kalerkantho


স্মৃতিকথা

দর্শকরা দিতিকে বলত ‘তিলওয়ালি সুন্দরী’

হারুন-অর-রশীদ।   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৩৬



দর্শকরা দিতিকে বলত ‘তিলওয়ালি সুন্দরী’

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে আজ মারা গেল দিতি। পারভীন সুলতানা দিতি।

দিতির সাথে আমার পরিচয় ১৯৮৩ সালে। তাজি রহমান, নাজমা জামাল, ক্যামেলিয়া মুস্তাফা এবং রিটার পর মডেলিংয়ে এসেছিল দিতি। ওর প্রথম নাটক লাইলি মজনু’র সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম আমি। ১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমে অভিনেত্রী নির্বাচিত হলো দিতি। চিত্রনাট্য রচনায় আমি হয়েছিলাম পঞ্চম।

আমি তখন সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। কাজ করি ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজারভারে। নিয়মিত লিখি তারকালোক, চিত্রালি, স্ক্রিন লাইফ-এ। দিতিকে নিয়ে অনেক লেখা লিখলাম।

ছবি ছাপলাম। সে সময় জনপ্রিয় ছিলেন কিঞ্ছিত স্থুলকায়া নায়িকারা। তাদের মাঝে স্লিম দিতি নতুন এক গ্রহণযোগ্যতা পেল।
টেলিভিশন দর্শকরা দিতিকে বলত ‘তিলওয়ালি সুন্দরী’। দিতি কয়েকটি ছবিতে গানও গেয়েছেন। দিতির হাজিপাড়ার বাসায় নিয়মিত যেতাম। চাকরির সুবাদে ঢাকার বাইরে থাকায় অনেকদিন দিতির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম।

১৯৯৫ সালে আবার দিতির সাথে যোগাযোগ। আমার একটা টিভিসিতে অভিনয় করলো। একদিন হাসতে হাসতে আমাকে বলেছিল, কেন যে সরকারি চাকরি করতে গেলেন! এরপর দিতি আমার অনেকগুলো একক এবং সিরিজ নাটকে অভিনয় করেছেন। তার ফার্মগেটের বাসায় গিয়েছি। খেয়েছি। অসম্ভব ভালো রান্না করতো দিতি। তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথাও আমাকে বলেছে। কিছু কিছু সমাধানে সহায়তা করেছি।
দিতিরা জাপানে গিয়েছিল নাটক করতে। আমি স্ক্রিপ্ট লিখে দিলাম ‘ভালো হতে পয়সা লাগে না’। আবার দেশের বাইরে পোস্টিংএ গেলাম। দিতি তখন পুরোপুরি নাটকে। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগ দিলাম। দিতির সাথে যোগাযোগটা কম হলেও মাঝে মাঝে কথা হতো। দেখা হতো। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন আগে একদিন সে হাসতে হাসতে বলেছিল আপনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে থাকায় আমার কি লাভ? বড় অসময়ে দিতি সব লাভ-ক্ষতির উর্ধ্বে চলে গেছে, ভাবতে বড় কষ্ট হয়।

লেখক : হারুন-অর-রশীদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন

 


মন্তব্য