নারীদের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে এগিয়ে-334079 | বিনোদন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


নারীদের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্পিকারের আহবান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ২১:০৭



নারীদের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্পিকারের আহবান

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে কঠিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে নিজেদেরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
স্পিকার বলেন, ‘নারী সমতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। নারী সমতার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সেগুলো একদিনের অর্জন নয়, দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।’
তিনি আজ বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড ভিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্টেপসের চেয়ারপারসন ড. মাহবুবা নাসরীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ। বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য কাজী রিয়াজুল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।
স্পিকার যে কোন অর্জনের জন্য শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘কেউ অধিকার দেবে না । বরং নারীদের অধিকার নিজেদেরই আদায় করে নিতে হবে। এজন্য নারীদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সমাজের সকল বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন ও নীতিমালা সংশোধনের তাগিদ দিয়ে স্পিকার রাজনৈতিক দলে সকল স্তরের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্বের জায়গায় ৫০ শতাংশ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে আমরা ৩৩ শতাংশে রয়েছি। এটা সমান করতে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং আইনী ও নীতিমালায় কি সংশোধন প্রয়োজন সেটা নির্ধারণ করতে হবে। আশা করি সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দেবে।’
২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা সভায় স্পিকার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি পুন:পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কর্মকৌশল পরীক্ষা করে দেখা যায়।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নারী আলোকিত নারী। দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার নারীদের অবদানের জন্য বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশে নারীর অর্জন ফলপ্রসু। এই অবস্থান শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক, সাস্কৃতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি ও সফলতা দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, তৃণমূলে যেসব নারী প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন সকলেই এই ক্ষমতায়নের অংশীদার। তাদের অবস্থান বিবেচনা করে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি সমতা অর্জনের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্পিকার বলেন, জেন্ডার সমতা আনয়নে কোন জায়গাটিতে পরিবর্তন আনা দরকার, সে জায়গাটি চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে নারীর ওপরে ওঠার সিঁড়িগুলো সুসংহত করতে হবে। এছাড়া অর্জিত চ্যালেঞ্জগুলো যাতে সুসংহত হয় সে বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান নারী সমতার অন্যতম ভিত্তি। এর ওপর দাঁড়িয়ে দেশ এগিয়ে যাবে। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ করছেন। তবুও নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নারীর জন্য যথেষ্ট সুযোগ উন্মুক্ত করতে হবে। এজন্য নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য