kalerkantho

26th march banner

অনেক মানুষ আমাকে পছন্দ করেন না : ডেবরা উইঙ্গার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৬



অনেক মানুষ আমাকে পছন্দ করেন না : ডেবরা উইঙ্গার

খুব চাপা আর খসখসে কণ্ঠে বললেন ডেবরা উইংগার, গাড়ি থেকে সেক্সি ঢংয়ে অন্তর্বাস ছাড়া নামলেই ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হবেন আপনি। নামকরা এই আমেরিকান অভিনেত্রী খ্যাতি পেয়েছেন ঠিকই। তিন তিন বার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু হলিউডে বিখ্যাত হতে সাম্প্রতিক যে ট্রেন্ড তা নিয়ে সত্যিই হতাশ তিনি।

৬০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী আশির দশক এবং নব্বুই দশকের প্রথম দিকে হলিউড মাতিয়েছেন। ১৯৮২ সালে ২৬ বছর বয়সে 'অ্যান অফিসার অ্যান্ড আ জেন্টলম্যান' ছবিতে অভিনয়ের জন্যে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার সহ অভিনেতা ছিলেন রিচার্ড গ্যারে। এক বছর পরই 'টার্মস অব এন্ডেয়ারমেন্ট' ছবিতে শার্লি শ্যাকলেইনসের চরিত্রে দ্বিতীয়বারের মতো মনোনয়ন অর্জন করেন। তৃতীয় পুরস্কারটি আসে ১৯৯৩ সালে অ্যান্থনি হপকিন্সের সঙ্গে 'শ্যাডোল্যান্ডস' ছবির কারণে।

কিন্তু পর্দায় তার প্রতাপশালী উপস্থিতি থাকলেও শিগগিরই সহকর্মী ও পরিচালকদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিনি রিচার্ড গ্যারেকে একটি ইঁটের দেওয়ালের সঙ্গে তুলনা করেন। জন ম্যারকোভিচকে 'ক্যাটওয়াক মডেল ছাড়া আর কিছুই নয়' বলে মন্তব্য করেন।

সব সময়ই সরাসরি কথা বলতেন তিনি। সম্প্রতি নেটফ্লিক্স এবং আমাজন প্রাইমের বেশ প্রশংসা করেন। গতানুগতিক টেলিভিশন নেটওয়ার্কের ধারা থেকে কিছুটা ভিন্নতার কারণে তিনি বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি নতুন এক কমেডিতে অভিনয় করছেন তিনি। সেখানে সাবেক ক্রীড়া তারকা ছেলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন।

বর্তমানে এই অভিনেত্রী ম্যানহাটানে বাস করছেন। থাকে তার স্বামী অভিনেতা আরলিস হওয়ার্ডের সঙ্গে। আজ থেকে ২০ বছর আগে হলিউড থেকে হারিয়ে গেলেও অনেকে তার স্মৃতি ভুলে যেতে পারেননি। রোজানা আরকুয়েটি একটি ডকুমেন্টরি করেছেন এই অভিনেত্রীকে নিয়ে যার নাম 'সার্চিং ফর ডেবরা উইঙ্গার'।

ডেবরা বলেন, যদি আপনি নিয়মিত পর্দায় চোখ রাখেন তবে দেখেছেন আমি হারিয়ে গেছি। আমি হার্ভার্ডে পড়াশোনা করেছি। আমার তিন সন্তান আছে। আমি আসলে এখান থেকে সেখানে কেবল ছুটে বেরিয়েছি।

নিজের সম্পর্কে বেশ সাহসী মন্তব্য করেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। বললেন, অসংখ্য মানুষ আছেন যারা আমাকে পছন্দ করেন না। আপনি যতগুলো ক্রিসমাস কার্ড পেয়েছেন তার অর্ধেও আমি পাইনি। এখন বিষয়টা নিয়ে আমি ভাবি। আমি হয়তো অনেকের ক্ষতি করেছি। অথবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাউকে আঘাত করেছি। তখন আমার তারুণ্য ছিল এবং ভুলবশত তা হয়েছিল।

আগের সময় যে খুব ভালো লাগতো তার তাও নয়। জানালেন, ছবির সেটে আমার খুব ভালো সময় যেত না। আমাকে নানা ভাবে হেয় করা হয়েছে। যারা করেছেন তাদের অধিকাংশই আজ চলে গেছেন। এ নিয়ে আমার আর খারাপলাগা বোধ হয় না। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, তারা সবাই শুকোরের মতো ছিল। তবে তাদের আত্মা শান্তি পাক।

বলে চললেন তিনি, খারাপ ব্যবহারের পরও আমি নিয়মিত কাজ পেতাম। এখনো আমি সুস্থ-সবল এবং কথা বলছি- এটা দারুণ উপভোগ্য বিষয়। যখন মনে হয়েছে কেউ তার পথ থেকে সরে পড়ছে তখনই তাকে ঝাঁপ দিতে বলেছি। আমি এখনো সেই কাজই করে চলেছি। আমার মনে হয়, মানুষ চায় আমি তাই করে যাই।

আসলে কিছু জ্ঞানের কথা যা বলে তার চেয়ে অনেক খারাপ কিছু করে দেখায় এই পৃথিবী, বললেন উইঙ্গার। বর্তমান সহকর্মী ও সিনেমার ক্রুদের প্রসঙ্গ টেনে বললেন। এদের অনেকেই আগের প্রজন্মের মতোই। সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য