kalerkantho

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা

কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিন

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে বিনিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার একটি বড় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের পুঁজিবাজার এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগোতে পারছে না। একাধিক বড় বিপর্যয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হওয়ার কারণে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও শঙ্কা কাজ করছে। সে কারণেই গত কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতি আবারও তাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ করেই বাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ঢাকার শেয়ারবাজারে যেখানে প্রতিদিন মোট ক্রয়-বিক্রয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, সেখানে কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে তিন-চার শ কোটি টাকায়। এতে শেয়ারের দরপতনও দ্রুততর হয়েছে। শুধু গত সোমবারই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমেছে ৬২ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের ওপর। আর চট্টগ্রামে সূচক কমেছে ১১২ পয়েন্ট। লক্ষণ সুবিধার নয়—বুঝতে পেরেই বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমেছে। তাদের মতে, ২০১০ সালে যারা শেয়ারবাজারে ধস নামানোর নেপথ্যে ছিল, তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা অবিলম্বে সেই সময়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা আরো কয়েকটি দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে আছে—আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের বাণিজ্য বন্ধ, ইস্যুমূল্যের নিচে নামা শেয়ারসংশ্লিষ্ট কম্পানির বাইব্যাক করা, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, মূলধন সংগ্রহ করা কম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান এবং জেড ক্যাটাগরি ও ওটিসি মার্কেট বন্ধ করা। বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

২০১০ সালে এবং তারও আগে ১৯৯৬ সালে দুটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল শেয়ারবাজারে। দুই সময়ই ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। তাই বর্তমান সরকারের আমলে যেন তৃতীয় বড় বিপর্যয়ের ঘটনা না ঘটে সে জন্য সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শেয়ারবাজারে সৃষ্ট হঠাৎ অস্থিরতার কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ২০১০ সালের ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনা গেলে ভবিষ্যতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা মনে করি, সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে দেশের পুঁজিবাজারকে আরো গতিশীল করতে হবে।

মন্তব্য