kalerkantho

জানা-অজানা

ছয় দফা

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ছয় দফার কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছয় দফা

পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যকার বৈষম্য এবং পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের লক্ষ্যে রচিত ছয় দফা। একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টাও বলা হয়। 

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের (পশ্চিম পাকিস্তানের) অবহেলা ছিল চরমে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এদিকে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারাও তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে লাহোরে এক সম্মেলন আহ্বান করেন। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সেখানে যান। সাবজেক্ট কমিটির সভায় পেশ করেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি ‘ছয় দফা’। সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং শেখ মুজিবকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে। পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় শেখ মুজিবকে চিত্রিত করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে। কিন্তু শেখ মুজিব দমলেন না। ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয় দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়। শেখ মুজিব ছয় দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় জনসংযোগ শুরু করেন। অনেকবার গ্রেপ্তারও হন তিনি। ওই বছরেরই ৮ মে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ৭ জুন শেখ মুজিব ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নেতা মনু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়। আহত হয় বহু নেতাকর্মী। ছয় দফাকে কেন্দ্র করে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়, যা আমাদের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে।   

     


মন্তব্য