kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঋত্বিক ঘটককে ঘুষি মেরেছিলেন সৌমিত্র!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১১



ঋত্বিক ঘটককে ঘুষি মেরেছিলেন সৌমিত্র!

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক প্রসঙ্গে কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বক্তব্য’‌ নিয়ে ঝড় উঠেছে সোশ্যাল সাইটে। ভারতের একটি অনলাইন পত্রিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে বিতর্কিত এবং বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য।

‘‌লাইভ মিন্ট’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সাক্ষাতকারে দাবি করা হয়েছে ‌সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “সত্যজিৎ রায়কে অপমানজনক কথা বলায় প্রকাশ্য সভায় ঋত্বিক ঘটককে ঘুষি মেরেছিলাম‍! আমি ঋত্বিককে বলেছিলাম, মদ খেয়ে সেটে ঢুকলে লাথি মেরে তাড়াব। ”

তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, এমন কোনও সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম বলে আমার মনে পড়ছে না। এই ইন্টারনেট সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে সৌমিত্রবাবুর অপরিসীম শ্রদ্ধার কথা। তিনি এখানে বলেছেন, আমাকে যদি সত্যজিৎ রায় একটা দৃশ্যে একজন দারোয়ানের পার্ট দিতেন, তাহলেও আমি করতাম। তার সম্পর্কে এমনই আমার ভালবাসা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা ছিল।

কিন্তু, ঋত্বিক ঘটক প্রসঙ্গে এই বিখ্যাত অভিনেতা বলেছেন, “চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে বহু ভাল গুণ তার ছিল। কিন্তু তিনি প্রাপ্যের অতিরিক্ত গুরুত্ব পান। বিশেষত সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গে তাঁকে প্রাপ্যের অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি ওভাররেটেড। ”

এই সাক্ষাৎকারে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য— একবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলায় ঋত্বিক ঘটকের কলার ধরে আমি একটা ঘুষি মেরেছিলাম। এবং আমি তাঁকে বলেছিলাম, আমি সত্যজিৎ রায় নই এবং ‘‌ভদ্রলো‌‌ক’‌ও নই। মাতাল অবস্থায় ঋত্বিক ওই সভায় বলতে ওঠেন। ঋত্বিক তখন এতটাই মাতাল যে স্টেজে দাঁড়াতেই পারছিলেন না। তাঁকে তখন স্টেজ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সৌমিত্র আরও বলেছেন, “মদের আসক্তি ছাড়াতে তাঁকে ‘‌রিহ্যাব’‌এ চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়। তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্যে আমি তাঁর সঙ্গে ছবিও করতে চেয়েছিলাম। আমি তখন একজন স্টার। ফলে, আমি থাকলে তিনি সহজেই প্রযোজক পাবেন। ঋত্বিক চেয়েছিলেন ‘‌সংসার সীমান্তে’‌ করতে। প্রযোজকের সঙ্গে একটা মিটিং ঠিক হল। কিন্তু আমরা বসেই আছি, ঋত্বিক আর আসেন না। অনেক পরে প্রবল মাতাল হয়ে ঋত্বিক আসেন। দাঁড়াতেও পারছিলেন না। আমি কিন্তু ছবি করার প্রস্তাব দিয়ে ঋত্বিককে স্পষ্টই বলেছিলাম, আমার একটা শর্ত মানলে তবেই আমি রাজি। ঋত্বিককে বলেছিলাম, শুটিং প্যাক–‌আপ হলে তবেই তিনি মদ খেতে পারবেন। মদ খেয়ে যদি শুটিংয়ে আসেন, তাহলে আমি লাথি মেরে বের করে দেব। এরপর ঋত্বিকের সঙ্গে আর ছবি করা হয়নি। যদি তার সঙ্গে ছবি করা হতো তাহলে শুটিংয়ের সময় আমাদের শুধু মারামারিই হত। কাজটা হত না। ”

ঋত্বিক ঘটক সম্পর্কে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই বিতর্কিত ‘‌বক্তব্য’‌ সোমবার প্রকাশিত হওয়ার পর তুমুল ঝড় সোশ্যাল সাইটে। তবে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অস্বীকার করেছেন, এমন কোনও সাক্ষাৎকার তিনি দেননি। ‌‌‌ এই সাক্ষাৎকারে শুধু ঋত্বিক বা সত্যজিৎ প্রসঙ্গই নয়, অন্যান্য বহু বিষয়েই তাকে প্রশ্ন করা হয়।

রাজকাপুর থেকে শ্যাম বেনেগাল বহু বিশিষ্ট পরিচালকের কাছ থেকে ডাক পেয়েও, তিনি কেন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেন না কেন?‌ উত্তরে তিনি বলেছেন, “ওখানে গেলে আমার লেখালিখি, পত্রিকার সম্পাদনা, মিছিলে যোগ দেওয়া কিংবা থিয়েটার করতে পারতাম না। হিন্দি বলাটা আমার কাছে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু বাংলা সংলাপ বলাটা আমি উপভোগ করি। কারণ, বাংলা ভাষার ওপর আমার একটা দখল আছে। এটা আমার গর্ব নয়, আমার ভাল লাগা। ”


মন্তব্য