kalerkantho

ভোটে নেই ভোটাররা

বরিশাল অফিস   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৩:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটে নেই ভোটাররা

প্রার্থী, সমর্থকের পর এবার ভোটে নেই ভোটাররা। ভোটারবিহীন ফাঁকা ভোটকেন্দ্রগুলো খাঁ খাঁ করছে। কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে ভোটার স্লিপ দিতে নেই কোনো নেতাকর্মী। কেন্দ্রের আশপাশে নেই কোনো খাবার দোকানি। 

বাজারগুলোতে যে দোকান ছিল তারও অধিকাংশ বন্ধ। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অলস সময় পার করছেন। ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুথলাগোয়া কক্ষে গল্প করে সকালটা কাটিয়েছেন। দুপুরটা আরো ভয়াবহ বলে বিগত দিনের ভোটের পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। তবে বিকেলে পুরো দৃশ্যপাটই বদলে যেতে পারে বলে ভোটের কাজে নিয়োজিতরা আশা করছেন। ভোটারবিহীন এমন ভূতুড়ে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বরিশালের বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ আর বানারীপাড়ার উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রগুলোতে।  

কেন এমন পরিস্থিতি? তার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, বরিশালের ৯ উপজেলার সাতটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাকি দুটির মধ্যে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে বরিশাল সদরসহ ছয়টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দুজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চারজন। প্রচার-প্রচারণা না থাকায় ভোটকেন্দ্রের আশপাশের জনগণই জানেন না আজ ভোট।

ভোটাররা বলছেন, পোস্টার, মাইকিং নেই। কোনো প্রার্থীও ভোট চাইতে আসেননি। এমনকি প্রার্থীও পক্ষের নেতাকর্মীরাও আমাদের কাছে আসেননি। 

সরেজমিন পরিদর্শনে বাবুগঞ্জের খানপুরা আলীম মাদরাসা, ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাশেদ খান মেনন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চাঁদপাশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

চাঁদপাশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ৩০৫৪জন ভোটারের মধ্যে বেলা ১১টা পর্যন্ত মাত্র ৮ ভাগ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। স্থানীয় এক জনপ্রিতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বেলা ১১টায় প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ওই সময় প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মীদেরই দেখা নেই। 

বরিশালের সাত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ রবিবার সকাল ৮টায় থেকে শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েনি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কার্যক্রম জোরদার রেখেছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইকবাল আখতার জানান, বরিশালের সাত উপজেলায় ৪৮৫ কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ভোটার ১০ লাখ ৬২ হাজার ৭৩৫ জন। কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসারের সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনী এলাকাগুলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৫ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র অনুযায়ী প্রতি উপজেলায় সর্বনিম্ন এক প্লাটুন ও সর্বোচ্চ তিন প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও কোস্ট গার্ডের সাত সেকশন সদস্য রয়েছেন। বিজিবি, কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি র‌্যাব, জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক সদস্য ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য