kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিয়ের পর ফিরলেন উর্বশী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩০



বিয়ের পর ফিরলেন উর্বশী

সাক্ষী-সিন্ধুর অলিম্পিক সাফল্যর পর ভারতে নারীদের ওপর স্পটলাইটের আলোর জোর বেড়েছে৷ গর্ব করে তাঁদের উন্নতি নিয়ে স্যোসাল মিডিয়াতে নানা চর্চা৷ আবার এই নারীরাই নানাভাবে নানা কারণে হেনস্থা হচ্ছেন, এমন খবরও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রে-টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়৷ সিনেমা জগতে এখনও নারী নির্ভর ছবির সংখ্যা বড়ই কম৷ কিন্ত্ত এক্ষেত্রে টেলিভিশন অনেক এগিয়ে৷ বলা যেতে পারে টেলিভিশনের সব গল্পই প্রায় নারী কেন্দ্রিক৷ এহেন জগতে বেশ কিছু বড়পর্দার অভিনেত্রী বিয়ের পর সিনেমা ছেড়ে কামব্যাক হিসেবে বেছে নেন টেলিভিশনকেই৷ একই ভাবে বিয়ের চার বছর পর অভিনয় জগতে ফিরে আসার জন্য উর্বশী শর্মাও বেছে নিয়েছেন টেলিভিশনকে৷ জি-টিভির সাপ্তাহিক ধারাবাহিক 'এক মা জো লাখো কে লিয়ে বনি আম্মা'তে তিনি আম্মা৷

২০০৭ সালে অক্ষয় খান্না আর ববি দেওলের বিপরীতে প্রথমবার বড়পর্দায় দেখা যায় উর্বশীকে৷ প্রথম ছবিতে তিনি গ্ল্যামার গার্ল৷ আব্বাস-মাস্তানের নায়িকার পরের ছবি 'বাবর'৷ প্রিয়দর্শনের 'খাট্টা মিঠা' ছবিতে অক্ষয় কুমারের বোন৷ তারপর দু'-একটি ছবি করে সরে যান গ্ল্যামার জগত থেকে৷ কারণ বিয়ে৷ মেয়ে সামাইরার জন্মের পর আবার অভিনয় জগতে৷ মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি অভিনয় জগত থেকে সরে যান৷ হঠাত্ এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে উর্বশী জানালেন, 'আমার কাছে কাজের থেকে পরিবারের গুরুত্ব অনেক বেশি৷ ওর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ কখনই করতে পারব না৷ কাজ ছিল, আছে, থাকবে৷ কিন্ত্ত তাই বলে পরিবার থেকে সেটা কখনও বড় হতে পারে না৷ তাই বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য সিনেমা ছাড়া৷ এরপর মেয়ে সামাইরা৷ এখন ওর বছর দুয়েক বয়স৷ তাই মনে হলো এবার আবার কাজ করা যেতেই পারে৷' সিনেমার থেকে টেলিভিশনে অনেক বেশি সময় দিতে হয় এটা সকলেরই জানা৷ তাহলে সিনেমায় কামব্যাক না করে টেলিভিশনে কেন? এর প্রশ্নের পক্ষে নায়িকার যুক্তি, 'হ্যাঁ, টেলিভিশনে সময় বেশি দিতে হয় ঠিকই, তবে তা ডেলি সোপের জন্য৷ আমার সিরিয়াল সাপ্তাহিক৷ তাই সময় দিতে হলেও ডেলি-র মতো নয়৷ আর সিনেমায় এখন আমি নায়িকার চরিত্র পাব না৷ কিন্ত্ত এই ধারাবাহিকে আমিই প্রধান চরিত্র৷ এমন একটা নারীকেন্দ্রিক চরিত্রে অভিনয় করতে পাওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে?' পাল্টা প্রশ্ন উর্বশীর৷ এর আগে তিনি গ্যাংস্টার বিষয়ক ছবি 'বাবার'-এ অভিনয় করেছেন৷ এবার তিনি নিজেই গ্যাংস্টার৷ অনেকটা 'গডমাদার'-এর মতো৷ 'আমি 'গডমাদার' ছবিটি দেখিনি৷ আর আম্মা গডমাদার নয়৷ জিনত চরিত্রর সঙ্গে গডমাদারের কোনও মিল নেই৷ একজন সাধারণ মেয়ে জিনত৷ বরং আমাদের আশে-পাশের বহু মহিলার সঙ্গে জিনতের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে৷ যারা স্বামীর দ্বারা প্রতারিত, নির্যাতিত৷ সন্তানের মুখ চেয়ে অনেকেই কম্প্রোমাইজ করে নেন৷ কিন্ত্ত জিনত বাধ্য হয় এই পথ বেছে নিতে৷ কাহিনি যত এগোবে বোঝা যাবে এর কারণ৷'

এর আগেও জি-টিভিতে বহু নায়িকা কামব্যাক করেছেন৷ যার মধ্যে শিল্পা শিরোদকার, অনিতা রাজ অন্যতম৷ এবার একই ভাবে উর্বশীকেও কামব্যাক করালো চ্যানেল কর্তৃপক্ষ৷ এই সিরিয়ালে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন 'কলিও কে চমন' গার্ল মেঘনা নাইডু৷ তিনিও এই চ্যানেলেই মেগা ধারাবাহিক 'যোধা আকবর'-এ টেলিভিশন ডেবিউ করেন৷ ধারাবাহিকের এই গল্পে আম্মার সন্তান যখন বড় হবে, তখন হয়তো অনস্ক্রিন সেই সন্তানের বয়স উর্বশীর বয়সের কাছাকাছিও হতে পারে৷ 'হ্যাঁ, ঠিকই৷ বিষয়টা খুব চ্যালেঞ্জিং৷ সিনেমাতে তো অনেক সময় নায়কের ডবল রোল থাকে৷ যেখানে নায়িকাই তাঁর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন৷ সিনেমা তো নায়ক নির্ভর৷ কিন্ত্ত এখানে আমিই মুখ্য৷ বয়স নয়, আমার কাছে চ্যালেঞ্জ কতটা নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারছি চরিত্রটাকে৷' স্পষ্ট জবাব আম্মা জিনতের৷ নতুনভাবে শুরু করতে কোনও অসুবিধে হচ্ছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি এখন নিউকামার৷ নতুন করে সব শিখছেন৷ আর সেখানে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাঁকে ফুটিয়ে তুলতে হচ্ছে৷ একদিকে যা কঠিনও, আবার আনন্দেরও৷ সাস-বহু ড্রামার বদলে এমন একজন পাওয়ারফুল নারী চরিত্র পেয়ে তিনি খুশি৷ তাঁর স্বামী সচিন জোশির নিজস্ব প্রোডাকশন হাউজ রয়েছে৷ সেখানে তাঁরা দু'জনে একসঙ্গে নতুন কিছু পরিকল্পনা করছেন? এখন তো বড়পর্দায়ও নানা ধরেন ছবি হচ্ছে৷ তেমনই কিছু ভাবছেন কী? 'না, এখনও কিছু ভাবিনি৷ আপাতত ভালোভাবে জিনতকে দর্শকের কাছে পৌঁছানোই লক্ষ্য৷' জানালেন আব্বাস-মাস্তানের নায়িকা। এইসময়


মন্তব্য