kalerkantho

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

উপজেলাকে রাঙাতে চান রঙ্গু, ভয়ে আছেন বীরু

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৬:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলাকে রাঙাতে চান রঙ্গু, ভয়ে আছেন বীরু

নরসিংদীর জেলার একেবারে উত্তরের জনপদ মনোহরদী উপজেলা। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলাটি। এখানে মোট ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৩০ হাজার ছয়শ ৭৪জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৭ হাজার চার ৩২জন আর মহিলা ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২জন। উপজেলা নির্বাচনে ৯৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।

আগামী ২৪ তারিখে তৃতীয় ধাপের মনোহরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই উপজেলার সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা জমে উঠে। প্রার্থীরা গণসংযোগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা।

এবারের নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ একই ঘরানার কোনো ব্যক্তি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না আসলেও মনোহরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিনজন ও ইসলামী ঐক্যজোটের একজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম খান বীরু ও টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান রঙ্গুর মধ্যে।

বিভিন্ন জড়িপে দেখা গেছে, এখনো পর্যন্ত হাবিবুর রহমান রঙ্গু জনমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। সকাল থেকে রাত অবদি ভোটারদের ধারে ধারে ছুটে চলছেন। উপজেলাকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত এবং শিক্ষার হার শতভাগ করে সুন্দরভাবে রাঙাতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান রঙ্গু দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করায় সাংগঠনিকভাবে শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করেছেন। উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে রয়েছে বিশাল তার কর্মী-সমর্থক। এ ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পাঁচকান্দী ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করায় পুরো উপজেলা জুড়ে রয়েছে তাঁর ছাত্র-ছাত্রী। নির্বাচনে তারা প্রকাশ্যে ভূমিকা রাখায় টেলিফোনের পাল্লা আরো ভারী হয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

অপরদিকে নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম খান বীরু এ পর্যন্ত চারবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ ভোটাদের অভিযোগ, প্রতিবারই নির্বাচন আসলে তাকে এলাকায় দেখা যায়। নির্বাচিত হওয়ার পরই লাপাত্তা হন তিনি। প্রতিমাসে উপজেলার দু-একটা সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া বাকি সময় ঢাকায় নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সাইফুল ইসলাম খান বীরু। এ কারণে সাধারণ ভোটাররা এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ দেখতে চান।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে সরজমিনে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম খান বীরু দলীয় মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান রঙ্গু টেলিফোন প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীরা রঙ্গুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপিসহ একই ঘরানার কোনো প্রার্থী না থাকায় তারাই টেলিফোন প্রতীকের ভোট ব্যাংক বলে মনে করেন সচেতন ভোটাররা। ফলে হাবিবুর রহমান রঙ্গুর টেলিফোন প্রতীকের বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত দেখছেন নির্বাচন বিশ্লেষকগণ।

মনোহরদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে এ দুজন ছাড়াও মিনার প্রতিকে মো. রফিকুল ইসলাম এবং আনারস প্রতীক নিয়ে ব্যবসায়ী নাজমুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

মন্তব্য