kalerkantho


সপ্তম শ্রেণি ► বাংলা প্রথম পত্র

আনন্দপাঠ
লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সপ্তম শ্রেণি ► বাংলা প্রথম পত্র

অলক্ষুণে জুতো

 

মোহাম্মদ নাসির আলী

উদ্দীপক : রাজার হয়েছে ভীষণ অসুখ। কবিরাজ-বদ্যি ও ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না। অবশেষে একজন দিল মোক্ষম দাওয়াই। সুখী মানুষ খুঁজে বের করে তার জামা এনে পরাতে হবে রাজাকে। রাজ্যজুড়ে খোঁজ করে সুখী মানুষ একজন পাওয়া গেল বলে কিন্তু তার কোনো জামা ছিল না। তাই রাজার বালাই দূর হলো না।

ক) আলী আবু জেল খাটা থেকে রেহাই পেতে মোট কত দিনার জরিমানা দিয়েছিল?

উত্তর : আলী আবু জেল খাটা থেকে রেহাই পেতে মোট দুই হাজার দিনার জরিমানা দিয়েছিল।

 

খ) ‘কিন্তু আবুর পায়ে সেগুলোকে আর দেখা যায়নি’—কেন?

উত্তর : আলী আবুর জুতা জোড়ার ব্যবস্থা কাজি সাহেব করেছিলেন বলে সেগুলো আর তার পায়ে দেখা যায়নি।

 

মোহাম্মদ নাসির আলী রচিত ‘অলক্ষুুণে জুতো’ গল্পের আলী আবুুর জুতা জোড়া বাগদাদ শহরের সবাই চিনত। সবার চেনা এই জুতার জন্য আবুকে নানাভাবে হেনস্থা হতে আর বারবার জরিমানা দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আলী আবু একদিন কাজির দরবারে হাজির হয়ে জুতা জোড়া কিভাবে তার ক্ষতির কারণ হয়েছে, তা খুলে বললে কাজি সাহেব সেগুলোর একটা ব্যবস্থা করেন বলে আর তা আবুর পায়ে দেখা যায়নি।

গ) রাজা ও আলী আবুর সমস্যার মধ্যে সাদৃশ্য নির্দেশ করো।

উত্তর : রাজা ও আলী আবুর সমস্যার মধ্যে যে সাদৃশ্য ছিল তা হলো রাজার রোগ-বালাইয়ের মতো আলী আবুর জুতা জোড়াও তাকে ভোগাচ্ছিল।

‘অলক্ষুণে জুতো’ গল্পের বাগদাদ শহরের একজন ধনী লোক হওয়া সত্ত্বেও আলী আবু খুবই সাধারণ পোশাক পরত। সে তার জুতা জোড়া দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করত। ফলে তার ব্যবহৃত জুতা জোড়া সবাই চিনত। সবার চেনা এই জুতা জোড়াই তার কাল হলো। একবার ভুল করে শহরের কাজির জুতা চুরির দায়ে তাকে জরিমানা দিতে হয়। রাগে-দুঃখে নিজের তালি দেওয়া জুতা নদীতে ফেলে দিলে এক জেলে তার জালে জুতা জোড়া পেয়ে তা আলীকে ফেরত দিতে যায়। কিন্তু বাড়িতে কাউকে না পেয়ে জানালা দিয়ে সে জুতা জোড়া ঘরের ভেতর ছুড়ে মারে। এতে আবুর ব্যবসার জন্য রাখা গোলাপজলের শিশি-বোতল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আবার জুতা জোড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে গিয়ে সিঁধেল চোর হিসেবে ধরা পড়ে জরিমানা দেয়। এরপর নর্দমায় ফেলে দিলে ঝাড়ুদার তা এনে বাড়ির সামনে রেখে যায়। সেখান থেকে কুকুর এক পাটি জুতা নিয়ে পালিয়ে গেলে তা এক ছেলের মাথায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানেও তাকে জরিমানা দিতে হয়। এভাবে জুতার কারণে আলী আবু বারবার অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

উদ্দীপকের রাজারও কবিরাজ-বদ্যির ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছিল না। সুখী মানুষের জামা গায়ে পরলে রাজার অসুখ ভালো হবে জেনে সুখী মানুষের খোঁজ পেলেও তার জামা পাওয়া গেল না; ফলে রাজার অসুখও ভালো হলো না। এদিক থেকে রাজা ও আলী আবুর সমস্যা সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) ‘সুখী মানুষের জামা কাল্পনিক দাওয়াই হলেও আলী আবুর জুতো বাস্তবিক বালাই’ মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : সুখী মানুষের জামা কাল্পনিক দাওয়াই বা চিকিৎসা হলেও আলী আবু তার জুতা জোড়া নিয়ে যেভাবে নাজেহাল হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষেই তার জন্য বালাই ছিল।

‘অলক্ষুণে জুতো’ গল্পের আলী আবু আম্মুরীর পায়ের নাগরাই জুতা জোড়া বহু তালিযুক্ত হওয়ায় বাগদাদ শহরের শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত চিনত। এমনকি বন্ধুরা একে অপরকে বলত, যেন তাদের পরমায়ু আলী আবুর নাগরাই জুতার মতো হয়। কিন্তু সেই জুতা জোড়াই তার দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে উঠল। প্রথমে হাম্মামে গোসল করে ফিরে এসে নিজের পুরনো জুতার জায়গায় নতুন জুতা দেখে ভাবল, তার বন্ধু ওমরই তাকে নতুন জুতা উপহার দিয়েছে। কিন্তু যখন সে জুতা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হলো তখন সে এক হাজার দিনার জরিমানা দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা পেল; কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়ল না। সেই অপয়া জুতা জোড়ার কারণে বারবার তাকে জরিমানা দিতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে সে কাজির কাছে জুতা জোড়া জমা রেখে তার দুর্ভাগ্যের কারণ খুলে বলে কাজিকে অনুরোধ করে যেন জুতা জোড়া তার দৃষ্টির বাইরে থাকে।

উদ্দীপকের রাজা নিজের রোগ মুক্তির জন্য সুখী মানুষের দেখা পেলেও জামা পায় না।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, রাজার সুস্থতার জন্য সুখী মানুষের জামা গায়ে দেওয়া নিছক কাল্পনিক দাওয়াই হলেও আলী আবুর জুতা জোড়া তার জন্য বাস্তবিকই একটা বড় বালাই ছিল—কারণ জুতার জন্য তাকে বারবারই নাজেহাল হতে ও জরিমানা দিতে হয়েছে।



মন্তব্য