kalerkantho


ষষ্ঠ শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা প্রথম পত্র

আনন্দ পাঠ থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন

পরীক্ষায় গদ্য অংশ থেকে কমপক্ষে ২টি, কবিতা থেকে কমপক্ষে ২টি এবং সহপাঠ (আনন্দপাঠ) থেকে কমপক্ষে ২টি করে মোট ৭টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে 

আয়না — জসীমউদ্দীন

উদ্দীপক : এক বনে এক অত্যাচারী সিংহ ছিল। বনের এক খরগোশ ঠিক করল সিংহকে সে উচিত শিক্ষা দেবে। খরগোশ সিংহকে একটি কূপ দেখিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই কূপে আর একটি সিংহ আছে, সে দাবি করছে, সে এই বনের রাজা।’ এ কথা শুনে সিংহ রেগে আগুন ! উঁকি দিয়ে সে কূপের পরিষ্কার পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তর্জন-গর্জন শুরু করল। কূপের সিংহের প্রতিচ্ছবিও ঠিক একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। শেষ পর্যন্ত সিংহ খেপে গিয়ে কূপের গভীর পানিতে ঝাঁপ দিল।

 

ক) আয়নাটি চাষি কোথায় লুকিয়ে রাখল?

উত্তর : আয়নাটি চাষি কলসির ভেতরে লুকিয়ে রাখল।

 

খ) ‘আসুক আগে মিনসে বাড়ি, আজ দেখাবই এর মজা’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : স্বামী ঘরে সতিন এনেছে মনে করে চাষির বউ উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করেছে।

জসীমউদ্দীন রচিত ‘আয়না’ গল্পের এক চাষি একদিন ধানক্ষেতে একটি আয়না কুড়িয়ে পায়। তখনো এ দেশে আয়নার চল হয়নি। এক কাবুলিওয়ালার ঝুলি থেকে আয়নাটি পড়ে গিয়েছিল। চাষি হাতে নিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই নিজের ছবি দেখে মনে করল, ইনি তার মৃত পিতা। সে আয়নাটি যত্ন সহকারে পানির কলসির ভেতর লুকিয়ে রাখে। মাঠ থেকে প্রায়ই সে বাড়ি ফিরে এসে লুকিয়ে লুকিয়ে আয়নাটি দেখত আর ছবির সঙ্গে কথা বলত। এসব কাণ্ড দেখে স্ত্রী একদিন কলসির ভেতরে কী আছে দেখতে যায়। সে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে মনে করে, তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে এনে কলসির ভেতর বউকে লুকিয়ে রেখেছে। সে জন্যই কয়েক দিন ধরে তার স্বামী তার সঙ্গে কোনো কথা বলছে না। যখনই অবসর পায় ওই মেয়েছেলের সঙ্গে কথা বলে। তাই চাষির বউ রাগে ফুলতে ফুলতে সিদ্ধান্ত নেয় যে তার স্বামী বাড়ি ফিরলে ওই ব্যাপারে একটা বিহিত করেই ছাড়বে।

 

গ) উদ্দীপকের সিংহ ‘আয়না’ গল্পের চাষি বউয়ের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের সিংহ ‘আয়না’ গল্পের চাষি বউয়ের সঙ্গে ঈর্ষা ও নির্বুদ্ধিতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

‘আয়না’ গল্পে চাষি ধানক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়া আয়নায় নিজের প্রতিকৃতি দেখে ভাবে যে তার বাবা আসমান থেকে নেমে এসে ধানক্ষেতে লুকিয়ে আছে। তাই আয়নাটি সে কুড়িয়ে এনে পরম যত্নে পানির কলসিতে লুকিয়ে রাখে। চাষি কাজের ফাঁকে ফাঁকে বাড়ি এসে কলসি থেকে আয়নাটি বের করে নেড়েচেড়ে দেখে আর নানা রকমের কথা বলে, বিশেষ করে পিতার মৃত্যুর পর সাংসারিক সমৃদ্ধি আনয়নের কথা বলে। চাষির বউ দেখে, চাষি তার সঙ্গে আগের মতো কথা বলে না, হাসি-তামাশা করে না; বরং কলসির ভেতর থেকে কী যেন বের করে দেখে আর আবোলতাবোল কথা বলে। চাষি বউয়ের সন্দেহ হওয়ায় স্বামীর অগোচরে কলসি থেকে আয়নাটি বের করে। তখনো এ দেশে আয়নার চল না হওয়ায় আয়না সম্পর্কে কোনো ধারণা গ্রামের কারোরই ছিল না। তাই নিজের প্রতিচ্ছবিকে সতিন মনে করে স্বামী বাড়ি ফেরা মাত্র তার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ শুরু করে দেয়। কল্পিত সতিনের প্রতি রাগে, ঈর্ষায় ঝাঁটা হাতে স্বামীকে তাড়া করে, তাকে মিনসে, গোলাম ইত্যাদি বলে গালাগাল করতে থাকে।

 

উদ্দীপকের খরগোশের কথা শুনে বোকা সিংহটিও কূপের মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবিকে আরেকটি সিংহরাজার দাবিদার জেনে রাগে, ঈর্ষায় তাকে সংহার করার জন্য কূপের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘আয়না’ গল্পের চাষি বউয়ের ঈর্ষা ও নির্বুদ্ধিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) “উদ্দীপক ও ‘আয়না’ গল্পের মূলভাব একই; কিন্তু পরিণতি ভিন্ন”—এ বিষয়ে তোমার মত দাও।

উত্তর : উদ্দীপকের সিংহের নির্বুদ্ধিতা ও ঈর্ষার কারণে নিজের জীবন নাশ হলেও চাষি বউসহ সবাই পরবর্তী সময় আয়নার তেলেছমাতি বুঝতে পারে বলে মূলভাব এক হয়েও পরিণতি ভিন্ন।

‘আয়না’ গল্পের চাষি ধানক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়া আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বকে তার ‘বাজান’ ভাবে। কারণ এর আগে সে বা তার গ্রামের কেউই আয়না দেখেনি। তাই আয়না কুড়িয়ে এনে পরম যত্নে বাড়িতে পানির কলসিতে লুকিয়ে রাখে। কাজের অবসরে অথবা যখনই তার মন চায়, সে কলসি থেকে আয়নাটি বের করে, বাজান! বাজান! বলে পরম আবেগে, সংসারের সমৃদ্ধির কথা তাকে জানায়। কিন্তু চাষির বউ আয়নাটির সন্ধান পেয়ে তার ভেতরে নিজের ছবি দেখে সে-ও স্বামীর মতো একই রকম ভাবে। তবে সে ভাবে, তার স্বামী আরেকটা বিয়ে করে সতিন ঘরে এনে পানির কলসিতে লুকিয়ে রেখেছে। আর তার ফলে স্বামীর আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এ নিয়ে সে স্বামীর সঙ্গে চরম ঝগড়া শুরু করে। তাদের কলরব শুনে পাড়া-প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসে। সবাই আয়নার দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন চেহারা দেখতে পায়। নিজের চেহারা কেউ বুঝতে না পারলেও অপরের চেহারা বুঝতে পারে। জিনিসটা যে কী, তা বুঝতে না পারলেও তারা ভাবে—ওটা বড় রকমের জাদুর তেলেছমাতি। আর তারপর চাষি-চাষি বউয়ের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।

উদ্দীপকের সিংহটি কিন্তু কূপের পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি ভেবে সেটিকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য কূপে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চাষি-আর চাষি বউয়ের মতো পানিতে যে নিজেরই প্রতিবিম্ব তা বোঝার সুযোগ পায়নি।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘আয়না’ গল্পের মূলভাব চাষি বউয়ের ঈর্ষা ও নির্বুদ্ধিতাকে ধারণ করেও আয়নার তেলেছমাতি বোঝার মাধ্যমে পরিণতি ভিন্ন হয়েছে।

 

চাষির বউ স্বামীর অগোচরে কলসি থেকে আয়নাটি বের করে। তখনো এ দেশে আয়নার চল না হওয়ায় আয়না সম্পর্কে কোনো ধারণা গ্রামের কারোরই ছিল না। তাই নিজের প্রতিচ্ছবিকে সতিন মনে করে স্বামী বাড়ি ফেরা মাত্র তার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ শুরু করে দেয়



মন্তব্য