kalerkantho

শ্রীবরদীতে মুখোমুখি আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি    

১৭ মার্চ, ২০১৯ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শ্রীবরদীতে মুখোমুখি আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততই তোড়জোড় বাড়ছে প্রার্থীদের। বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। শহর ও গ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছেয়ে গেছে পোস্টারে। ছন্দ আর গানে গানে চলছে প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং আর প্রচার-প্রচারণা। সকাল থেকে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। ভোট চাচ্ছেন। জন বহুল এলাকাগুলোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওঠান বৈঠক। প্রার্থী আর কর্মীদের দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ততা চায়ের স্টল আর আড্ডা। কে কার পক্ষে? কোন প্রার্থী কেমন? কে বেশি জনপ্রিয়? রাজনৈতি দলের নেতাকর্মীরা কার পক্ষের? এমনি নানা যুক্তি তর্কে ভারি হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। 

সর্বত্র চলছে নির্বাচনী উৎসব। তবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী ৫ জন। এদের মধ্যে দুই জন ভোটের মাঠে অনেকটা মুখোমুখী। এছাড়াও জাতীয় পার্টির একজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১০ জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

জানা যায়, আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খোকা। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কোন্দল আর দীর্ঘদিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে থাকায় জনসমর্থনে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন এই প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলো একত্রে ভোটে নামলে এই প্রার্থী আবারো নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল (আনারস প্রতীক)। 
যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কমিটির থেকে ঝড়ে পড়া নেতাকর্মীসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মীদের রয়েছেন তার পক্ষে। এছাড়াও তরুণ এ প্রার্থী বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করায় নিজেকে পরিচিতি করে তুলেছেন। এমনকি আওয়ামী যুবলীগের উপজেলার ১০ ইউনিয়নেই ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনে আলোচনায় এসেছেন এই প্রার্থী। এছাড়াও উপজেলার উত্তর অঞ্চলের তাতিহাটি, কাকিলাকুড়া, সিংগাবরনা, রানীশিমুল ও গোসাইপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ ভোট পাবেন বলেন মন্তব্য করেন অনেকে। এসব নানা কারণে এবার ভোটের মাঠে তাকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। 

অপরদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক কেকেরচর ইউপি চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম (মোটর সাইকেল প্রতীক)। তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। সেই সময় লবিং, গণসংযোগ, পথসভা ও মোটরসাইকেল শোভা যাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। ওই সময় তাকে নিয়ে অনেকটা আলোচনাও হয়েছে। মনোনয়ন না পেয়ে এই প্রার্থী এবার এসেছেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। এতে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ সংগঠনের সুবিধাবঞ্চিত কিছু নেতাকর্মী তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও তিনি দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সুবাদে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সাথেও তার একটা সখ্যতা রয়েছে। সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের অনেকে তার পক্ষে মৃদু সমর্থন দিচ্ছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। 
এছাড়াও ভোটের মাঠে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে পরবর্তীতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় ভোটের মাঠ অনেকটাই তার পক্ষে রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের প্রার্থী হওয়ায় কেকেরচরচর, ভেলুয়া, কুড়িকাহনীয় ও গড়জরিপা ইউনিয়নের বেশিরভাগ ভোট পাবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে ভোটের মাঠে। এসব নানা কারণে এবার আনারসের সাথে মোটরসাইকেল প্রতীকের লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন সবাই। তবে এর পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। 

এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মতিন (দোয়াত কলম প্রতীক), আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ সোহাগ (ঘোড়া প্রতীক) উপজেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি পারভেজ সরোয়ার আলম (কাপ পিরিচ প্রতীক), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল আহসান (লাঙ্গল প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এরশাদুল আলম জজ (হেলিকপ্টার প্রতীক), ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আকন্দ (উড়োজাহাজ প্রতীক), ব্যবসায়ী নেতা বিল্লাল হোসেন (গ্যাস সিলিন্ডার প্রতীক), পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান (বই প্রতীক), এমরুল কায়েস (তালা চাবি প্রতীক), ফরিদ আহমেদ নিলু (টিয়া পাখি প্রতীক), আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান (মাইক প্রতীক), আওয়ামী যুবলীগ নেতা খন্দকার মোহাম্মদ শামীম রানা (পালকি প্রতীক), গোলাম মোস্তুফা (চশমা প্রতীক), ফারুক হোসেন শ্যামল (টিউবওয়েল প্রতীক) এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান (বাল্ব প্রতীক)। 

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপি বেগম (ফুটবল প্রতীক)। তিনি বিগত নির্বাচনে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ভোট। এবারো ভোটের মাঠে তিনি এসেছেন ব্যাপক আলোচনায়। এছাড়াও লড়ছেন সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাবিনা আকতার লিমা (হাঁস প্রতীক) ও জাহানারা বেগম জলি (কলসি প্রতীক)।

মন্তব্য