kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন, কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা প্রথম পত্র

রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে

মার্ক টোয়েন

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার আনাচকানাচে গেরিলারা ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে শুরু করে। এমনই এক গেরিলা আক্রমণে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনের প্রাণ বাঁচায় এক কিশোর। গুলিতে তার এক পা হারিয়ে গেলেও সে মনে করে তার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বেঁচে থাকা জরুরি। দেশ আজ স্বাধীন। এখনো আরেক পা নিয়ে বেঁচে রয়েছেন একসময়ের কিশোর দীপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের সে সময়ের ঘটনা নিয়ে টেলিভিশনে বীরত্ব কাহিনি প্রচারের ফলে মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন খুঁজে পান দীপ্তকে। নিজে পঙ্গুত্ব বরণ করে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য দীপ্তর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

ক) সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে টম কী নামে পরিচিত?

উত্তর : সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে টম রাজকুমার নামেই পরিচিত।

খ) ‘যতক্ষণ বেঁচে আছ, সুখ স্বপ্ন দেখে নাও’—সন্ন্যাসী রাজকুমারকে এ কথা বললেন কেন?

উত্তর : ‘যতক্ষণ বেঁচে আছ, সুখ স্বপ্ন দেখে নাও’—সন্ন্যাসী রাজকুমারকে এ কথা বললেন তাকে হত্যা করার জন্য।

মার্ক টোয়েন রচিত ‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি এডওয়ার্ড টিউডর সন্ন্যাসীর ওপর নানা রকম অত্যাচার করেছেন। সন্ন্যাসী ও তাঁর অনুসারীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তারপর থেকে জঙ্গলে সে পালিয়ে রয়েছে। রাজকুমারের পরিচয় জানার পর তাই সে ঘুমন্ত রাজকুমারকে হত্যা করে তার ওপর অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল।

গ) উদ্দীপকের ‘দীপ্ত’র সঙ্গে ‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের সৈনিক চরিত্রের যে সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের ‘দীপ্ত’র সঙ্গে ‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের সৈনিক চরিত্রের যে সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো—অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া।

‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পে রাজকুমার ভিখারির ছেলে টম ক্যান্টির সঙ্গে পোশাক বদল করে রাজপ্রাসাদের বাইরে আসে। এর পর থেকেই রাজকুমারকে পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এই লাঞ্ছনার হাত থেকে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে মাইলস হেনডেন নামের এক সৈনিক। সৈনিক রাজকুমারের সত্যিকার পরিচয় না জেনেই তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করে যায়।  এমনকি টমের বাবা ও সন্ন্যাসীর কবল থেকেও। বিচারক যখন রাজকুমারকে চাবুক মারার নির্দেশ দেন, তখনো সৈনিক বালকের পরিবর্তে নিজের ওপর চাবুক চালাতে বলে এবং আঘাত সহ্য করে।

উদ্দীপকের কিশোর দীপ্ত নিজে গুলিতে এক পা হারিয়েও বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনের প্রাণ বাঁচায়। তার মনে হয়েছে, নিজের জীবনের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বেঁচে থাকাটা জরুরি। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের সৈনিকের দায়িত্ববোধ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘ) উদ্দীপকের আকবর হোসেন যেন রাজকুমারেরই প্রতিচ্ছবি—মন্তব্যটি ‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : রাজকুমার সিংহাসনে বসার পর তার কথা অনুযায়ী সৈনিককে ‘আরল’ খেতাবে যেমন ভূষিত করা হয়েছে, তেমনি উদ্দীপকের আকবর হোসেন দীপ্তর পরিবারের দায়িত্বভার গ্রহণ করার মাধ্যমে রাজকুমারের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

‘রাজকুমার ও ভিখারির ছেলে’ গল্পের রাজকুমার ও টম ক্যান্টির একজনের জীবন অন্যজনের কাছে ভালো লাগায় নিজেদের মধ্যে পোশাক বদল করে। এরপর টম রাজপ্রাসাদে কাটালেও রাজকুমার এডওয়ার্ড পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হয়। পথ চলতে চলতে তার বাবার তৈরি হোস্টেল দেখে নিজের পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ‘পাগল’ বলে অভিহিত ও লাঞ্ছিত হয়। টমের বাবার কাছে নিজের প্রকৃত পরিচয় দিতে গিয়ে তার হাতে বেদম মার খায়। রাস্তার চোরও তাকে চুরিবিদ্যা শেখাতে চেষ্টা করে এবং সবশেষে সন্ন্যাসী রাজকুমারের বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে তাকে হত্যা করতে চায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৈনিক মাইলস হেনডেন রাজকুমারকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, নিজের দেহে রাজকুমারের ভাগের চাবুকের আঘাত সয়ে তাকে রক্ষা করেছে। রাজকুমার সৈনিকের সেই কর্তব্যকর্মের কথা ভোলেনি। সিংহাসনে আরোহণ করার পর সৈনিক মাইলসকে তার পাশে বসায়। তারপর সৈনিকের ভাই হিউগ হেনডেনকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করে। হিউগের মৃত্যুর পর সৈনিকের সঙ্গে এডিথের বিয়ে দেন রাজকুমার। সৈনিকের মা ও বোনরা তার সঙ্গে রাজপ্রাসাদে এসে বসবাস করতে শুরু করে।

উদ্দীপকের আকবর হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজে এক পা হারিয়েও কিশোর দীপ্ত আকবর হোসেনের প্রাণ রক্ষা করে। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের ঘটনা নিয়ে টেলিভিশনে বীরত্ব কাহিনি প্রচারের ফলে মুক্তিযোদ্ধা আকবর খুঁজে পান দীপ্তকে। নিজে পঙ্গুত্ব বরণ করে মুক্তিযোদ্ধার জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি দীপ্তর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার পরিবারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আকবর হোসেনের কর্তব্যকর্ম ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাজকুমারের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।


মন্তব্য