kalerkantho


পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি

বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অনেক পুরনো। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, কোনো লাভ হয়নি। চাঁদাবাজি বরং আরো বেড়েছে। হালে তা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগে কিছু বিশেষ রুটের বিশেষ বিশেষ স্থানে চাঁদাবাজি হতো। এখন দেশের এমন কোনো সড়ক নেই, যেখানে চাঁদাবাজি হয় না। একই সড়কের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি চলে। আর যাদের এসব চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করার কথা ছিল, সেই পুলিশের বিরুদ্ধেই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। গতকাল কালের কণ্ঠে দেশব্যাপী পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন রয়েছে। এতে দেখা যায়, চাঁদাবাজি এখন আর কোনো রাখঢাকের বিষয় নয়, সদর্পে রাস্তা আটকে চলে চাঁদাবাজি।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নানা অংশেই চাঁদাবাজি হয়; কিন্তু এর গজারিয়া উপজেলা অংশের কয়েকটি স্থানে চলে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। চাঁদা না দিলে কোনো না কোনো খুঁত বের করে মামলা দেবে। আর তা না হলে রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর ইটাখোলা থেকে মাধবদী পর্যন্ত পাঁচটি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয় বাসপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। রাজশাহী-নাটোর সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি ট্রাককে কয়েকটি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার অঙ্ক ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে একেকটি ট্রাককে কমপক্ষে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। কুষ্টিয়ার তিন সড়কে লাল পতাকা ও লাঠি হাতে চলে চাঁদাবাজি। উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় বগুড়ায়। সে কারণে বগুড়াকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন নামে প্রায় দুই ডজন সমিতি সেখানে চাঁদাবাজি করে। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আগের মতোই এসব চলাচল করছে। এ জন্য তাদের মাসিক ৫০০ টাকার বিশেষ ‘টোকেন’ নিতে হয়। টোকেন নিয়ে নিবন্ধনহীন যানবাহনও চলাচল করে। এর ওপর রয়েছে ‘চেইন চাঁদা’, যা দৈনিক ৭০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শুধু সড়কে নয়, ফেরিঘাটগুলোতেও রয়েছে চাঁদাবাজির বড় আয়োজন। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে তিন-চারটি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয়। অভিযোগ আছে, তা না হলে ফেরির টিকিটই পাওয়া যায় না। এখানে ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।

চাঁদাবাজির এই অর্থ চূড়ান্ত বিচারে সাধারণ মানুষকেই পরিশোধ করতে হয়। বাস বা যাত্রী পরিবহনকারী অন্য কোনো যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করে এবং ট্রাকে পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ী পণ্যের দামের সঙ্গে তা যোগ করে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করে। তাই সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজির এই নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতে হবে। পুলিশকে শুধু কথায় নয়, কাজেও চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেখাতে হবে।



মন্তব্য