kalerkantho

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতি
১০০% যোগ্যতাভিত্তিক

বাংলা

নাহিদ সুলতানা, সহকারী শিক্ষক, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ১৪ নম্বরে থাকবে রচনা। ইঙ্গিতসহ চারটি বিষয় দেওয়া থাকবে, এর মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে। রচনাটি হবে ২০০ শব্দের। মান ১০।

 

প্রিয় ঋতু / বর্ষাকাল

ভূমিকা : বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। এ দেশের প্রকৃতিতে ১২ মাসে ছয়টি ঋতু রূপের পসরা সাজিয়ে আসে। বর্ষাকাল এই ঋতুচক্রের দ্বিতীয় ঋতু। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে শুকনো ধরণিকে সিক্ত করে বাংলার বুকে বর্ষার শুভ আগমন ঘটে।

বর্ষার সময়/কাল/স্থায়িত্ব/আগমন : আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। কিন্তু বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয় বৈশাখ থেকে, চলে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে অতিষ্ঠ মানুষ যখন গেয়ে ওঠে :

     ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে...’

তখন বর্ষার ধারা পৃথিবীতে বয়ে আনে প্রশান্তি ও শীতলতা। মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা, পশু-পাখি সব যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। গাছপালা আর ফসলের ক্ষেত সবুজ হয়ে ওঠে। নদীনালা, খাল-বিল, মাঠ-ঘাট পানিতে ভরপুর হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় :

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদে এলো বান।

কেন প্রিয় : বর্ষার আগমনে গ্রীষ্মের বিবর্ণ প্রকৃতি হয়ে ওঠে কোমল আর সজীব। চারদিকে জেগে ওঠে প্রাণের স্পন্দন। টিনের চালে রিমঝিম বৃষ্টির নৃত্যে মুখরিত হয় গ্রামবাংলা। এ সময় কদম, টগর কেয়া, বেলি, জুঁই, চাঁপা প্রভৃতি ফুলের সুবাসে চারপাশ সুরভিত হয়ে ওঠে। আর বিলে-ঝিলে দেখা মেলে শাপলা-শালুক ফোটার অপূর্ব দৃশ্য। বর্ষাকালের উল্লেখযোগ্য ফলগুলো হলো—আনারস, আমড়া, পেয়ারা প্রভৃতি।

বর্ষার উপকারিতা : বর্ষাকাল বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনে অপার সম্ভাবনার বার্তা। কৃষিনির্ভর এ দেশের চাষাবাদ অনেকটাই বৃষ্টিনির্ভর। পরিমিত বৃষ্টিপাত এ দেশে প্রচুর ফসল ফলাতে সহায়তা করে। অনাবৃষ্টি ও খরায় বাংলাদেশের কৃষি ভেঙে পড়ে। বর্ষাকালে একদিকে অর্থকরী ফসল পাট কৃষকের ঘরে আসে, অন্যদিকে এটি আউশ ধানের মৌসুম। এ সময় আমরা প্রচুর মাছ পেয়ে থাকি। বর্ষার সময় নৌকাযোগে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত খুব সহজ হয়।

বর্ষার অপকারিতা : পরিমিত বৃষ্টি যেমন এ দেশের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি অতি বৃষ্টি এ দেশের জন্য হয়ে ওঠে অভিশাপ। গ্রামাঞ্চলে অতি বৃষ্টির ফলে নদীভাঙনে বহু মানুষ গৃহহারা হয়। কৃষকের ফসলের জমি পানিতে ভেসে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। টানা বর্ষণের ফলে দরিদ্র, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজে যেতে পারে না। ফলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। একটানা বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে শিশু থেকে বৃদ্ধ। কবিগুরুর ভাষায় :

‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই        আর নাহিরে   

ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’

উপসংহার : বর্ষাকাল বাংলাদেশের আনন্দ-বেদনার এক ঋতু। এ দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে একাকার হয়ে মিশে আছে বর্ষাকাল। এ দেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি কৃষি অনেকাংশে বর্ষার কাছে ঋণী। বর্ষার সতেজ প্রকৃতি যেমন মানুষের মনকে অনুরণিত করে, তেমনি কর্মব্যস্ত মানুষগুলো এসময় নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়াতে পারে। তাই বর্ষাকাল আমার প্রিয় ঋতু।

 

প্রিয় মানুষ

সূচনা : মায়ের মতো আপন এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। প্রত্যেক মা তাঁর সন্তানের কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষ। মায়ের স্নেহের পরশে মুহূর্তে দূর হয়ে যায় সব দুঃখ-বেদনা। আমার ‘মা’-ও এর থেকে ব্যতিক্রম নন। তাই মা আমার প্রিয় মানুষ।

শৈশব স্মৃতি : মায়ের কারণেই এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি। শৈশব থেকে মায়ের স্নেহ-যত্নেই আমরা বেড়ে উঠি। শৈশবে মা আমাকে মুখে মুখে ছড়া শেখাতেন। তাঁর কাছেই আমি প্রথম লেখা শিখেছি। শৈশবকালে মা-ই ছিলেন আমার খেলার সঙ্গী।

গৃহিণীরূপে মা : আমাদের পরিবারের সব কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করেন আমার মা। প্রতিদিন তিনি আমাদের জন্য খাবার তৈরি করেন। তিনি সংসারের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন। তিনি পরিবারের সবার ভালো-মন্দ দেখা শোনা করেন। মা আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখেন। তিনি আমাদের আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদেরও খোঁজখবর রাখেন। আমাদের বাসায় অতিথি এলে তিনি তাদের যথাযথভাবে দেখাশোনা করেন।

দুঃখের সময়ে মা : আনন্দের দিনে মা যেমন আমাদের পাশে থাকেন, একইভাবে দুঃখ-কষ্টের দিনও তিনি আমাদের আগলে রাখেন। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে নিজের কথা ভুলে গিয়ে মা দিন-রাত তার দেখাশোনা করেন। কারো কোনো দুঃসংবাদ বা দুর্ঘটনা ঘটলে মা-ই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত হন।

আনন্দ ও উৎসবে মা : সন্তানের কোনো সাফল্যের সংবাদ জানতে পারলে মা-ই সবচেয়ে বেশি খুশি হন। আমার পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হলে তিনি আমাকে বিশেষ উপহার দেন। বিভিন্ন উৎসব ও আনন্দ অনুষ্ঠানে মা সবার পছন্দমতো খাবারের আয়োজন করেন। আমার মা পৃথিবীর সেরা মা।

অবসর সময় : আমার মা সংসারের কাজের ফাঁকে নানা শখের কাজে সময় দেন। সকালে নাশতার পর তিনি পত্রিকা পড়েন। রাতে আমাকে গল্পের বই পড়ে শোনান। তিনি মাঝেমধ্যে টেলিভিশন দেখেন। ছুটির দিনে আমাদের নিয়ে বেড়াতে যান।

উপসংহার : সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অপরিসীম। মা ছাড়া সন্তান যেন সর্বহারা। মাকে ছাড়া আমি আমার দিনও কল্পনা করতে পারি না। তাই মা আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

 



মন্তব্য