kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


'মুরাদ পারভেজ চুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১৯



'মুরাদ পারভেজ চুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন'

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বলিউডের ছবি ‘রেইনকোট’এর গান ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ গানটির জনপ্রিয়তা নিয়ে বলার কিছু নেই।   ঋতুপর্ণের লেখা সেই গানে সুরারোপ করেছিলেন দেবজ্যোতি মিশ্র। গানটির দু’টি ভার্সন ছিল— একটি শুভা মুদগলের কণ্ঠে, অন্যটিতে কণ্ঠ গিয়েছিলেন হরিহরণ। তার সঙ্গে গানটিতে যুক্ত হয়েছিল গুলজারের কবিতা। ভারত ছাড়িয়ে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয়তা পায় সেই গান।

মুরাদ পারভেজের পরিচালনায় ‘বৃহন্নলা ছবিতে হুবহু ব্যবহৃত হয়েছে সেই গান। সুর এক। কেবল ঋতুপর্ণের লেখা বাণীটি ছিল এক আশ্চর্য  ব্রজভাষায় রচিত। তার বদলে ‘বৃহন্নলা’-র গানটিতে ব্যবহৃত হয়েছে সেটির বাংলা তর্জমা। ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ এখানে হয়ে দাঁড়িয়েছে— ‘প্রিয় তোর কীসের অভিমান’। ইতোমধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমেও এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হয়েছে। সম্প্রতি মুরাদ পারভেজের ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার পর ছবিটির নকল ধরা পড়ে। কাহিনি চুরির পাশাপাশি সবক্ষেত্রেই মুরাদ পারভেজের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। সোশাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে কম তোলপাড় হয় নি। তোপের মুখে পড়ে মুরাদ ফেসবুক থেকে দূরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় মুরাদকে নিয়ে বলা হচ্ছে 'মুরাদ পারভেজ চুরিকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ' ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ম্মুরাদ পারভেজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  

'রেইনকোট’ ২০০৪-এর ছবি। আর ‘বৃহন্নলা’-র  ২০১৪-এর গান। ১০ বছর ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। এই সময়-পর্বেই প্রয়াত হয়েছেন ঋতুপর্ণ। সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্রের সঙ্গে এই বিষয়ে কলকাতার একটি পত্রিকা যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি পুরো ব্যাপারটায় মর্মাহত। ‘পিয়া তোরা’ আমার কাছে নিছক একটা গান নয়। তা আমার কাছে প্রিয়তম বন্ধুর স্মৃতি। তার উপরে এই গানে যুক্ত রয়েছে হরিহরণ, শুভা মুদগল এবং সর্বোপরি গুলজারের মতো মানুষের নাম। একে কি ‘কুম্ভীলকবৃত্তি’ বলব? মন না মানলেও তা-ই বলতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। আমার বাবা এবং মা দু’জনেই বাংলাদেশের মানুষ ছিলেন। সে দেশের পানি-মাটি-হাওয়াকে আমি আমার আত্মার অংশ বলেই মনে করি। সেই দেশ থেকে এমন কাজ যখন গোচরে আসে, মর্মাহত হয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। আমার সামান্য সাংগীতিক কেরিয়ারে বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জনাব এনামুল করিম নির্ঝর পরচালিত ‘আহা’ ছবিতে সুরারোপের সুযোগ পাই এবং সেই ছবির ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গানটি ফাহমিদা-র কণ্ঠে একপ্রকার মান্যতাও পায়। সে এক মধুর স্মৃতি। ‘বৃহন্নলা’-র ঘটনা সেই স্মৃতিকেই যেন আঘাত করল।


এক্ষেত্রে ইমন সাহা গান চুরির বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন এটা কোনওভাবেই নকল কিছু নয়। এটি তিন-চার  শ’ বছর আগের একটি বন্দিস। তাই ছবিটি সেন্সরে জমা দেওয়ার সময় গানটির সুর প্রচলিত দেওয়া আছে। আর গানের কথার বাংলা অনুবাদক ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নাম গেছে দেবলীনার। এই বন্দিসটি আমি শিখেছি এ আর রাহমান স্যারের কাছে যখন পড়তে যাই। এখনও প্রায়ই এই বন্দিসটি আমি গাই। সে সময় ‘বৃহন্নলা’র ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কাজ করছিলাম আমি আর মুরাদ পারভেজ। মুরাদ আমার কণ্ঠে বন্দিসটি শুনেই বললো এটি তার ছবিতে ব্যবহার করতে হবে। তখন আমি ভারতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এই বান্দিস ব্যবহার করতে কপিরাইটের কোনও সমস্যা নেই। এটি তিন-চার  শ’ বছর আগের প্রচলিত বন্দিস। অথচ এই সাধারণ বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক হচ্ছে। কেউ কিছু না জেনেই যা ইচ্ছে তাই বলছে। অথচ যেসব নিয়ে বলা উচিত, সেসব নিয়ে কারও কোনও মাথা ব্যাথা নেই।

কিন্তু, ইমন সাহার এ দাবির বিপরীতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ছবির পরিচিতিতেও গীতিকার হিসেবে রাখা হয়েছে দেবলীনার নাম! এমনকি মুরাদ পারভেজ ও দেবলীনা নামে তৈরি ইউটিউব চ্যানেলে গানটি আপলোড করা হয়েছে। যেখানে মুরাদ গীতিকার হিসেবে দেবলীনার নাম ব্যবহার করেছেন। আর সেখানে দেবলীনার দাবিও একই। তিনি গানটির গীতিকার ও সুরকার।

রেইনকোর্টের গান


মন্তব্য