kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'জীবনটা শেষ করে দিয়েছে আমার দুই স্তন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৩



'জীবনটা শেষ করে দিয়েছে আমার দুই স্তন'

ব্রিটেনের হাউজ অব পার্লামেন্টের ভবনের দেয়ালে ফুটে উঠল এক নগ্ন নারীর ১০০ ফুট দীর্ঘ ছবি। তাকে সবাই চেনেন।

তিনি নব্বইয়ের দশকের দারুণ জনপ্রিয় ব্রিটিশ মডেল ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব গেইল পর্টার। সেই সময় পুরুষ বিষয়ক ম্যাগাজিন 'এফএইচএম'-এ কাভার গার্ল হওয়ার পর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ সেলিব্রিটির জীবন কাটালেও সারাটা জীবন মানসিক যাতনায় ভুগেছেন তিনি। অস্বস্তিকর ওই পেরেশানির কারণ ছিল তার স্তনযুগল।

দ্য সানের সঙ্গে এক চৌম্বক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি সেসব কথাই বলেছেন তিনি। বলেন, আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছেন স্তন দুটো। মানসিক অত্যাচারের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার প্রকৃতিগতভাবে অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা স্তন। ১৯৯৯ সালে এফএইচএম ম্যাগাজিনের জন্য যখন ফটোশুটে দাঁড়ান, তখন গেইলের ৫ ফুট ২  ইঞ্চি দেহে স্তনের মাপ ছিল ৩০ডিডি।

এখন তার বয়স ৪৫, এক সন্তানের জননী। জানালেন, এই বড় আকৃতিক স্তন দুটোকে আমি রীতিমতো ঘৃণা করতাম। আমার যে ছবি হাউজ অব পার্লামেন্টে বিম করা হয়েছে, ওটা দেখেও আত্মবিশ্বাস হারাই স্তনের কারণে।

জীবনযাপন, চিন্তা ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গেইল আক্রান্ত হন অ্যানোরেক্সিয়া ডিসঅর্ডারে। বলেন, যতভাবেই দেহের যত্ন নিই না কেন, সব প্রভাব গিয়ে পড়ে স্তনের ওপর। ওজন বাড়লে ওখানেই বাড়ে।

ছবি : এখন গেইল

অবশেষে দুই মাস আগে স্তন দুটোর আকার ছোট করে আনার সিদ্ধান্ত নেন পর্টার। এটাই আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত, অকপটে বলেন গেইল। বলতে থাকেন, অনেকেই মনে করে স্তনের আকার বড় হওয়াই ভালো। কিন্তু এদের নিয়ে আমাকে জীবনে দারুণ সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমার ছোট দেহে এগুলো এতই বড় আকারের ছিল যে তার প্রভাব আমার পিঠে পর্যন্ত পড়েছে। ব্রা খোলার পর ওগুলো রীতিমতো হাঁটুর অবধি পৌঁছতো। কিন্তু এখন তারা নিজের মতো অবস্থান করছে।

একসময়ের টেলিভিশনের শীর্ষস্থানীয় এই প্রেজেন্টারের স্তনের মাপ এখন ২৮জেজে থেকে ২৮সি এর মধ্যে অবস্থান করছে।

এডিনবার্গে জন্ম গেইলেন। টেলিভিশন কম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে শিগগিরই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যান। শিশুদের জন্য বিবিসি'র এক অনুষ্ঠান স্যাটারডে মর্নিং শো 'লাইভ অ্যান্ড কিকিং'-এর সঞ্চালনা করেছেন। তখনই আকর্ষণীয় চোখ আর বিশাল আকৃতির স্তনের কারণে সবার নজরে পড়েন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক পান। কিন্তু স্তনের আকৃতি সামলাতে বিশের কোঠায় শসা আর আঙুরের ওপর বেঁচে থাকা শুরু করলেন। একপর্যায়ে তার ওজন ৪১ কেজির কিছু বেশিতে ঠেকল। কেবল স্তন দুটোকে যতটা সম্ভব ছোট করে আনতেই দেহের ওজনের করুণ পরিণতি টানলেন তিনি।

কিন্তু আক্রান্ত হলে বাইপোলার ডিসঅর্ডারে। বিষণ্নতা ভর করলো। অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়লেন। ২০১১ সালে মেন্টাল হেলথ অ্যাক্ট-এ চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু জানান, মানসিক সমস্যায় ভুগছেন সেই ১৯ বছর বয়স থেকে। মূল কারণ স্তনযুগল।

হাইপ্রোফাইল সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। কিথ ফ্লিন্টের সঙ্গে প্রেমের খবর ছড়ালেও ২০০১ সালে বিয়ে করেন গিটারিস্ট ড্যান হার্পারকে। তাদের ঘর আলো করে কন্যাশিশু আসে। তবে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ ঘটে দম্পতির।

২০০৫ সালে অ্যালোপেসিয়াতে আক্রান্ত হন গেইল। এতে তার দীঘল স্বর্ণকেশ, ভ্রূ এবং দেহের সব লোম পড়ে যায়। তখন তাকে কেমন দেখাতো। গেইল নিজেই বলেন, নিজেকে স্তনসর্বস্ব বড় আকারের এক শিশুর মতো লাগতো তখন।

কিন্তু অবস্থা কাটিয়ে উঠেছেন অনেকটা। এখন তিনি 'অপেক্ষাকৃত ছোট স্তনের বড় এক শিশু'।

স্তনের যন্ত্রণা থেক মুক্তি পেতে প্রথম যান কনসালটেন্ট পল হ্যারিসের কাছে। বিশেষজ্ঞ বলেন, আপনি ব্রা খুলে ফেলেন। ওটা আমাকে দেখতে হবে। গেইল জানান, যখন খুললাম তখন ওগুলো পেটের কাছে চলে আসলো। এটা দেখে নিশ্চয়ই বিশেষজ্ঞ একটা ধাক্কা খেলেন।

ছবি : আগের এক ফটোশুটে

পরে সার্জারি করান গেইল। জানালেন, সার্জারির পর আমি খুব দ্বিধায় ছিলাম। ফলাফল কি হলো তখনও বুঝছিলাম না। ধীরে ধীরে ব্যথা অনুভব করা শুরু করলাম। একটু সুস্থ হয়ে পরিষ্কার হতে বাথরুমে গেলাম। তখন মনে হয়েছিল, বুক থেকে কোনো ভার কমে গেছে।

এখন পর্টারের স্তন দারুণ আকর্ষণীয় হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। নতুনভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, জীবনটা পুরোপুরি বদলে গেছে। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। বুক থেকে বাড়তি ৮ পাউন্ড চলে গেছে। এখন আমার চলাফেরায় আগের ঝক্কি নেই। আমার অঙ্গভঙ্গিও এখন আর আগের মতো নেই।

তবে শুধু সৌন্দর্যের জন্যেই নয়, পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতেও সার্জারির প্রয়োজন ছিল বলে জানান গেইল। এদের ওজন ও ব্যথা বহু বছর বইতে হয়েছে। এখন বয়স আরো ২০ বছর কমে এসেছে- এমনই অনুভূতি তার।
সূত্র : দ্য সান

 


মন্তব্য