়। কিন্তু নিক কেভ লিখিত স্ক্রিপ্টে সিনেমাটির সিক্যুয়ালে ম্যাক্সিমাসের পুণরুত্থান ঘটে একজন অমর যোদ্ধা হিসেবে। যিনি যিশু খ্রিস্টকে হত্যা করতেন এবং রোমান যুগ থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন সংঘর্ষে অংশ গ্রহণ করতেন। সিনেমাটির নাম ছিল, “ক্রাইস্ট কিলার”।
কিন্তু সিনেমাটিতে ধাতব বস্তুর ব্যবহার এতোটাই বেশি হত যা মুভি স্টুডিওগুলোর পক্ষে বানানো সম্ভভ ছিল না।
৫. “দ্য কনকোয়েস্ট অফ মেক্সিকো”, ওয়ার্নার হারজোগ
“ফিটজক্যারালডো”, “অ্যাগুইরে” এবং “দ্য র‌্যাদ অফ গড” এর মতো বিখ্যাত সব সিনেমার নির্মাতা ওয়ার্নার হারজোগ মেক্সিকোতে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ার ইতিহাস নিয়ে একটি সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন। মায়া সভ্যতার উত্তরসুরি মেক্সিকোর স্থানীয় বাসিন্দা আজটেকদের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে তিনি সিনেমাটি বানাতে চেয়েছিলেন।
ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা ১৯৭০ এর দশকে সিনেমাটি বানানোর জন্য অর্থায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৯৮২ সালে “ওয়ান ফ্রম হার্ট” সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিতে ধ্বস নামে। ফলে হারজোগের জন্য যে ২০ মিলিয়ন ডলারের দরকার ছিল তা যোগাড় করতে পারেননি তিনি।
৬. “অ্যাট দ্য মাউন্টেইনস অফ ম্যাডনেস”, গুইলারমো ডেল টোরো
এইচ.পি. লাভক্রাফটের উপন্যাস “অ্যাট দ্য মাউন্টেইনস অফ ম্যাডনেস” অবলম্বনে এই হরর সিনেমাটি বানানোর কথা ছিল। এতে টম ক্রুজের অভিনয় করার কথা ছিল। আর সিনেমাটি প্রযোজনা করতেন জেমস ক্যামেরুন।
কিন্তু সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় এবং সম্ভাব্য আয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করতে না পারায় ইউনিভার্সাল পিকচারস পরে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা ত্যাগ করে।
৭. “অ্যান অ্যামেরিকান ট্রাজেডি”, সার্গেই আইজেনস্টাইন
সোভিয়েত ইউনিয়নের মহান সিনেমা পরিচালক একটি মহান অ্যামেরিকান উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি বানানোর কথা ছিল। “অ্যান অ্যামেরিকান ট্রাজেডি” নামের উপন্যাসটির লেখক ছিলেন থিওডর ড্রেইজার।
প্যারামাউন্ট পিকচার্সের নির্বাহী ডেভিড ও. সেলজনিক ১৯৩০ সালে আইজেনস্টাইনের চিত্রনাট্যটি পড়ে দেখেন। কিন্তু সিনেমাটি বানাতে যে অর্থ খরচ হবে তা উঠে না আসার ভয়ে পরে প্যারামাউন্ট পিকচার্স সেটি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
৮. “ড্রাকুলা”, কেন রাসেল
রক্তচোষা ড্রাকুলার গল্প নিয়ে আরেকটি সিনেমা নির্মাণের কথা ছিল “ওমেন ইন লাভ”, “দ্য ডেভিলস” এবং “অল্টার্ড স্টেটস” এর পরিচালক কেন রাসেলের।
১৯৭০ এর দশকে ব্রিটিশ সিনেমা নির্মাতাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রাসেল। কিন্তু তিনি ড্রাকুলা বানানোর আগেই ১৯৭৯ সালে জন ব্যাডহ্যাম প্রথম ড্রাকুলাটি বানিয়ে ফেলেন।
৯. “হার্ট অফ ডার্কনেস”, ওরসোন ওয়েলস
কঙ্গো নদীতে অভিযান পরিচালনাকারী এক ইউরোপীয় নাগরিকের কাহিনী নিয়ে লিখিত জোসেফ কনরাডের উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল।
ওয়েলস এর আরো বেশ কয়েকটি উচ্চাভিলাষী কিন্তু ব্যর্থ প্রকল্পের মতো এটিও এতো বেশি উচ্চাভিলাষী ছিল যে তা পরে পরিত্যক্ত হয়।

১০. “কিল বিল ভলিউম থ্রি”, কোয়েন্টিন টারান্টিনো
“কিল বিল” সিরিজের একটি সিনেমা ছিল এটি। কিন্তু টারান্টিনো ছিলেন অস্থির প্রকৃতির লোক। ফলে তার মাথায় আসা অসংখ্য সিনেমার ধারণা পরে আর বাস্তব রূপ লাভ করেনি। এটির ভাগ্যেও একই পরিণতি হয়েছিল।
১১. “জেনেসিস”, রবার্ট ব্রেসন
“পিক পকেট”, “ডাইরি অফ অ্যা কান্ট্রি প্রিস্ট” এবং “অ্যা ম্যান এসকেপড” এর মতো বিখ্যাত সিনেমার পরিচালক ফরাসি সিনেমা নির্মাতা রবার্ট ব্রেসন বাইবেলিয় জেনেসিস অবলম্বনে সিনেমাটি বানাতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু গল্পের জটিলতার কারণে পরে আর সিনেমাটি বানানো হয়ে ওঠেনি। পরে ১৯৬০ এবং ১৯৮০-র দশকের মধ্যেও সিনেমাটি ভিন্ন আঙ্গিকে বানানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু সে পরিকল্পনাও আলোর মুখ দেখেনি।
১২. “দ্য ম্যান হু কিলড ডন কুইক্সোট”, টেরি গিলিয়াম
“ডন কুইক্সোট” এর আধুনিক দিনের ব্যাখ্যা ছিল সিনেমাটি। কিন্তু সিনেমার ইতিহাসে এটি নির্মাণের প্রচেষ্টাকে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
২০০০ সালে জনি ডেপ এবং জ্যাঁ রোচেফোর্টকে নিয়ে স্পেনে সিনেমাটি নির্মাণের চেষ্টা চালান পরিচালক টেরি গিলিয়াম। কিন্তু শুটিং শুরুর প্রথম সপ্তাহেই জ্যাঁ রোচেফোর্ট মারাত্মকভাবে জখম হলে তার পক্ষে আর কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আর এক আকস্মিক বন্যায় গিলিয়ামের সিনেমা সেটের বেশিরভাগই ভেসে যায়। এরপরে আইনী সমস্যার কারণে আর সিনেমাটি বানাতে পারেননি টেরি গিলিয়াম।
তবে গত বছর সিনেমাটি নির্মাণের জন্য ফের ১৮ মিলিয়ন ডলার যোগাড় করেন টেরি গিলিয়াম। অ্যামাজোনের সঙ্গে ছবিটির বিতরণ নিয়েও একটি চুক্তি হয়েছে। অ্যাডাম ড্রাইভার এবং ওলগা কুরিলেঙ্কোকে সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। আগামী অক্টোবরেই শুটিং শুরু হতে পারে।
১৩. “ব্লাড মেরিডিয়ান”
পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত করম্যাক ম্যাকার্থির উপন্যাস “ব্লাড মেরিডিয়ান” অবলম্বনে সিনেমাটি বানানোর কথা ছিল। মানুষের মাথার খুলি শিকারিদের সঙ্গে জড়িত এক কিশোরের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে উপন্যাসটির কাহিনী। যারা ১৮০০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় আমেরিকানদের ওপর গণহত্যাযজ্ঞ চালায়।
উপন্যাসটির কাহিনী চরম সব সহিংসতায় ভরপুর ছিল। যে কারণে বেশ কয়েকজন পরিচালক এটিকে সিনেমায় রূপদানে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এরপরও বেশ কয়েকবার উপন্যাসটিকে সিনেমায় রূপদানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবগুলো প্রচেষ্টাই এর চরম সহিংসতাপূর্ণ দৃশ্যগুলোকে চিত্রায়নের সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়।

১৪. “জেসাস অফ নাজারেথ”, কার্ল থিওডোর ড্রেয়ার
১৯২৭ সালে বিখ্যাত “দ্য প্যাশন অফ জোয়ান অফ আর্ক” বানানোর পর ড্যানিশ সিনেমা নির্মাতা কার্ল থিওডোর ড্রেয়ার যিশু খ্রিস্টের জীবনীমূলক একটি সিনেমা বানাতে চান। সিনেমাটিতে তিনি যিশু খ্রিস্টকে আরো মানবীয় রূপে হাজির করতে চেয়েছেন। আর ইহুদিরাই যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল এই গুজবটিও খণ্ডাতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু আরো অনেক মহান শিল্পীর মতো ড্রেয়ারেরও তহবিল সংকট ছিল। ১৯৪৯ সালে তিনি এক আমেরিকান প্রযোজকের সহায়তায় সিনেমাটি বানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অবশেষে আর প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় হয়নি।
১৫. “জিরাফস অন হর্সব্যাক স্যালাড”, স্যালভ্যাদর ডালি
মার্ক্স ব্রাদার্সদের নিয়ে একটি পরাবাস্তব কমেডি বানাতে চেয়েছিলেন ডালি। কিন্তু প্রকল্পটি একটু ক্ষ্যাপাটে ধরনের ছিল। যে কারণে গ্রৌচো মার্ক্স ভাবেন সিনেমাটি বানানো সম্ভব নয়।
১৬. “মেগালোপলিস”, ফ্রাঙ্কিস ফোর্ড কোপোলা
“দ্য গডফাদার” এবং “অ্যাপোক্যালিপসে নাউ” খ্যাত পরিচালক ১৯৯০-র দশকের শেষদিকে একটি মহাকাব্যিক সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করেন। এক স্থপতির কাল্পনিক শহর তৈরির গল্প ছিল সিনেমাটির উপজীব্য। এর কাহিনী অনেকটা আয়ান র‌্যান্ডের একটি উপন্যাসের মতো ছিল।
কোপোলা সিনেমাটির প্রস্তুতি পর্ব শেষ করার পরপরই ঘটে ৯/১১-র ঘটনা। ফলে প্রযোজকরা এর বিষয়বস্তুর সাফল্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। এরপরও কোপোলা সিনেমাটি বানানোর প্রকল্প বেশ কয়েকবার পুনরুজ্জীবিত করতে চান। কিন্তু আর সফল হননি।
১৭. “অ্যা কনফেডারেসি অফ ডান্সেস”
জন কেনেডি টুলের কমিক মাস্টারপিস উপন্যাস নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণের কথা ছিল। নিউ অরলিন্সের ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারের বাসিন্দা ইগনেশিয়াস রেইলি নামের এক ভুয়া দার্শনিক শিশুর গল্প নিয়ে লিখিত হয় উপন্যাসটি।
১৯৮০-র দশকে বাজারে আসার পর থেকেই পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী উপন্যাসটি নিয়ে হলিউডে সিনেমা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি।
১৮. “দ্য ক্রুসেডস”, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত এবং পল ভেরহোভেন পরিচালিত
প্রথম ক্রুসেডের সময়কার একটি সহিংস, বিধ্বংসী তলোয়ার এবং স্যান্ডেল মহাকাব্য ছিল এটি। চোর থেকে দাস হওয়া ব্যক্তি যিনি মুসলিমদের দখল থেকে জেরুজালেম উদ্ধারে ১০৯৫ সালের লড়াইয়ে খ্রিস্টান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন; এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের। কিন্তু সিনেমাটির কাহিনী অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির ওপর মন্তব্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনামূলক ভাষ্যের মতো ছিল।
কারকোলো পিকচার্স সিনেমাটি বানানোর ব্যাপারে উদ্দীপিত ছিল। এবং ১৯৯৩ সালে পরিচালক ভেরহোভেনকে সিনেমাটির প্রাক প্রস্তুতির জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার দেয়। কিন্তু খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভেরহোভেন মোট ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট দেন। ওদিকে কারকোলো পিকচার্স “কাটথ্রোট আইল্যান্ড” নামের একটি ব্যয়বহুল পাইরেট মুভি বানানো পরিকল্পনা করে। ফলে “দ্য ক্রুসেডস” এর কাজ স্থগিত করা হয়। আর ভেরহোভেনকে আরো কম খরচে “শোগার্লস” বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। “শোগার্লস” এবং “কাটথ্রোট আইল্যান্ড” দুটো সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলে কারকোলো পিকচার্স দেউলিয়া হয়ে পড়ে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য