kalerkantho


এসএসসি প্রস্তুতি

জীববিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



জীববিজ্ঞান

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

দ্বিতীয় অধ্যায় : জীবকোষ ও টিস্যু

 

চিত্রগুলো লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) রেস্ট্রিকশন এনজাইম কী?                ১

খ) মিউচুয়ালিজম বলতে কী বোঝায়?   ২

গ) উদ্দীপকের কোনটি পরীক্ষার্থীদের উত্তর স্মরণ রাখতে সাহায্য করবে? সেটির গঠন ব্যাখ্যা করো।                   ৩

ঘ) ‘পরিবেশে টিকে থাকতে ও দেহকে কর্মক্ষম রাখতে A, B ও C

 এর সমন্বয় প্রয়োজন’ বিশ্লেষণ করো।             ৪

উত্তর : ক) DNA-কে কাটার বিশেষ ধরনের এনজাইমকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম বলে।

খ) সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়, তাকে মিউচুয়ালিজম বলে। একটি শৈবাল ও একটি ছত্রাক সহাবস্থান করে লাইকেন গঠন করে। ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ এবং উভয়ের ব্যবহারের জন্য খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। অন্যদিকে শৈবাল তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করাজাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।

গ) পরীক্ষার্থীদের উত্তর স্মরণ রাখতে সাহায্য করবে নিউরন। নিচে নিউরনের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো।

একটি আদর্শ নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। যথা—

১। কোষদেহ : কোষদেহ বহুভুজাকৃতি ও নিউক্লিয়াস যুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।

২। ডেনড্রাইট : কোষদেহ থেকে একাধিক কোষ শাখা বের হয়। এর উদ্দীপনা নিউরনের দেহের দিকে পরিবাহিত করে। এদের সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি পর্যন্ত হতে পারে।

৩। অ্যাক্সন : নিউরনের কোষদেহ থেকে একটি লম্বা স্নায়ুতন্তু নিউরনের ডেনড্রাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাকে অ্যাক্সন বলে। এরা উদ্দীপনা-পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পারিবাহিত করে। একটি নিউরনের একটি অ্যাক্সন থাকে।

ঘ) চিত্রের A কোষটি স্নায়ুকোষ, B অনৈচ্ছিক পেশির কোষ এবং C হৃৎপশির কোষ। পরিবেশে টিকে থাকতে ও দেহকে কর্মক্ষম রাখতে A, B ও C এর সমন্বয় প্রয়োজন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

স্নায়ুকোষ উদ্দীপনা গ্রহণ করে, প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে সমন্বয় সাধন করে। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশির কোষগুলো খাদ্য গলাধঃকরণ, অন্ত্রের অভ্যন্তরে পরিবহন ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।

হৃৎপশির সাহায্যে ভ্রূণীয় অবস্থা থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ছান্দিক গতিতে চলতে থাকে এবং দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে। ওই পেশিগুলো একত্রে দেহের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ করে বলে একই সঙ্গে সমন্বয় সাধন প্রয়োজন। ওই টিস্যুগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি অকেজো হয়ে গেলে পরিবেশে টিকে থাকা কোনো প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করতে না পারলে মস্তিষ্ক থেকে প্রতিবেদন সৃষ্টি হবে না। ফলে রক্ষণ সম্ভব হবে না। অনৈচ্ছিক পেশির কাজ বন্ধ হলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কার্যাবলি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে হৃৎপশির কাজ বন্ধ হয়ে গেলে প্রাণীর মৃত্যু হবে।

সুতরাং প্রাণীর পরিবেশে টিকে থাকা এবং দেহকে কর্মক্ষম রাখতে নিউরন, অনৈচ্ছিক ও হৃৎপশির সমন্বয় প্রয়োজন।

তৃতীয় অধ্যায় : কোষ বিভাজন

 

চিত্র দুটি লক্ষ করো।

 

ক) ইন্টারফেজ পর্যায় কী?          ১

খ) মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?                   ২

গ) চিত্র F-এর বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে কী ঘটে? ব্যাখ্যা করো।             ৩

খ) চিত্র E ও চিত্র F-এর বিভাজনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।              ৪

উত্তর : ক) বিভাজন শুরুর আগে কোষের নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়। এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ পর্যায় বলে।

খ) মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দুইবার ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ জন্য মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র F হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার কারণে যা ঘটে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—

মাইটোসিসে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি—এভাবে কোষসংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া চলতে থাকে; কিন্তু কোনো কারণে এ বিভাজন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার, ক্যান্সার হয়।

প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এই ভাইরাসের ই৬ ও ই৭, নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে, যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় অর্বুদ। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়। সৃষ্টি হয় ক্যান্সার।

ঘ) উদ্দীপকে চিত্র E ও চিত্র F দ্বারা যথাক্রমে মিয়োসিস ও মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। নিচে মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো।

১। মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষে ঘটে। অন্যদিকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন জনন মাতৃকোষে ঘটে।

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার করে বিভক্ত হয়। অন্যদিকে মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুইবার ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়।

৩। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের সংখ্যা দুটি। অন্যদিকে মিয়োসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের সংখ্যা চারটি।

৪। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের সংখ্যা মাতৃকোষের সমান হয়। অন্যদিকে অপত্য কোষের সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয় মিয়োসিস কোষ বিভাজনে।



মন্তব্য