kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অভিনয়ের জায়গা খুঁজে চলেছি : নুসরাত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪২



অভিনয়ের জায়গা খুঁজে চলেছি : নুসরাত

টালিউডের উঠতি নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম নুসরাত জাহান। সুপারস্টার দেবের বিপরীতে নুসরাত অভিনীত ‘লাভ এক্সপ্রেস’ মুক্তি পেল সদ্য।

এই বিশেষ মুহূর্তে কলকাতার গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন-কে দেওয়া সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন : আবারও নতুন ছবির রিলিজ। প্রোমোশনের চাপ।

নুসরাত: প্রোমোশন করা দায়িত্ব। চাপ নয় আমার কাছে। একটা ছবির সাফল্য প্রোমোশনের ওপর নির্ভর করে। আই অ্যাম হ্যাপি। অনেকদিন বাদে আমাকে আর দেবকে দর্শক একদম অন্যরকম ভাবে পাবে।

প্রশ্ন : ট্রেলারটা লোকজনের ভাল লেগেছে। কিন্তু ছবিটা আরও আগে রিলিজ হওয়ার কথা ছিল না?

নুসরাত: অন-অফ করতে করতে এক বছর হয়েছে ঠিকই। রাজীবদার ছবি এমন হয়। ‘পাওয়ার’-এর আগে দেবের সঙ্গে আমার ‘খোকা ৪২০’ ছিল। সেটাতেও রাজীবদা ছিল। অলমোস্ট এক বছর লেগেছিল রিলিজ ফাইনাল হতে। আমার মনে হয়, এই ছবিটাতে লোকজন আমাদের চরিত্রটার সঙ্গে কানেক্ট করবে। লাল আর নীল আমাদের নাম। ট্রেন মিস করাটা মানুষের জীবনে থাকেই। কাজেই মজা পাবে লোকজন। আমি অনেকটাই আশা করছি এই ছবিটার ওপর। ট্রেন মিস করার গল্প, ইট্স অ্যাবাউট জার্নি। আর আমি নীল অর্থাৎ ‘নীলাশা’ আর দেব লাল ওরফে ‘রক্তিম’।

প্রশ্ন : আপনি নিজে কখনও ট্রেন মিস করেছেন?

নুসরাত: হ্যাঁ, করেছি। এই তো গত বছর ‘ব্যোমকেশ’-এর শুটিং করতে করতে কলকাতায় এসেছিলাম দু’দিনের জন্য। তারপর শুটে ফেরার সময় রাতের ট্রেন ছিল। স্ট্র্যান্ড রোডের বীভৎস জ্যামে আটকে গেলাম। ব্যস, ট্রেন মিস করলাম। শেষে ভায়া দিল্লি ফ্লাইট-এ গেলাম। খুব হেকটিক ছিল জার্নিটা। ট্রেন মিস আমার কাছে খুব খারাপ অভিজ্ঞতা।

প্রশ্ন : এই ছবির ইউএসপি কি আপনি আর দেবের জুটি?

নুসরাত: আমার আর দেবের কেমিস্ট্রি দারুণ। কিন্তু এছাড়াও ছবিটার অনেক ইউএসপি আছে। আমার তো ডাবিং করতে গিয়েই ছবিটা দেখতে ইচ্ছে করছিল। আর রোমান্স ছাড়িয়ে এই কেমিস্ট্রিটা অনেকটা টম অ্যান্ড জেরির মতো।

প্রশ্ন : এই বছরটা নুসরাতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে কমার্শিয়াল ছবি, অন্যদিকে অফবিট ছবি।

নুসরাত: ঠিকই বলেছ। তবে খুব বেশি এক্সপেক্ট করি না। আই জাস্ট গো উইথ দ্য ফ্লো। দেড়শো শতাংশ দিয়েছি। পজিটিভ আউটকাম চাই। দর্শকের পছন্দ কেটার করতে পারছে কি না সেটা আমার দায়িত্ব। আর কিছু মাথায় চাপতে দিই না, যে বছরে চারটে না পাঁচটা ছবি হয়ে গেল। এগুলো কোনও বড় ব্যাপার নয় আমার কাছে। আর নিজের ভাগ্যকে প্রশংসা করি। ব্যস।

প্রশ্ন : নুসরাত বললে প্রথমে মনে আসে ডাকসাইটে সুন্দরী। পরে আসে অভিনয়শিল্পী। রাগ হয় না?

নুসরাত: আমি ‘শত্রু’ যখন করেছিলাম তখন কিছুই জানতাম না। ক্যামেরার কোন দিকে কীভাবে তাকাব- কিচ্ছু না। আমার চোদ্দো গুষ্টির কেউ সিনেমা করেনি। এখনও বেশি কিছু ভাবি না। প্রত্যেকটা ছবিতে আমি শিখছি। আমার মনে হয় দর্শকও সেটা বুঝতে পারে। ‘ব্যোমকেশ’-এর পর থেকে অনেক শিখেছি। আর যখন ‘লাভ এক্সপ্রেস’ দেখবে তখনও বুঝবে এটা ‘নীলাশা’; নুসরাত না। নুসরাত ওরকম না। এটা মাই ওয়ান অফ দ্য বেস্ট অ্যাকটেড ফিল্ম। অভিনয়ের জায়গা খুঁজে চলেছি আমি অবিরত।

প্রশ্ন : কিন্তু এই ধরনের কমার্শিয়াল ছবিতে নায়িকা স্রেফ আই ক্যান্ডি…

নুসরাত: না। এই ছবিতে আমার জাস্ট তিনটে জামা। কোনও আলাদা লুক নেই। কীভাবে আই ক্যান্ডি হয়ে ঘুরব? সেম লুক সবসময়। চরিত্রে অভিনয়ই শেষ কথা।

প্রশ্ন : আগামিদিনে তা হলে অ্যাক্টর নুসরাতকে পাব?

নুসরাত: আমি আত্মবিশ্বাসী। অভিনয়টা জানতামই না। প্রত্যেকটা ফিল্ম পেরিয়ে সেটা শিখছি। শুরুটা অরিন্দমদার হাত ধরে। কিন্তু আমি এ কথাও বলব রাজীবদা, রবিজির ছবিতে কাজ করতে গিয়েও শিখেছি। প্রত্যেকটা ছবিতেই দারুণ অভিজ্ঞতা। আমি আদতে ডিরেক্টর্স অ্যাক্টর। যেমন ‘জুলফিকর’ করতে গিয়ে সৃজিতদার কাছে একদম সারেন্ডার করেছি। সৃজিতদা সকাল থেকে সন্ধে অবধি অপেক্ষা করতে পারে নিখুঁত শট-এর জন্য। সাংঘাতিক খেটে আমরা কাজটা করেছি।

প্রশ্ন : এবার পুজোয় অনেক ছবি একসঙ্গে আসবে, সেটা খারাপ নয়?

নুসরাত: না, আমি ভাবি একটা বুফে অর্ডার করা হয়েছে। যে যেটা খুশি খাবে।

প্রশ্ন : অরিন্দম শীল আগামী ‘ব্যোমকেশ’-এ আপনাকে নিলেন না! রাগ হয়নি?

নুসরাত: না, না। আমার করার মতো চরিত্র কোথায়? যেটা করতে পারব, সেটাতে তো নেবেন!

প্রশ্ন : অথচ আপনার বন্ধু সায়ন্তিকা করছে এই ছবিতে…

নুসরাত: হ্যাঁ, ওটা ওরই রোল। পুরনো দিনের বাঈজির চরিত্রে ওকে দারুণ মানাবে। আর একটা কারণ শি ইজ এ ফ্যাবুলাস ডান্সার। ওকে আমি-ই প্রথম বলেছিলাম এই রোলটা কর। গয়না-স্টাইলিং নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছিলাম।

প্রশ্ন : চারিদিকে যখন সম্পর্ক ভাঙছে তখন আপনি চিন্তিত নন?

নুসরাত: তুমি যাদের কথা বলছ তারা আমার বন্ধু। নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি পাঁচ বছরের কমিটেড সম্পর্কে আছি আমি। হ্যাঁ, এটা ঠিক সিচুয়েশন কখন কী হয় কিছুই বলা যায় না। সবই ভাগ্য। আমি চেষ্টা করছি একটা স্টেবিলিটি আনার। বিয়ের পরেও কিন্তু সম্পর্ক ভাঙে। আমি চেষ্টা করব সেটা স্টেবল রাখার।

প্রশ্ন : এবার কি বলবেন সেই মনের মানুষটির কথা?

নুসরাত: (হাসি) এখন থাক। ও লো প্রোফাইল-এর জীবন ভালবাসে। আজকে আমি বড় গলায় কমিটেড থাকার কথা বলছি। কারণ আমি একদম সাধারণ মানুষ। নায়িকা নই। সিনেমা করি বলে শুধু মিনারেল ওয়াটার খাব, বাড়িতে ঘড়ার জল খাব না- সেই শিক্ষা আমি পাইনি। প্রথমে আমি মানুষ। চিরকাল সেরকমই থাকব।

প্রশ্ন : মাচার শো, না শুটিং- কোনটা বেশি পছন্দ?

নুসরাত: আমার কাছে সিনেমার জন্য টাকাটা ম্যাটার করে না। রোলটা গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্মের প্রায়োরিটি আমার কাছে অনেক আগে। ফিল্ম-এর গানগুলো হিট না হলে মাচায় গিয়ে কী করব। ছবি আছে বলেই আজকে মাচা হিট হয়েছে।

প্রশ্ন : ‘ভেঙ্কটেস ফিল্মস’-এর ব্যানার ছাড়া কি ছবি করবেন না? ছবির সংখ্যা বাড়ানো উচিত মনে হয় না?

নুসরাত: ছবির সংখ্যাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু! একটু স্লো যেতে অসুবিধে কোথায়? আমার খুব তাড়া নেই। আপাতত ভেঙ্কটেশ-এর কাজ পরপর আসছে তাই করছি। সেরকম ব্যাপার নয়, যে এই ব্যানার ছাড়া আর কাজ করব না। নিশ্চয়ই অন্যদের ছবি করব। তেমন রোল পেলে!


মন্তব্য