kalerkantho


খেলা

ব্রাজিল বিশ্বকাপের আয়নায় রাশিয়ার অঙ্ক

সনৎ বাবলা

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাজিল বিশ্বকাপের আয়নায় রাশিয়ার অঙ্ক

খুব মনে পড়ছে ক্লদিও কারসুঘিকে। ‘মারাকানাজো’র স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা ব্রাজিলের একমাত্র সাংবাদিক। ১৯৫০ বিশ্বকাপের ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচটি দিয়েই তাঁর খেলা কাভার করা শুরু হয়েছিল প্রেস বক্সে বসে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শুরু। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি ফুটবলের অপার সৌন্দর্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতাজীবনের শুরুর দিনটিকে ভরিয়ে দেবে—এমন প্রত্যাশায় ম্যাচ দেখতে বসেছিলেন। দেখেছেন অপ্রত্যাশিত বিভীষিকা। একটি হার সংক্ষুব্ধ করে তুলেছিল পুরো ব্রাজিলকে। মারাকানা স্টেডিয়ামের দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল বাইরেও।

শেষমেশ ফুটবলীয় সৌন্দর্যকে ম্লান করে ম্যাচটি হয়ে ওঠে ব্রাজিলে চরম অরাজকতার উৎস। কারসুঘির সাংবাদিকতাজীবনেরও টার্নিং পয়েন্ট বটে, ফুটবল সুধা পান না হলেও এমন ঘটন-অঘটনের ছিপি খুলে যাওয়া ম্যাচ শতাব্দীতেও হয়তো একটি পাওয়া দায়। তাই সর্বশেষ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গিয়ে সেই ইতিহাসের সাক্ষীকে খুঁজে বের করা। ৮২ বছর বয়সেও তিনি সক্রিয় সাংবাদিক! রেডিও হোভেন আর স্পোর্ট টিভিতে কাজ করার ফাঁকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারসুঘি নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ম্যাচটিকে স্মরণ করেছিলেন এভাবে : ‘সেদিন ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলাম এক উদ্দেশ্যে, কিন্তু হয়ে গেল আরেক। অনেকটা জাতীয় শোকের মতো। দুই লাখের বেশি মানুষ খেলা দেখতে গিয়েছিল মারাকানায়, মাঠের ভেতরেও দর্শক বসেছিল। ড্র করলেই তো ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন। আগে থেকেই উৎসবের বাদ্যি বাজছে গ্যালারিতে। কিন্তু ম্যাচ শেষে কান্নার রোল স্টেডিয়ামে, হার মেনে নিতে না পেরে আরেক দল হাঙ্গামা শুরু করে দিয়েছিল।’

উরুগুয়ের জয়ের নায়ক ঘিগিয়া। তাঁর শটে পরাস্ত হয়েছিলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক বারবোসা।

কারসুঘি : এরপর নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল বেচারা বারবোসাকে। তিনি একরকম বন্দিদশায় জীবন কাটিয়েছেন, জনসমক্ষেই আসেননি। মৃত্যুই তাঁকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

এবার কি সে রকম ট্র্যাজেডির (২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের মাঝামাঝি তখন) শঙ্কা দেখেন?

কারসুঘি : আধুনিক ফুটবলে কোনো বড় দল ম্যাচের আগে বলতে পারবে না আমরা জিতব। কারণ খেলাটায় অনেক বেশি ট্যাকটিকস চলে এসেছে। তবে ব্রাজিল পুরোপুরি নেইমারনির্ভর হয়ে পড়েছে, এটাই ভয়ের কারণ।

কোনো ম্যাচে সে ফ্লপ করলে...

তাঁর শঙ্কাই সত্যি হয়েছিল। নেইমার খেলেননি আর ব্রাজিল দলও ভুলে যায় ফুটবল খেলা। জার্মানির বিপক্ষে এক এক করে গোল খাচ্ছে আর মিনেইরো স্টেডিয়াম তাকিয়ে আছে হতবিহ্বল হয়ে। কী হচ্ছে এসব! প্রেস বক্সের আশপাশে তাকিয়ে দেখি, সজল চোখে কেউ কেউ ঈশ্বরের শরণ নিয়েছে, আরেক দল সংক্ষুব্ধ হয়ে খেলোয়াড়-কোচের পিণ্ডি চটকাতে শুরু করেছে। গোলসংখ্যা ৫ ছোঁয়ার পর তারা মন শক্ত করে তৈরি হয়ে যায় ব্রাজিলীয় ফুটবলের নতুন ট্র্যাজেডির জন্য। ৭-১ গোলে হারের ট্র্যাজেডির নাম ‘মিনেইরাজো’। বিদেশি সাংবাদিক-সমর্থকরাও ভয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষ হতেই কয়েকজন জার্মান সমর্থক জার্সি খুলে শার্ট পরে নেয়। মুছে ফেলে মুখে আঁকা জার্মান পতাকা। কারণ বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো হাঙ্গামার খবর আসছে মিডিয়া সেন্টারে। পুলিশি তত্পরতায় অবশ্য ১৯৫০ সালের মতো তাণ্ডব হয়নি শহরজুড়ে। তবে মাধুর্য হারিয়েছিল বিশ্বকাপ, এমন হারের জন্য যেন তৈরি ছিল না ব্রাজিলের মানুষ।

রাশিয়ার অন্তত এই ভয় নেই। তাদের জনগণের প্রত্যাশার পারদ কখনো শিরোপা ছোঁয়নি। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য মানুষের জানা, ফুটবলীয় সামর্থ্যের সঙ্গে রুশ জনগণের সমর্থন যোগ করেই দলটিকে এগোতে হবে। তাতে যদি রুশ ফুটবলে নতুন কোনো সমৃদ্ধি যোগ হয়। পড়েছেও সহজ গ্রুপে—উরুগুয়ে, মিসর ও সৌদি আরবের সঙ্গে। সত্যি বললে, মাঠের খেলা থেকে রুশ সরকারের বিশেষ চাওয়া নেই। বিশ্বকাপকে রাজনীতির গুটি বানিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ধুয়েমুছে ফেলতে চান নিজের রাজনৈতিক অপকর্ম। স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে হাত নাড়িয়ে মানুষের শ্রদ্ধা আদায় করতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট। প্রশ্নবিদ্ধ রুশ গণতন্ত্রকে আড়াল করে ফুটবলের সুরভি পৌঁছে দিতে চান পশ্চিমা বিশ্বে। কিন্তু পারছেন কই! গত ১৪ মে সিরিয়ার এনজিওগুলো এক হয়ে সুধী সমাজের ব্যানারে পুতিনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার কাছে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সিরিয়ায় গণহত্যা বন্ধের উদাত্ত আহ্বান তাদের। সিরিয়ায় ২০১৫ সাল থেকে হত্যায় হাত রাঙানোর অভিযোগ রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র হয়ে সৈন্য পাঠিয়ে হত্যাযজ্ঞে শামিল হয়েছে রাশিয়া। ওদিকে ২০১৪ সালে সচির শীতকালীন অলিম্পিক শেষ হওয়ার দিন তিনেক বাদেই ক্রিমিয়া দখল করতে সৈন্য পাঠিয়ে দেয়। যুদ্ধ শুরু হয় পূর্ব ইউক্রেনে। বিষ প্রয়োগে সাবেক রুশ এজেন্ট হত্যা বিতর্ক একেবারে টাটকা। সুতরাং চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধাওয়া করছে অনেক বিতর্ক। এর পরও বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্টের আয়োজক রাশিয়া! বিশ্লেষকরা তাই এ আয়োজনকে দেখছেন নানাভাবে। বলা হচ্ছে, বিশ্ব এবার একটা ‘রাজনৈতিক বিশ্বকাপ’ দেখবে। ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন রাশিয়া বিশ্বকাপকে তুলনা করছেন ১৯৩৬ সালে হিটলারের বার্লিন অলিম্পিকের সঙ্গে।

একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল বিশ্বকাপও উত্তপ্ত ছিল। পুতিন জেরবার আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আর ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল দেশের জনগণ। দেশের ভেতরে নানা সমস্যার সমাধান না করে বিশ্বকাপের মহযজ্ঞে নামায় খেপে গিয়েছিল মানুষ। এতে সংকট তীব্রতর হবে এবং অর্থনীতি পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কায় তারা বিক্ষোভ করেছিল এভিনিউ দা পাওলিস্তায়। প্রেসিডেন্ট দিউমার কুশপুত্তলিকা জ্বালিয়ে, বড়কর্তাদের মুণ্ডপাত করে বিশ্বকাপবিরোধী হাওয়া গরম করেছিল। আবার কয়েক দিন বাদেই ২.৮ কিলোমিটার বিস্তৃত সেই পাওলিস্তা এভিনিউতে জ্বলেছে বিশ্বকাপের রং মশাল। সাও পাওলোর একটা বিখ্যাত জায়গা এটা, রাস্তার দুই ধারে আধুনিক সব স্থাপত্য—বিখ্যাত স্থাপত্য জাদুঘর, সাংস্কৃতিক ভবনের পাশে আছে বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা ও সরকারি অফিস। এর মধ্যে একটি ভবন সেজেছিল বিশ্বকাপের ৩২টি দলের পতাকা দিয়ে, রাতের আলোয় যা অপূর্ব রূপ ধারণ করে অফিসফেরতা মানুষের মনে বিশ্বকাপের কড়া নেড়েছিল। ১৮৯১ সালে উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এটিই হযে ওঠে সাও পাওলোর জীবনের প্রতীক। এ যেন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, বিভিন্ন উৎসবে যেমন বিভিন্নভাবে তার চেহারা বদলায়। এই এভিনিউতেও বর্ষবরণে মানুষের ঢল নামে, রাস্তার দুই মুখ বন্ধ করে দিয়ে নেচে-গেয়ে তারা স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। কোরিন্থিয়ান্স কিংবা জাতীয় দলের শিরোপা উৎসবেও ঠিক একই চেহারা নিয়ে হাজির হয়। আবার প্রতিবাদ-প্রতিরোধেও আছে সে।

আবার কোপাকাবানা বিচে গিয়ে দেখা গেছে পুরো ফুটবলময় এক সৈকত। গ্রেট ফুটবলারদের অবয়বে তৈরি হয়েছিল বেশ কিছু বালুভাস্কর্য, পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ সেলফি তুলতে ব্যস্ত। প্রতিদিনই ছিল ফ্যান-ফেস্টের আয়োজন। খাওয়াদাওয়া, নাচ-গান আর বিশাল স্ক্রিনে খেলা উপভোগ করছে মানুষ। ভিনদেশিরা টিকিট না পেয়ে শরিক হয় কোপাকাবানার ফ্যানফেস্টে। নিজের দল গোল করলে পরম তৃপ্তি নিয়ে পানীয়তে চুমুক দিয়ে মাতে নৃত্যে। তাতে প্রতিপক্ষের একটু অস্বস্তি হয়, কিন্তু ফিরতি গোলের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। শুধু বিশ্বকাপের মজা নয়, রিও ডি জেনেইরোর এই চার কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত নাকি তাদের ফুটবলের অন্যতম আঁতুড়ঘর। সেখানে অন্তত ৩০-৪০টি গোলপোস্ট পাকাপোক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হতে পারে, ঢাকার মতো এত বড় ব্রাজিলেও ফুটবল মাঠের অভাব পড়েছে, তাই সৈকতে খেলে। আসলে তা নয়, সবুজে ঘেরা এই নগরী এতটাই পরিকল্পিত যে এখানে ইউরোপের মতো ফুটবল সংস্কৃতি, প্রতিটি ক্লাবের কয়েকটি করে মাঠ আছে। একাডেমি আছে। আর এই সৈকত হলো বিচ সকারের চারণভূমি। ফ্ল্যামেঙ্গো-বোতাফেগা প্রতিটি বড় ক্লাবের বিচ সকার দল আছে। সৈকতে তাদের প্র্যাকটিসের পাশাপাশি কয়েক শ শিশু-কিশোর প্রতিদিন খেলে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে। সৈকতের বালুতে খেললে নাকি পায়ের পেশি সুগঠিত হয়, বাড়ে স্ট্যামিনা।

সত্যি বললে, এই কোপাকাবানাতেই খুঁজে পেয়েছিলাম সেই বইয়ের ব্রাজিলকে। পেলের ব্রাজিল। ফুটবলে রাঙানো এক দেশ। ছোটবেলায় পাঠ্যসূত্রে পাওয়া এ এক ফুটবল ইলিউশনের জগৎ। বড়বেলার চর্চায়ও কারণে-অকারণে এই দেশ ও তার ফুটবল আরো রোমাঞ্চকর হয়ে গেঁথে গিয়েছিল মনোজগতে। মানসপটে আঁকা ওই ছবিটি ছিল ফুটবলময় এক জনজীবনের। আলাপে-আড্ডায় ও প্রাত্যহিক কর্মে সর্বত্রই যেন ফুটবল বিরাজমান! ইলিউশনের এই ছবিটা ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলে পা রেখে। কল্পনার রং বাদ দিলে যেটুকু থাকে সেটুকুই আছে, তাদের কালচার আধুনিক ফুটবলবিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই। তবে একাডেমিজাত ফুটবলারের চেয়ে আনকোরা প্রতিভার স্ফুরণ বেশি। সেই প্রতিভাবানের সংখ্যা বোধ হয় সবচেয়ে কম ছিল গতবারের ব্রাজিল দলে। একমাত্র নেইমারই ছিল আলাদা গোত্রের। এবার সেই তারার দলে যোগ হচ্ছে কৌতিনো, মার্সেলো, জেসুসরা। নিশ্চিতভাবে গতবারের চেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে তিতে যাচ্ছেন রাশিয়ায়। এই ব্রাজিলিয়ান কোচের হাতেই তাদের ফুটবল খোলতাই হয়েছে। বেড়েছে আক্রমণের ঝাঁজ ও গোল। সুবাদে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে সবার আগে বাছাই পর্ব উতরে ব্রাজিল বসেছে বিশ্বকাপ ফেভারিটের হট সিটে।

প্রতিভাবানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে অবশ্য সবাইকে ছাপিয়ে যাবে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। গ্রিয়াজমান, পগবা, এমবাপ্পে, রাবিও, দেম্বেলের মতো এত তারকার সম্মিলন হয়নি আগে। প্রতিটি পজিশনের সামর্থ্য যোগ করলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকবে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে। বাকিটা নির্ভর করছে দিদিয়ের দেশমের কৌশলের ওপর। এদিকে স্পেনও আবার তৈরি হয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরে পেতে। মধ্যমাঠের সৃষ্টিশীলতায় ইনিয়েস্তা, সিলভা, ইসকোদের জুড়ি নেই। ঠিকঠাক মিলছে না শুধু স্ট্রাইকিং পজিশনের অঙ্কটা। চেলসিতে বাজে ফর্ম গেছে আলভারো মোরাতার। দিয়েগো কস্তার পায়েও বেলা শেষের ফুটবল। মাঝেমধ্যে শেষ বিকেলটা আভায় ভরে ওঠে বৈকি। বিশ্বমঞ্চে কস্তার সে রকম কিছু হলে কিংবা মোরাতার গোলের গণ্ডগোল কেটে গেলে স্পেনের শীর্ষারোহণ ঠেকায় কে!

ঠেকানোর মেশিন একটাই—জার্মান বুলডোজার। যন্ত্রাংশে কী আছে নেই, সেই অঙ্কে যাওয়ার দরকার নেই। বলা ভালো, তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে অসম্ভবকে সম্ভব করার এক ফুটবল রেসিপি আছে জোয়াকিম লোর কাছে। তাদের সামনে ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসির মতো মহাতারকাও মাথা নুইয়েছে। সুতরাং জার্মানি রাশিয়া যাবে শিরোপার অধিকার নবায়ন করতে। শুধু জার্মান মেশিনের স্তুতি করে গেলে গত বিশ্বকাপের ফাইনালটা একপক্ষীয় হয়ে যায়। গোলের সুযোগ বেশ কয়েকটা পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। হিগুয়াইনের সেই অবিশ্বাস্য মিসসহ সুযোগগুলো নষ্ট করে আর্জেন্টাইনরা প্রতিষ্ঠা করেছে এক ঐতিহাসিক সত্য—তাদের তারকারা মোক্ষম সময়ে সেরাটা দিতে পারে না। এটা খণ্ডাতে ‘মেসির দল’ যাবে রাশিয়ায়। বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনাকে মেসির দল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন তাদের কোচ হোর্হে সামপাওলি। মানে মেসিই হবেন দলের নিউক্লিয়াস। বার্সেলোনায় তাঁকে কেন্দ্র করে খেলাটা যেভাবে তৈরি হয়। কিংবা সতীর্থরা আক্রমণে উঠতে ‘খুদে জাদুকরকে’ যেভাবে ব্যবহার করে। বার্সার রসায়নটা জাতীয় দলে জমছে না বলেই বারবার তীরে এসে ডুবছে আর্জেন্টিনার তরি। অ্যাগুয়েরো-দিবালারা ঠিকঠাক সংগত করে এবার আসর জমাতে পারলেই মেসি এবং আর্জেন্টিনার সপ্তম স্বর্গে উত্তরণ ঘটবে।

মহাতারকার কীর্তিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে রাশিয়া বিশ্বকাপ। সঙ্গে ফুটবলও দায়মুক্ত হবে। পৃথিবীর কোনো কিছুই একপক্ষীয় হতে পারে না। ফুটবলকে যিনি এত এত দিয়েছেন, যাঁর দুপায়ের ম্যাজিকে খেলাটি শিল্পোত্তীর্ণ রূপ পেয়েছে, সাধারণ দর্শকমনে ফুটবলের অবিশ্বাস্য মায়াজাল তৈরি করা এই জাদুকরকে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার একটা দায় তো থাকেই। এবারই হয়তো শেষ সুযোগ। কাপ হাতে মেসির শিরোপামঞ্চে আরোহণের মধ্য দিয়েই ফুটবলের দেওয়া-নেওয়ার অঙ্ক চুকিয়ে দিতে পারে রাশিয়া বিশ্বকাপ।



মন্তব্য