kalerkantho

বিশৃঙ্খল মোবাইল সেবা

শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশৃঙ্খল মোবাইল সেবা

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন সেক্টরে বিরাজ করছে চরম অরাজকতা। অপারেটররা নিজেদের ইচ্ছামাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নির্দেশনা বাস্তবায়নেও চরম অবহেলার পরিচয় দিচ্ছে তারা। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘সীমার বাইরে চলছে সাড়ে ২২ লাখ সিম’ শীর্ষক খবরে বলা হয়েছে, এক বছর আগে বিটিআরসি যে সিদ্ধান্তের কথা সব মোবাইল অপারেটরকে জানিয়ে দিয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিটিআরসির সিদ্ধান্ত ছিল একজন মোবাইল গ্রাহক ১৫টির বেশি সিম ব্যবহার করতে পারবে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম। এসব সিমের বেশির ভাগ ভুয়া ফেসবুক আইডি, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি এবং অবৈধ ভিওআইপি কারবারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। সীমার বাইরে কোন অপারেটরের কত সিম ব্যবহৃত হচ্ছে, তার সংখ্যাও রয়েছে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে। বিটিআরসির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৬ এপ্রিলের শুরুতে বা ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পরপরই ১৫টির বেশি সিম ব্যবহারকারীদের মোবাইল নম্বর নিষ্ক্রিয় করা হবে। কিন্তু মোবাইল অপারেটররা এ বিষয়ে আরো বেশি সময় নিতে চায় বলে জানা যাচ্ছে। 

সীমার বাইরে থাকা অনিবন্ধিত বা অবৈধ সিম বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে মোবাইল অপারেটররা আরো সময় চায় কেন? নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এসব সিমের মাধ্যমে তাদের অবৈধ কিছু ব্যবসা আসে। এমনিতেই নানা অজুহাতে গ্রাহকদের পকেট কাটে মোবাইল অপারেটররা। এখন অবৈধ সুবিধা দিয়ে রাখা অবৈধ মোবাইল সিমগুলোর কাছ থেকে কি আরো অতিরিক্ত কিছু চাইছে তারা। তাতে তাদের হয়তো লাভ হতে পারে, কিন্তু দেশের কি কোনো লাভ আছে। নাকি অতিরিক্ত ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে। মোবাইল ফোন আজ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে। মোবাইল ব্যাংকিং থেকে শুরু করে যোগাযোগ ক্ষেত্রে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে। কিন্তু এভাবে তো দেশ ও দেশের মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেওযা যাবে না। ‘সীমার বাইরে চলছে সাড়ে ২২ লাখ সিম’ ভুয়া ফেসবুক আইডি, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি এবং অবৈধ ভিওআইপি কারবারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে তা যদি সত্যি হয়, তাহলে তো বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সিম থেকেই নানা ধরনের চাঁদাবাজি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। কাজেই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। সীমার বাইরে থাকা সব সিম অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের সব ধরনের কার্যক্রম একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্রাহকসেবার মান না বাড়িয়ে মোবাইল অপারেটররা নিজেদের ব্যবসাকেই বড় করে দেখতে শুরু করেছে।

মন্তব্য