kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাড পিটের ৬টি অজানা বিষয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১০



ব্রাড পিটের ৬টি অজানা বিষয়

সম্প্রতি ম্যানবুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মার্লোন জেমস এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সেরা তারকাদের একজনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেছেন। সেসময় ব্র্যাডপিটের সঙ্গে তার যে কথপোকথন হয় তা থেকে এই তারকা সম্পর্কে ছয়টি অজানা বিষয় বেরিয়ে আসে:
১. ব্র্র্যাড পিট একজন খুনি
ব্র্যাড পিট একজন মারাত্মক ঠাণ্ডা মাথার খুনি।

যিনি কোনো গাছকে না খাইয়ে মেরে ফেলেন। এর প্রমাণ বেভারলি হিলে তার অফিসের বিপরীত দুটি কোনায় অবস্থিত দুটি টবে শুকিয়ে মরে থাকা দুটি গাছ। এর কারণ হিসেবে অবশ্য তিনি ১০ মাস ধরে তার বাইরে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
২. ব্র্যাড পিট জানেন টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না
তার নতুন দুটি সিনেমার একটি হলো “ওয়ার মেশিন”। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কমাণ্ডের ফোস্কাতোলা বিবরণ সম্বলিত মাইকেল হেস্টিংস এর “দ্য অপারেটরস” অবলম্বনে সিনেমাটি তৈরি করা হয়। যারা তরুণ-তরুণীদেরকে যুদ্ধ ময়দানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভুমিকা পালন করেন তাদেরকে ব্যাঙ্গ করে সিনেমাটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
অন্য সিনেমাটি হলো, রবার্ট জেমেকিসের রোমান্টিক অ্যাসাসিনেশন থ্রিলার “অ্যালাইড”। এ সিনেমাটিও বাস্তব ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে।
সিনেমায় ট্র্যাজেডি এবং কমেডির মধ্যকার সুক্ষ্ম ভেদরেখা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্র্র্যাড পিট বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রায়ই ভ্রমণে বেরিয়ে তিনি বিনা কারণে অনেক মানুষকে সুখি হতে দেখেছেন। আর সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থিতিতে থাকা লোকেরাই কীভাবে যেন সবচেয়ে সন্তুষ্ট এবং পরিতৃপ্ত থাকছেন। ব্র্যাড পিট বলেন, আর এ কারণেই হয়তো তার নিজের মতো অর্থ-বিত্ত ও সময়ওয়ালা লোকেরা ওই ভয়ানক পরিস্থিতিগুলো বদলে দিতে এতোটা বাধ্য বোধ করেন। যার পরিণতি ভালো হয় না।
তিনি বলেন, “আমি তৃতীয় বিশ্বের এমন কিছু এলাকায় গিয়েছি যেখানকার লোকেরা সবচেয়ে বেশি দুর্দশায় ভুগছে। কিন্তু সেখানকার লোকেরাই সবচেয়ে বড় হাসিটি হাসেন। অনেক সময় তাদের এই হাসির উদ্দেশ্য থাকে সেই বিদেশি কল্যাণকারীরা, যারা আসলে তাদের সমস্যার সমধান কীভাবে সম্ভব সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির সমালোচানা করে ব্র্যাড পিট বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতার মূলে রয়েছে এই ধারণা যে, আমরা চাইলেই ভিন্ন সংস্কৃতিতে আমাদের ধারণাগুলো চাপিয়ে দিতে পারি। অথচ ভিন্ন সংস্কৃতির মর্ম উপলব্ধির কোনো চেষ্টাই আমরা করি না।
৩. সিনেমার জগতের বাইরেও তার বিচরণ রয়েছে
গুগল সার্চে তার নামে অনুসন্ধান চালাতে গেলে ৪৫ মিলিয়ন ফলাফল আসবে। আর প্রায় ১০ মিলিয়ন পপআপ আছে তার নামে। এতো তারকা খ্যাতি সত্ত্বেও তিনিই শেষ সত্যিকার সিনেমা তারকা যিনি হলিউডের গণ্ডির বাইরেও বিচরণ করেছেন।
ব্রেক্সিট বা ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট সবকিছু সম্পর্কেই তার ভালো ধারণা রয়েছে। এ সম্পর্কে তার ধারণা, “আমি কখনোই ভাবতে পারিনি এমনটা ঘটতে পারে। ” মার্কিন রাজনীতি সম্পর্কেও তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। ট্রাম্পকে তিনি পছন্দ করেন না বলেই জানান ব্র্যাডপিট।
২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তার প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমা ‘দ্য বিগ শর্ট’ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন সবকিছু খারাপের দিকে যায় তখন আমরা এর কারণ অনুসন্ধান না করে বরং শুধু শত্রু সৃষ্টি করতে শুরু করি।
ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের এক পণ্ডিতের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে তিনি একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করে বলেন, শুধু অর্থীনিতি দিয়ে কোনো কলহের কারণ ব্যাখ্যা করা যাবে না। আপনাকে বুঝতে হবে যে, আমাদের ডিএনএ-র মধ্যেই এর অস্তিত্ব রয়েছে। বেশিরভাগ আমেরিকানেরই সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং আল জাজিরা দেখার মতো সময় নেই। তারা বাড়ি ভাড়া ও বাচ্চাদের খাবার যোগাড় করতে করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তারা যখন কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন তখন তারা এতোটাই ক্লান্ত থাকেন যে আর সব কিছুই তারা ভুলে যেতে চান। ফলে যখনই কোনো ভিন্ন স্বর ভেসে আসে তারা বলেন এই সবকিছু নিয়েই তারা বিরক্ত। আর এই বিরক্তিই আমেরিকানদের ডিএনএ-তে ঢুকে গেছে।
“তবে আমি যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশাবাদি যে, আমরা পৃথিবীর বাসিন্দারা বিশ্বায়নের ফলে এখন সকলেই সকলের কাছের প্রতিবেশি। ফলে আমরা এখন পরস্পরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি বুঝতে শুরু করেছি। কিন্তু তারপরও প্রতিক্রিয়াশীল বিচ্ছিন্নতা এবং বিভক্তির টান দেখা যায়। ব্রাডপিট বলেন, তিনি মনে করেন বিশাল সংখ্যক মানুষই নিঃসঙ্গ বোধ করেন।
৪. মেল গিবসনের ব্যাপারে তার মতামত
ইন্টারনেটের আগে সিনেমাই ছিল ভিন্ন সংস্কৃতিকে জানার মাধ্যম। সিনেমার মাধ্যমেই শুধু এর আগে জানা সম্ভব ছিল ব্রুকলিন, আয়ার‌ল্যান্ড বা আফ্রিকার একটি শিশু কীভাবে জীবন-যাপন করে।
মেল গিবসনের সিনেমায় একটি জিনিস খুব বেশি ভালোভাবে করা হয়: সহিংসতা। ‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’ একটি মহান সিনেমা।
৫. ‘আমি বুড়িয়ে যাচ্ছি’, ব্র্যাডপিটের এই মশকরাটি অনন্য
ব্র্যাডপিটের বয়স যে ৫২ তা হয়তো অনেক সময় বুঝা যায় না। কিন্তু বাচ্চারা যখন পুরোনো দিনের কোনো নিদর্শনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় তখন তার বুড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। তার এক মেয়ে ক্যাসেট টেপ পছন্দ করে। এতে কেউ মনে করতে পারে ব্র্যাড পিটের বয়সের কারণেই হয়তো গ্রামোফোনের প্রতি এখনো তার আগ্রহ রয়েছে।
এছাড়া সিনেমার সেটেও তার বয়স সম্পর্কে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় অনেক সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ফিউরি বানানোর সময়কার একটি গল্প বলেন ব্র্যাডপিট। “সেখানে সবচেয়ে কম বয়সী ছিল লোগান লারম্যান নামের একজন। যার বয়স ছিল মাত্র ২১। তাকে একটি ঘড়ি দেওয়া হয় খাওয়া-দাওয়া করতে এবং সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হতে আমরা কতটা সময় ব্যয় করি তার হিসাব রাখার জন্য। একদিন ছেলেটি আমার কাছে এস বলল ঘড়িটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমি তাকে বললাম, ‘বাতাস কর, তাহলে ঘড়িটি সচল হবে। ’ সে ঠিক ১৫ মিনিট পরে এসে বলল, ‘তুমি কী করে এটিকে বাতাস কর?’
৬. ব্র্যাডপিটও একজন সাধারণ মানুষের মতোই
মার্লোন জেমস বলেন, সাক্ষাতকার দেওয়ার সময় একজন সধারণ মানুষের মতোই বন্ধুত্বসুলভ ভঙ্গিতে আলাপ-আলোচনা করেছেন ব্র্যাডপিট। এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয়েও তার সঙ্গে এতোটা খোলামেলা আলোচনা হয়েছে যা শুধু সত্যিকার অর্থেই বন্ধুত্বসুলভ কোনো লোকের সঙ্গে সম্ভব। হলিউডে নারী-পুরুষের আয় বৈষম্য এবং শেতাঙ্গদের আধিপত্য নিয়ে আলোচনার সময় ব্র্যাডপিট কোনো রাখ-ঢাক করে কথা বলেন নি।
আর সাক্ষাতকার শেষে আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ির গেটের বাইরে বেরিয়ে রাস্তা পর্যন্ত আসেন। এর আগে তিনি আমার জন্য একটি গাড়ি আনানোর অর্ডার করেন। রাস্তার ধারে ব্র্যাডপিটের পাশে দাঁড়িয়ে উবার এর জন্য অপেক্ষা করার সময় আমি বুঝতে পারলাম কতটা সাধারণ হতে পারেন ব্র্যাডপিটের মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকাও।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস


মন্তব্য