kalerkantho


সপ্তম শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

মমতাদি খোকাদের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। নিজের কাজগুলো তিনি সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন। স্বল্পভাষী মমতাদির কাজ নিয়ে বাড়ির সবাই খুবই সন্তুষ্ট। বাড়ির ছোট ছেলে খোকা মমতাদিকে খুব পছন্দ করে, ‘দিদি’ বলে ডাকে। মমতাদিও তাকে

ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন। খোকার মা মমতাকে বলেন, বেশি আশকারা দিয়ো না। জ্বালিয়ে মারবে।

ক. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে লেখক বিশ্বের সব পিতার কোন রূপকে উন্মোচন করেছেন?

খ. ‘আমাকে পয়সা দেবেন না’—রহমত কেন এ কথা বলল? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের খোকার মায়ের সঙ্গে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে পারেনি”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

ক. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে লেখক বিশ্বের সব পিতার পিতৃত্বের সর্বজনীন ও চিরন্তন রূপকে উন্মোচন করেছেন।

খ. উত্তর : রহমত নিজের মেয়ের মুখখানি স্মরণ করে মিনির জন্য কিছু মেওয়া আনে, সওদা করতে নয়। তাই উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের রহমত কাবুল থেকে বাদাম, আঙুর, কিশমিশ ও অন্য দ্রব্যাদি বেচতে এ অঞ্চলে আসে। ঘটনাক্রমে মিনির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে রহমত একজনকে গুরুতর আঘাত করার অপরাধে কয়েক বছরের জন্য জেলে যায়। জেল থেকে ফিরে মিনির সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেদিন মিনির বিয়ে ছিল বলে তাকে মিনির বাবা মিনির সঙ্গে দেখা করতে দিতে চাননি। ফিরে যাওয়ার সময় রহমত কিছু আঙুর, কিশমিশ, বাদাম মিনিকে দিতে চাইলে মিনির বাবা তার দাম দিতে চান। তখন রহমত বলে, সে নিজের মেয়ের কথা স্মরণ করে মিনির জন্য কিছু নিয়ে আসে, সওদা করতে নয়।

গ. উদ্দীপকের খোকার মায়ের সঙ্গে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মিনির মায়ের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে পাঁচ বছরের মেয়ে মিনি অল্প সময়েই কাবুলিওয়ালার সঙ্গে ভাব জমিয়ে ফেলে। কাবুলিওয়ালা রহমতও বাদাম, কিশমিশ, আঙুর প্রায়ই মিনির জন্য নিয়ে এসে দুজনের মধ্যে ঠাট্টাও হতো। যেমন—মিনি জানতে চাইত, কাবুলিওয়ালার ঝুলিতে কী আছে। কাবুলিওয়ালাও উত্তরে বলত—হাতি। মিনির সঙ্গে  কাবুলিওয়ালার এই সহজ-সুন্দর সম্পর্ক মিনির মা মেনে নিতে পারেননি। কাবুলিওয়ালার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য মিনির বাবাকে তিনি অনুরোধ করেছেন।

উদ্দীপকের খোকার মা কিন্তু তাঁর রান্নার কাজের লোক মমতার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক সহজভাবে গ্রহণ করেছিলেন, যা ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মিনির মায়ের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. সন্তানের মঙ্গল-চিন্তা সব পিতারই যে সহজাত আকাঙ্ক্ষা, উদ্দীপকে এই দিকটি অনুপস্থিত বলে উদ্দীপকটি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মূলভাব ধারণে ব্যর্থ হয়েছে।

‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের লেখক আফগানিস্তানের মরু পর্বতের রুক্ষ প্রকৃতিতে গড়ে ওঠা একজন পিতা এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার একজন বাঙালি পিতার ভেতরের স্নেহপ্রবণ মনের ঐক্য সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। কাবুলিওয়ালা রহমত  ফেরি করতে আসার সময় তার মেয়ের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আসে। ফেরি করার সময় মিনির সঙ্গে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একদিন প্রতিবেশীকে গুরুতর আঘাত করার ফলে কাবুলিওয়ালার কয়েক বছরের জেল হয়। জেল থেকে ফিরে যেদিন মিনির সঙ্গে দেখা করতে যান, সেদিন ছিল মিনির বিয়ে। দেখা না পেয়ে তিনি যখন মিনির বাবাকে তাঁর মেয়ের স্মৃতিচিহ্ন দেখান তখন মিনির বাবা কাবুলিওয়ালার পিতৃহৃদয়ের দুঃখ অনুভব করেন। তাই পিতা-কন্যার যাতে দেখা হয় সে জন্য তিনি রহমতকে টাকা দিয়ে দেশে ফিরে যেতে বলেন। রহমতকে টাকা দেওয়ার মধ্যে শুধু তাদের বাপ-বেটির সুখই প্রাধান্য পায়নি, মিনিরও যেন কল্যাণ হয়, তা-ও চেয়েছেন।

অন্যদিকে উদ্দীপকের মমতা খোকাকেও যে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে সে জন্য তার মায়ের মমতার প্রতি সন্তুষ্টির কথা শুধু বলা হয়েছে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, দেশ-কালের সীমারেখা যে পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না, রহমত কাবুলিওয়ালা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা উদ্দীপকটিতে অনুপস্থিত বলে মূলভাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।



মন্তব্য