kalerkantho

এইচএসসি প্রস্তুতি

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা—দ্বিতীয় পত্র

মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা—দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

১।        পাঁচ বৎসর পূর্ণ হওয়ায় দিবা স্কুলে ভর্তি হয়েছে। দিবার বাবা দিবার পড়াশোনার ভবিষ্যৎ ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি বীমা করার সিদ্ধান্ত নেন। বীমাচুক্তি সম্পাদনের সময় দিবার বাবা দিবাকে চুক্তির প্রস্তাবকারীপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। বীমা কম্পানি তা প্রত্যাখ্যান করে। তাই দিবার বাবা প্রস্তাবকারী হিসেবে চুক্তি সম্পাদন করেন।

            ক) যুগ্ম বীমা কী?         ১

            খ) মেয়াদপূর্তির আগে বীমাপত্র ফেরত দিলে যে মূল্য প্রদত্ত হয় তাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।       ২

            গ) উদ্দীপকে বর্ণিত বীমাটি কোন ধরনের জীবন বীমার অন্তর্গত? বর্ণনা করো।       

                               ৩

            ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বীমাচুক্তির কোন উপাদান বিবেচনায় বীমা কম্পানি দিবাকে প্রস্তাবকারীপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি? যুক্তিসহ মতামত দাও।

            উত্তর :

            (ক) যে বীমা ব্যবস্থায় একই বীমা পলিসির আওতায় একাধিক ব্যক্তির জীবনকে বীমা করা হয় তাকে যৌথ বীমা বলে।

            (খ) মেয়াদ পূর্তির আগে বীমাপত্র ফেরত দিলে যে মূল্য প্রদত্ত হয় তাকে সমর্পণ মূল্য বলে।

            জীবন বীমা পলিসি খোলার পর কোনো কারণে বীমা গ্রহীতা ওই পলিসি চালিয়ে যেতে অসমর্থ্য হলে তখন যদি সে ওই পলিসি বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সর্ম্পণ করে এবং বীমা প্রতিষ্ঠান তার বিনিময়ে বীমা গ্রহীতাকে কোনো অর্থ প্রদান করে, তবে তাকে বীমাপত্রের সমর্পণ মূল্য বলে। এরূপ সমর্পণ মূল্য কত হবে তা নির্ভর করে বীমা গ্রহীতা পলিসির বিপক্ষে কী পরিমাণ প্রিমিয়াম কত সময় ধরে পরিশোধ করেছে তার ওপর। তবে এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর বীমা গ্রহীতাকে বীমাপত্রটি চালিয়ে যেতে হবে।

            (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত বীমাটি হলো শিক্ষাচুক্তি বীমাপত্র।

            এ ধরনের বীমাপত্র সাধারণত সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে গ্রহণ করা হয়।

            এর বীমাকৃত অর্থ নির্দিষ্ট সময়ান্তর বৃত্তি আকারে পাওয়া যায়। সন্তানের পক্ষে পিতা অথবা অভিভাবক, যার নামে বীমাপত্র গ্রহণ করা হয় তাকেই ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। যার কল্যাণার্থে বীমাপত্র গ্রহণ করা হয়, তাকে সুবিধা গ্রহীতা বা বৃত্তি প্রাপক বলা হয়।

            উদ্দীপকে বর্ণিত দিবার বাবা দিবার পড়াশোনার ভবিষ্যৎ ব্যয় নির্বাহের জন্য এ বীমাপত্রটি গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান করেন এবং বীমা কম্পানি চুক্তি অনুযায়ী অর্থ প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুতরাং এটি একটি শিক্ষাবৃত্তি বীমা।

            ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে বীমাচুক্তির ‘চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা’ উপাদানটি বিবেচনায় দিবাকে প্রস্তাবকারীপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

চুক্তি আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে যে আইনত প্রাপ্তবয়স্ক, প্রকৃতিস্থ, আর্থিকভাবে সচ্ছল এমন প্রত্যেক ব্যক্তিই চুক্তি সম্পাদনে যোগ্য। বীমাচুক্তিতে উভয় পক্ষের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা থাকতে হয়। আইনানুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিই চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য, যদি সে স্বদেশীয় আইন অনুযায়ী সাবালক হয়, মস্তিষ্ক বিকৃতি না ঘটে এবং আইন অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের অযোগ্য ঘোষিত না হয়। উদ্দীপকে দিবার বয়স পাঁচ বছর। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সাবালক হওয়ার বয়স ১৮ বছর। দিবা নাবালক হওয়ার কারণে আইন অনুযায়ী তার চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা হয়নি। তাই দিবাকে বীমাচুক্তির প্রস্তাবকারীপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। দিবার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হলে সে বীমাচুক্তির প্রস্তাবকারীপক্ষ হতে পারত।

            সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে বীমা কম্পানির দিবাকে প্রস্তাবকারীপক্ষ হিসেবে বীমাচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত না করা অত্যন্ত ন্যায়সংগত বলে আমি মনে করি। কেননা বীমাচুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা অন্যতম একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

মন্তব্য