kalerkantho

ঝিকরগাছায় আনারসে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি    

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৩:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝিকরগাছায় আনারসে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব রীতিমতো আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও দেখা দিয়েছে। ফলে, নির্বাচনপরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা পেয়েছেন দলের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম আনারস মার্কা নিয়ে।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হানের নৌকা মার্কার পক্ষে এরই মধ্যে প্রচার মিছিল, মতবিনিময়সভা ও গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চৌধুরী রমজান শরীফ বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান মুসা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (এক) ছেলিমুল হক সালামসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের আনারস মার্কার পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওসের আলী, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি আজহার আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সামছুর রহমানসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃস্থানীয়দের এই বিভক্তিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারা বেকায়দায় পড়েছেন।

গদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজান আলী মোড়ল জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী দলীয় হওয়ায় আওয়ামী ভোটাররা দ্বিধাদন্দ্বে পড়েছেন।

উপজেলার বল্লা গ্রামের আবুল ইসলাম নামে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী জানান, নেতারা ভাগ হয়ে যাওয়ায় আমরা বেকায়দায় পড়েছি। এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের আরো অনেক কর্মী-সমর্থক।

এ বিষয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চৌধুরী রমজান শরীফ বাদশা জানান, আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দলের সিন্ধান্ত মেনে নিয়ে নৌকার সাথে আছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল জানান, যেহেতু এই নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নেয়নি, তাই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকার বিষয়ে দলীয় কোনো বিধি-নিষেধ না থাকায় তিনি আনারস মার্কার সাথে রয়েছেন।   

এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এই উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য