kalerkantho

যন্ত্রণাদগ্ধ নুসরাতের বিদায়

অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যন্ত্রণাদগ্ধ নুসরাতের বিদায়

শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল নুসরাত জাহান রাফি। মা-বাবার আদরের মেয়েটি দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে বিদায় নিয়েছে এই নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে। মাদরাসার অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল সে। প্রতিবাদ করেছিল। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল তার। মৃত্যু তাকে নিয়ে গেছে সব সমীকরণের বাইরে। শিক্ষকরূপী দুর্বৃত্তের অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিল রাফি। শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করেছিলেন তার মা। এরপর দুই দিন পক্ষে-বিপক্ষে অনেক বিক্ষোভ হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষায় আরবি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে তাকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে বোরকা পরা চারজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। সে রাজি না হলে কেরোসিনজাতীয় দাহ্য পদার্থ তার শরীরে ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় ওই চারজন। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কথাও ছিল। প্রধানমন্ত্রী সব সময় তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, আর্থিক দুর্নীতি এবং নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলা মামলায় তিনি তিন দফা কারাভোগ করেছেন। তার পরও এলাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করতে পারত না। একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করে তিনি মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন। তিনি কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণও আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করি। প্রধানমন্ত্রী যখন নুসরাত রাফির চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন তখনই এক শ্রেণির মানুষ অভিযুক্ত অধ্যক্ষের মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ করছে। এর আগে নুসরাতের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচিতে নামলে অধ্যক্ষের অনুগত লোকেরা বাধা দেয়। এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু তাঁর কিছুই হয় না। এমন অভিযোগও রয়েছে যে পুলিশও অধ্যক্ষের পক্ষাবলম্বন করেছে। সে অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে সোনাগাজী থানার ওসিকে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষ ইউনিট পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কর্মকর্তাদের মামলার নথি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

নুসরাত জাহান রাফির গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়ার পর আমাদের সামনে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, আমাদের সমাজ এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে। এ সমাজে অপরাধীরা নির্বিবাদে ঘুরে বেড়ানোর সাহস পায়। প্রতিবাদ করলে নুসরাত রাফির মতো অবস্থা হয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিচ্ছেন, সেখানে কেউ কেউ অভিযুক্তের পক্ষে পথে নামার সাহস পায় কোত্থেকে? পুলিশই বা তাদের নামতে দেয় কী করে? নুসরাত রাফি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল কী ঘোর অন্ধকারে রয়েছে এ সমাজ। আমরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি চাই। আমরা চাই এ সমাজ ও রাষ্ট্র নুসরাত রাফিদের জন্য নিরাপদ হোক।

মন্তব্য