kalerkantho


সন্ত্রাসবাদ সূচকে অগ্রগতি

ঝুঁকি ন্যূনতম মাত্রায় নামাতে হবে

১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের লেবাসে বাংলাদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত অনেক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময়ের মধ্যে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। প্রায় ৫০০ লোকের মৃত্যু হয় এসব ঘটনায়। এর পরও আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। তবে তীব্রতা কিছু কমেছিল। ২০১৩ সালে জঙ্গি-সন্ত্রাস ভিন্ন চেহারা নেয়। ব্যক্তিবিশেষকে টার্গেট করা হতে থাকে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫৪ জন লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মী, প্রগতিশীল সংগঠক ও শিক্ষককে হত্যা করা হয়। এরপর জিম্মি করে হত্যার ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয়। ওই হামলায় ২২ জন নিহত হন, যাঁদের ১৬ জনই বিদেশি।

ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। জনমানসে প্রচণ্ড বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ব্যক্তিনিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের সামর্থ্য ও ইচ্ছার বিষয়ে প্রবল সন্দেহ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং জঙ্গি নির্মূল অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানের ফল ইতিবাচক, জঙ্গি-সন্ত্রাস অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত। বহির্বিশ্বেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে জঙ্গি-সন্ত্রাসী প্রবণতা থেকে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে এ কথা বলা যায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ এগিয়েছে। ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম; এক বছর আগে ছিল ২১তম অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এটি প্রকাশ করা হয়েছে গত শুক্রবার। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব ‘মাঝারি’ উল্লেখ করা হয়েছে। সূচকে যুক্তরাষ্ট্র ১২ ধাপ, যুক্তরাজ্য সাত ধাপ, ভারত এক ধাপ ও মিয়ানমার ১৩ ধাপ পিছিয়েছে। ভারত সপ্তম ও যুক্তরাষ্ট্র ২০তম অবস্থানে রয়েছে। দেশ দুটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব ‘উচ্চ’। সূচকের শীর্ষে রয়েছে ইরাক, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, পাকিস্তান ও সোমালিয়া। এসব দেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব ‘অতি উচ্চ’।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলার বিষয়টিকেও সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সম্ভবত ই-মেইলের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে করা হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ভূমিকা ইতিবাচক। বৈশ্বিক বিনিয়োগে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ অগ্রগতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে দেশ পুরোপুরি মুক্ত নয়। এখনো ঝুঁকি রয়েছে। সামাজিক সচেতনতা বাড়িয়ে, মাদরাসা ছাত্রদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনায় উৎসাহিত করে এবং অনলাইনে ভুয়া তথ্য প্রচার ঠেকিয়ে পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটাতে হবে।



মন্তব্য