kalerkantho


রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি

সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নির্বাচন এলেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এর প্রভাব অনিবার্যভাবেই পড়ে দেশের মানুষের ওপর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব পড়ে। বহির্বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা যায়। চলতি বছরের শেষার্ধে দেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমনে তাই নতুন করে সংশয়-শঙ্কার দোলাচল। আর এটিই স্বাভাবিক। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি সংসদে নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। অন্যদিকে সরকারও রয়েছে অনড় অবস্থানে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানামুখী রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রক্রিয়াও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধুদের তৎপরতাও লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিদেশি বন্ধুরা প্রতিক্রিয়া জানাবে—এটি অস্বাভাবিক নয়। কারণ এসব দেশ ও সংস্থার প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যাহত হবে দেশের উন্নয়ন। তা ছাড়া বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য থাকে লভ্যাংশসহ বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া কর্ম উপলক্ষে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বসবাস। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবতে হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি প্রবণতা এমন যে দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব হলে রাজনৈতিক দলগুলোও বিদেশি বন্ধুদের শরণাপন্ন হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে বিদেশিদের কী ভূমিকা থাকতে পারে? যেকোনো নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। কারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, সে সিদ্ধান্ত এ দেশের মানুষের। এখানে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাদের কিছু চাওয়া থাকতেই পারে। এবারের নির্বাচনের আগেও বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দল সবাইকে একই বার্তা দিতে চায় বন্ধুরা। আর সেটি হচ্ছে, আগামী নির্বাচন হতে হবে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক। রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি করা যাবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হোক—এটিও বিদেশি বন্ধুদের কাম্য নয়। আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় বেড়ে ওঠা পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব মূল্যবোধে অভ্যস্ত। সেখানে জনমতের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন তাই দেখতে চায় পশ্চিমা বিশ্ব। তবে কোনো ফর্মুলা চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয় তারা। দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা রাখতে চায় তারা। আর সে কারণেই সব পক্ষের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে দাঁড়িয়ে না থেকে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে হবে। কোনোভাবেই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা চলবে না। জনসাধারণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর যে দায়বদ্ধতা আছে, তা থেকে সরে আসা চলবে না। রাজনৈতিকভাবেই সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।



মন্তব্য