kalerkantho

বর্বরতার শেষ কোথায়

ফেনীর ঘটনায় শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্বরতার শেষ কোথায়

শুধু তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের কাঁদিয়ে নয়, দেশের বিবেকবান সব মানুষকে একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে রেখে বিদায় নিয়েছে কিশোরী নুসরাত জাহান রাফি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নুসরাত জাহান রাফি দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালে তার চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে চেয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। নুসরাত জাহান রাফিকে যারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে, আমরা এমনটিই আশা করতে চাই।

আসলে এ রাষ্ট্র ও সমাজে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হওয়া দরকার। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাতে কি নারী নির্যাতনের ঘটনা একটুও হ্রাস পেয়েছে? একটি জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে দেশে এক হাজারের বেশি ধর্ষণ-গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি। আবার রাফির ঘটনার সঙ্গে মিল রেখেই দেখা যায়, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কখনো প্রত্যক্ষ, কখনো পরোক্ষ যোগাযোগ রেখে চলে। রাফি হত্যায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ যে অনেক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা এরই মধ্যে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ করা যায়নি। ঘটনার পর কখনো কখনো গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট অপরাধী চক্রটি জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর মামলার দীর্ঘসূত্রতা তো আছেই। আইনি জটিলতায় বিচার পেতে অনেক বেশি সময় লাগে। অনেক মামলাই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে না। এমন অভিযোগও আছে যে অনেক নারী থানায় গিয়ে অভিযোগ করার পরও বিচার পায় না। আবার থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, প্রকারান্তরে যা ধর্ষণেরই নামান্তর। নুসরাত জাহান রাফির ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও চিত্রটি দেখলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের শালীনতাবোধ নিয়ে যেকোনো সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পক্ষে না দাঁড়িয়ে পুলিশ অভিযুক্তের পক্ষাবলম্বন করে, এমন অভিযোগও রয়েছে। যেমনটি রাফি হত্যাকাণ্ডেও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পুলিশ আগে থেকে তৎপর হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালাতে পারত না। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর আরেক অভিযুক্তকে গতকাল ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন শিথিলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে  বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

বাংলাদেশে এখন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। রাফির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করে দ্রুত দণ্ড কার্যকর করা গেলে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

মন্তব্য