kalerkantho

শাজাহানপুরে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় ভাঙচুর, লুটপাট

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২০ মার্চ, ২০১৯ ১৯:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাজাহানপুরে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় ভাঙচুর, লুটপাট

বগুড়ার শাজাহানপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে আহত হয়েছে ছয়জন। এ ঘটনায় খাদেমুল ইসলাম ওরফে বিপুল নামে একজন বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

বিপুল জানান, তিনি মোস্তাইল বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন। তার মামা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি এম সুলতান আহমেদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকে বিজয়ী হন। তার পক্ষে কাজ করার কারণে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিউবওয়েল প্রতীকে পরাজিত প্রার্থী সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হুমায়ন কবির শাওনের কর্মী বাবু, নজরুল, বকুল, আরিফুল সিয়াম, নাছিমসহ ২০-২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করে এবং সন্ত্রাসীদের রামদা'র আঘাতে তার বড় ভাই আমিনুর ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। এ সময় দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে একই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে খলিশাকান্দি গ্রামে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং মহিলাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের মুঞ্জুরুল ইসলাম (৬০), আব্দুল কাফী (৪৫) এবং নাসিম (২৮) নামে তিনজন আহত হন। 

আহত মুঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার ছেলে শাহীন আলম তালা প্রতীকের ভিপি সুলতানের পক্ষে কাজ করেছে। ভোটের দিন সকালে শাহীন ও তার সহকর্মীরা মোস্তাইল কেন্দ্রে গেলে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীরা তাদেরকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির সামনে শাহীনসহ তার সহকর্মীদের বসে থাকতে দেখে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুজ্জামান বাহিনীর সদস্যদের ডেকে এনে পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে সে ও তার ছেলে শাহীনের বসতবাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় তার গচ্ছিত সাত লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ছেলে বউয়ের বার আনা স্বর্ণের স্বর্ণালংকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও শাহীনের সহকর্মী কাইয়ুমের বাড়িতে গিয়েও ভাঙচুর করে এবং কাইয়ুমের বাবা আব্দুল কাফী (৪৫) কে মারপিট করে।

বিজয়ী প্রার্থী ভিপি এম সুলতান আহমেদ জানান, পরপর দুইবার তার কর্মী ও স্বজনদের ওপর হামলা, মারপিট করা হয়েছে। খলিশাকান্দি গ্রামে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে মাঝিড়া বাইপাসে ব্যক্তিগত অফিসে আসার পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা এসে পুলিশের সামনেই তাকেসহ তার কর্মীদের গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে যায়। এরপর রাতে আবারো মোস্তাইল বাজারে তার ভাগিনার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়।

পরাজিত প্রার্থী হুমায়ন কবির শাওন জানান, এ বিষয়ে তার কোনো কিছু জানা নেই। নির্বাচনের দায়িত্ব স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই। কারা করছে জানা নেই।

থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য