kalerkantho

পঞ্চম শ্রেণি

বাংলা

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রচনা

আমাদের দেশে

ভূমিকা : আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। বিচিত্র রূপের লীলাভূমি আমাদের এই দেশ। অরণ্য, সাগর, নদী, শিলাময় উঁচু পাহাড় নিয়ে এ দেশ। সুজলা, সুফলা, শস্য-শামলা এ দেশের রূপে মানুষ নানাভাবে মুগ্ধ হচ্ছে। সে মুগ্ধতা কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে এভাবে—                       ‘আমার দেশের মতোন এমন

দেশ কি কোথাও আছে?

বউ কথা কও পাখি ডাকে নিত্য হিজল গাছে।’

 

অবস্থান ও আয়তন : বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের জনবহুল দেশ। এ দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। এ দেশের মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি। বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা ও মিয়ানমার, উত্তরে আসাম ও মেঘালয়, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

 

জলবায়ু ও আবহাওয়া : বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন। এ দেশের জলবায়ুর ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বেশি। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব হয়। উষ্ণ গ্রীষ্ককাল, শুষ্ক শীতকাল ও আর্দ্র বর্ষাকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ বর্ষাকালে এ দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মোট কথা, বাংলাদেশের আবহাওয়া মনোরম ও উপভোগ্য। কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ুর প্রভাব বেশি।

 

বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির রূপ : প্রত্যেক ঋতুর আবির্ভাবে বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপ ও সৌন্দর্য বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। কবির ভাষায়—

‘ঋতুর দল নাচিয়া চলে

ভরিয়া ডালি ফুলে ও ফলে’      

গ্রীষ্ম ঋতু : বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ দুই মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময় প্রকৃতির শ্যামল-স্নিগ্ধরূপ হারিয়ে যায়। খাল-বিল, নদী-নালা শুকিয়ে যায়। অসহ্য গরমে প্রাণীকূল একটু শীতল পানি ও ছায়ার জন্য কাতর হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়ে সব কিছু তছনছ করে দেয়। তবে গ্রীষ্ম শুধু পোড়ায় না, অকৃপণ হাতে দান করে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ ও নারিকেলের মতো অমৃত ফল।

 

বর্ষা ঋতু :

বর্ষার ঝরঝর সারা দিন ঝরছে

মাঠ-ঘাট থৈ থৈ, খাল বিল ভরছে।

আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। এ সময় গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে যায়। প্রকৃতিতে দেখা যায় সজীবতা। গ্রীষ্মের উত্তাপের পরে বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে আসে প্রশান্তি। কৃষকরা জমিতে ধান-পাটের বীজ রোপণ করে। গাছে গাছে ফোটে কদম, কেয়া, জুঁই। বর্ষায় পাওয়া যায় আনারস, পেয়ারা প্রভৃতি ফল।

 

শরৎ ঋতু : বাতাসে শিউলি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে শরৎ আসে ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস নিয়ে। এ সময় সাদা মেঘ তুলোর মতো নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়। নদীর তীরে কাশফুলের মেলা, সবুজ ঢেউয়ের দোলায় দুলে উঠে ধানের ক্ষেত। রাতের আকাশে জ-ল জ-ল করে লাখো তারার মেলা। শাপলার হাসিতে বিলের পানিও ঝলমল করে ওঠে। কবির ভাষায়—

‘আজিকে তোমার মধুর মুরতি

হেরিনু শারদ প্রভাতে

হে মাতঃ বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ

ঝলিছে অমল শোভাতে।’

           

শীত ঋতু :

‘হিম হিম শীত শীত

শীত বুড়ি এলো রে;

কনকনে ঠাণ্ডায়           

দম বুঝি গেল রে।’

পৌষ-মাঘ দুই মাস নিয়ে রিক্ততার বেশে আসে শীত ঋতু। কনকনে শীতের দাপটে মানুষ কাতর হয়ে পড়ে। তবে রকমারি শাকসবজি, ফল ও ফুলের সমারোহে প্রকৃতি ভরে ওঠে। বাতাসে আসে খেজুর রসের ঘ্রাণ। ক্ষীর-পায়েস আর পিঠাপুলির উৎসবে মেতে ওঠে গ্রামবাংলা।

 

বসন্ত ঋতু : ফাল্গুন-চৈত্র এ দুই মাস নিয়ে বসন্ত আসে। বাতাসে ফুলের সুবাস, গাছে গাছে কোকিলের কুহুতান। আনন্দে আত্মহারা কবি তাই গেয়ে ওঠেন—

‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে

এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়।’        

 

উপসংহার : বাংলাদেশ চির সবুজের দেশ। প্রকৃতি তার অকৃপণ হাতে অজস্র সম্পদ দান করে সমৃদ্ধ করেছে এ দেশকে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর বিচিত্র মানুষের সমারোহে এ দেশ ছবির মতো সুন্দর। তাই তো কবি বলেছেন—

‘বাড়ি-বাগান, পাখ-পাখালি

            সব মিলে এক ছবি,

নেই তুলি নেই রঙ, তবুও

            আঁকতে পারি সবই।’

        (স্বদেশ—আহসান হাবীব)

মন্তব্য