kalerkantho

জানা-অজানা

গণঅভ্যুত্থান

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘গণঅভ্যুত্থান’-এর কথা উল্লেখ আছে]

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গণঅভ্যুত্থান

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের পেশাজীবীদের মধ্যে আন্দোলন ক্রমশ সংগ্রামে রূপ নিতে থাকে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামসহ পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে ওঠা স্বকীয় সত্তার বোধ এ আন্দোলন সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছিল। আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপ নেয় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘোষিত গভর্নর হাউজ ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতারা ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তারা ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। বস্তুত এ ১১ দফা ছিলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। ঐসময় থেকে শেখ মুজিবের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে থাকে। আন্দোলন ক্রমশ দানা বেঁধে ওঠলে ১১ দফার চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে মেনন গ্রুপের ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম নেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণআন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।     

♦ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য