kalerkantho

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা

খালগুলো দ্রুত সংস্কার করা হোক

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চৈত্র মাস চলছে। বর্ষা আসতে এখনো দুই মাসের বেশি বাকি। অথচ রাজধানী ঢাকার কোনো কোনো এলাকার মানুষ গত মঙ্গলবার ভরা বর্ষার স্বাদ পেয়ে গেছে। ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও জমে গেছে কোমরসমান পানি। পানির নিচে থাকা খানাখন্দকে রিকশা উল্টে নাকানিচুবানি খেতে হয়েছে অনেককে। কারো কারো হাত-পা ভেঙেছে। অথচ প্রশাসন ও নগরের অভিভাবকদের আশ্বাসের অন্ত নেই। আগের চেয়ে এবারের অবস্থা অনেকটা ভালো হবে, আগামী বছর থেকে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না—এমন আশ্বাস বছরের পর বছর শুনে আসছি আমরা। এখন আমাদের চৈত্র মাসেও কোমরসমান পানি ভেঙে চলাফেরা করতে হয়।

নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য আশ্বাসের পাশাপাশি একে অন্যকে দায়ী করার বহু পুরনো ধারাটি এখনো চলমান। সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসা খাল সংস্কার করে না বলেই জলাবদ্ধতা দূর করা যায় না। ওয়াসা বলছে, সিটি করপোরেশন ঠিকমতো ময়লা পরিষ্কার করে না বলেই খালের প্রবাহ আটকে যায়। বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাস্তা কেটে রেখে চলে যায়। ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর খালগুলো খনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গত বছর দুটি প্রকল্প হাতে নেয়। হাজারীবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মাণ্ডা ও বেগুনবাড়ী খাল উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গত বছরের এপ্রিলে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পায়। এ বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কার্যত প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। এ ছাড়া ‘ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন’ নামে আরেকটি প্রকল্প রয়েছে ঢাকা ওয়াসার। ৫৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্পটিও একনেকের অনুমোদন পেয়েছে গত বছরের মে মাসে। এর আওতায় ১৬টি খাল খনন করা হবে এবং কাজ শেষ করার কথা আগামী বছরের ডিসেম্বর মাসে। এ পর্যন্ত শুধু দরপত্র আহ্বান করা গেছে। দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা দুই হাজার ১৬২ কিলোমিটার নালাও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সময় দ্রুত পানি নামতে পারে না এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব কাজের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, আমরা কি মনে করব, জনভোগান্তির বিষয়টি তাঁদের চিন্তাভাবনায় আছে বা থাকে?

দোষারোপ বা দায় চাপানোর খেলা যারা করার, তারা করছে। কিন্তু সবার ওপরে তো সরকার রয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে, তারা কেন কোটি মানুষের চরম ভোগান্তি নিরসনে সামান্য উদ্যোগী হয় না। আমরা চাই, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতার অবসান করা হোক।

 

মন্তব্য