kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বোমায় বিধ্বস্ত সিরিয়ার রক্তাক্ত শিশুর জন্য রূপমের গান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:১১



বোমায় বিধ্বস্ত সিরিয়ার রক্তাক্ত শিশুর জন্য রূপমের গান

অনেকে বলেন, কষ্ট না পেলে নাকি কোনও কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। আমি একমত।

আমার সঙ্গে একমত হবেন বহু মানুষও। তাঁদের মধ্যে রূপম ইসলামও একজন। যিনি সাম্প্রতিক কালের নানা ঘটনা নিয়ে ব্যথিত। দিন কুড়ি আগে বোমা-বিধ্বস্ত সিরিয়ার একটি ছবি দেখে গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। বোমায় আঘাতে ভেঙে পড়া একটি বাড়ি থেকে ৫ বছরের রক্তমাখা ওমরান দাকনিশ-কে উদ্ধার করা হয়। কমলা রঙের চেয়ারে বসে আবেগহীন মুখে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকা তার সেই ছবি দেখে বোমারু বিমানের চালক ব্যথা না পান, অন্তত লজ্জা পেয়ে থাকবেন।

এই ঘটনাকে নিয়েই গান লিখেছেন রূপম। ‘মৃত্যু পেরনো জন্ম-গান’। সোমবার এই গানটি প্রথমবার ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। সেই সুবাদেই তাঁর সঙ্গে ফোনালাপ। সেখানেই উঠে এল রূপমের এই মানবিক দিক। তিনি বলেন, ‘আয়লানকে নিয়ে গান লিখিনি। কারণ তখনও নির্দিষ্ট কোনও ঘটনা নিয়ে গান লেখা শুরু করিনি। তবে ওমরানের আগেই সিরিয়ার অন্য একটি ছেলে আহমেদকে নিয়ে গান লিখেছি। যে সুইডেনের রাজাকে চিঠি লিখেছিল। অবশেষে সে ঠাঁই পেয়েছিল সে দেশে। সেটা লেখা গত ২০ ফেব্রুয়ারি। ’

‘এর পর আমুদা খাতুনকে নিয়েও লিখেছি। বাংলাদেশি উদ্বাস্তু আমুদা ত্রিপুরায় ভিক্ষে করে। আগরতলা বইমেলায় ঢুকে সে বই ভিক্ষে করেছিল। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের হাত ধরেও বই চেয়েছিল সে। এমন ভাবে নানা সময়ে নানা ঘটনা নিয়ে বার বার ব্যথিত হয়েছি। যত বারই ব্যথা পেয়েছি। কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে গান। ’ বিভিন্ন সময় তাঁর কলম থেকে কখনও হরিশ নানজাপ্পা, কখনও রোহিত ভেমুলা, কখনও জেএনইউ, কখনও হোক কলরব নিয়ে একের পর এক গান বেরিয়ে এসেছে।

বাংলা গানের সঙ্গে যাঁরা পরিচিত তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করবেন, রূপম একজন ‘রেবেল’। তিনি কাঁটাতারেরই বরাবর ‘সুখী’। তবে সেই কাঁটার ব্যথা সকলকে দেখান গান লিখে। এত ভালো গান লিখলেন, তাতে সুর আরোপ করেছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওমরানের গানটা খুব বড়। তাই সুর আরোপ করিনি। সব গানে আমি সুর আরোপ করি না। বাংলা ছবিতে গান লেখা বা সুর করার জন্য বিশেষ একটা তো ডাক পাই না। এখন তো নির্দিষ্ট কিছু ফিল্মের গান বার বার হ্যামারিং করে শ্রোতাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়। সেখানে আমার গান প্রকাশের মাধ্যম কী হতে পারে! তাই সব গান সিডিতে প্রকাশ করি না। তবে অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছি। আরও একটা কারণে প্রকাশ করি না, কারণ প্রকাশিত হলে তা সুবিচার পাবে না। কোনও হইচই হবে না। এখন হইচই হয় কিছু নির্দিষ্ট ফিল্মের গান নিয়ে। বিজ্ঞাপনি প্রচারের মতো টাকা নিয়ে তা পপুলার করানো হয়। তাই গান লেখা, তাতে সুর করার যে উদ্দেশ্য তা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। কেন প্রকাশ করব বলুন?’

খানিকটা অভিমান যেন চুঁইয়ে পড়ল রূপমের গলা থেকে। সত্যিই তো। এমন একজন শিল্পীকে যদি ঠিক মতো ব্যবহার না করা হয় তবে তা সঙ্গীতের ক্ষতি। বাংলা গানের ক্ষতি। সর্বোপরি গান ভালোবাসা আপামর শ্রোতাদের ক্ষতি। তাই অভিমান হওয়াটাই তো স্বাভাবিক।  

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য